সুখী জীবনের খোঁজে ‘উই উইল’

সুখী জীবনের খোঁজে ‘উই উইল’

  • গাজী আনিস

সুখের অবস্থান কোথায়? এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে আপনি-আমি হয়ত আশেপাশে তাকাবো। যে ধনী, অথবা যে বড় চাকরি করেন তাঁকে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করবো। যারা সমাজের দৃষ্টিতে বড় আমরা সবসময় তাঁদের বড় ভাবি, আর তাঁদের মত বড় হতে চাই। কখনও তাঁদের মত হতে পারি, কিন্তু তাঁদের মত না হতে পেরে অনেকেই হতাশ হয়। জীবনকে ছোট করে দেখেন। জীবনের প্রতি যে পরিমাণ যত্ন করা প্রয়োজন তাঁর বিন্দু পরিমাণও করেন না। এভাবে জীবন থেকে ছোট ছোট সুখকে দূরে ঠেলে দেন।

কীভাবে আধুনিক সমাজের দৃষ্টিতে বড় না হয়ে সুখে থাকা যায়, হতাশাকে অগ্রাহ্য করা যায়, অল্প নিয়ে তুষ্ট থেকে সুন্দর জীবন গঠন করা যায়, এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান নিয়ে কাজ করছেন উই উইল নামের একটি সংগঠন। ক্রিয়েটিং হ্যাপিনেস বা সুখ সৃষ্টি করার চিন্তাকে মাথায় নিয়ে সমাজ থেকে অন্যায়, চরম্পন্থি কাজ, হিংসাত্মক মতবাদ দূর করার প্রচেষ্টাও করছেন তাঁরা। আর এ কাজে সহায়তা করছেন এডভেঞ্চার পার্টনার নামক একটি প্রতিষ্ঠান।

উই উইল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটির শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। উই উইল এর গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থ আছে। ইংরেজিতে we will হল (World Endurance through Wisdom, Intellect, Love and Laughter-ওয়াল্ড এনডুরেন্স থ্র ওয়াইজডম, ইন্টিলেক্ট, লাভ এন্ড লাফটার)। বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায় জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, ভালোবাসা এবং হাসি দিয়ে সহিষ্ণু পৃথিবী গঠন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ব থেকে চরমপন্থি কাজ দূর করার এক প্রতিযগিতায় অংশ নেন উই উইল। বিশ্বের ১৩০ দেশে ৩০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চরম্পন্থি কাজ দূর করার এই প্রতিযোগীতায় উই উইলের প্রস্তাব ছিলো “মানুষের হতাশা-বিষণ্ণতা দূর করতে পারলে সমাজ থেকে অনেকখানি চরম্পন্থি কর্মকান্ড কমে যাবে”। পরবর্তীতে উই উইল টিমের প্রস্তাবনাটি গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং ১০০০ ডলার জয়লাভ করে। প্রাপ্ত টাকা দিয়ে দলটি বর্তমানে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।

উই ‍উইল সদস্যদের ‘নো’ প্রচারণা ।ছবি : সংগৃহীত

উই উইল গ্রুপ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে জরিপ করে জানতে পারে যে, হতাশা বা বিষণ্ণতার কারণে যুবসমাজ অন্যায়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাদের বিষণ্ণতার প্রধান কারণ গুলো হলো কম জিপিএ, সিজিপিএ পারিবারিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক দূর্বলতা ইত্যাদি। এসকল সমস্যা ধীরে ধীরে তাদের হতাশার দিকে ধাবিত করে। অতঃপর এই হতাশা থেকে বিভিন্ন অন্যায় চিন্তার সাথে অনেকে জড়িত হয়। জরিপে আরো জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতকরা ৭৯% জন নিজের সমস্যা পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে না। উই উইল সংগঠনটি এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের শতাধিক ক্যাম্পেইন চালায়। জীবনের হতাশা-দুঃখ কাটিয়ে কিভাবে সামনের দিকে এগোনো যায়, নিজেকে খুশি রাখার পাশাপাশি অন্যের মুখে কিভাবে হাসি ফুটাতে হয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ কিভাবে করা যায় তা নিয়েই তাঁদের কাজগুলো আস্তে আস্তে সফলতার মুখ দেখছে।

উই উইল টিমের গবেষণায় দেখা গেছে, চরম্পন্থি বা ঘৃণাত্মক মতবাদ ছড়ানো মানুষগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। আর তা হল সেই মানুষগুলো নিজেকেই নিজে ঘৃণা করে। নিজেকে ঘৃণা করার এই প্রবণতাটি মূলত শুরুই হয় ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা থেকে। আর নিজেকে ঘৃণা করা মানুষগুলোই পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার চারপাশের মানুষজনকে, সমাজে ঘৃণা করতে শুরু করে। তাই এসকল চরমপন্থি কাজগুলো থামাতে হলে আমাদের আশেপাশের বিষণ্ণতাগ্রস্থ মানুষগুলোকে আগে সাহায্য করতে হবে। বিষণ্ণতা দূর করে তাদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে অনাবিল খুশি। আর এজন্য শিশু-কিশোরদের সঙ্গে বেশি বেশি কাজ করছেন উই উইল। যারা এখনও হতাশা-বিষণ্ণতার মুখ দেখেনি তাঁদের বাঁচানোর প্রচেষ্টাটা বৃহৎ পরিসরে চলছে। উই উইল স্বপ্ন দেখেন অতি সামান্য পরিমাণে হলেও একদিন তাঁরা সমাজ থেকে হাতাশা ও বিষণ্ণতার মত জঞ্জালগুলো দূর করতে পারবেন।

Leave a Reply