অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়

অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়

  • জাওয়াদ মো. অর্ণব

প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। তবে যখন আপনার কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি, মানসিক ভারসাম্য ও ভাষার দক্ষতা জন্ম থেকেই একটি সীমার মাঝে আবদ্ধ হতে থাকে, জীবনযুদ্ধ তখন যেন আরও দূর্বিষহ হয়ে ওঠে। অটিজম তেমনই একটি স্নায়ুঘটিত প্রতিবন্ধকতা। এ বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অটিস্টিক শিশুদের আচরণ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এমন একটি বই, যাতে অটিস্টিক শিশু অর্থাৎ অটিজম আক্রান্ত মানুষের আচরণ নিয়ে রয়েছে নানা তথ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, করণীয় এবং সচেতনতা।

ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক ও লেখক নানজীবা খানের লেখা ‘অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়’ বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন নানজীবা খান নিজেই।

জীবনের প্রথম লেখা বই সম্পর্কে জানতে চাইলে নানজীবা বলেন, ‘প্রথম বই, তাই খুব উৎসাহী। চেষ্টা করেছি অটিজমকে সহজভাবে লেখার। মেলায় দাঁড়িয়ে বইটি যদি কেউ হাতে নিয়েও একবার পড়ে দেখে, আমি লেখক হিসেবে তৃপ্ত হবো। আমি মূলত অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করছি। তাই শিশুবিষয়ক বই নিয়ে লেখাটা আমার কাছে একধরনের দায়িত্ববোধ।’

লেখার বিষয়বস্তু হিসেবে অটিজমকে বেছে নেয়া কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বইটির চিন্তা এসেছে আমার পরিবার থেকে।আমার আপন ভাই একজন অটিস্টিক শিশু। আসলে বাস্তব অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে, আমার ভাইয়ের ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সবটা পর্যালোচনা করে তথ্য উপাত্তসহ অটিজমের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, কারণ, লক্ষণ, বিকাশ, চিকিৎসা, সামাজিক প্রেক্ষাপট, প্রতিবন্ধকতাসহ নানা বিষয় বইটিতে তুলে ধরেছি।’

বই লেখার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন আমি অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মা-বাবার কাছে তথ্য নিতে গিয়েছি, তাদের গল্প শুনতে চেয়েছি, তখন তারা ভীষণ সংকোচবোধ করেন। তারা তাদের শিশুটিকে লুকিয়ে রাখতে চান। এই একুশ শতকে এসেও তাদের ধারণা, মানুষ কি বলবে! এটি আমাকে দুঃখ দিয়েছে।’

নানজীবা আরও বলেন, ‘অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে আমাদের আরও এগিয়ে আসতে হবে, তাদেরকে আড়াল না করে, তাদের জন্য, তাদের মতো করে, আমাদেরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।’

Leave a Reply