ভালোবাসার ফেরিওয়ালা ‘ভি-১৪’

ভালোবাসার ফেরিওয়ালা ‘ভি-১৪’

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

‘তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি

শত রূপে শত বার

জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।।’

কবিগুরুর এই ছন্দ বাজছে বাঙালির প্রাণে প্রাণে—শুধু প্রকৃতি নয়, বসন্ত তার রঙিন ছোঁয়ায় রাঙিয়ে তুলেছে হৃদয়ের আঙিনা!

মুলত পাশ্চাত্য থেকে ভালোবাসা দিবসের আগমন ঘটলেও বাঙালিদের মাঝেও এর গ্রহণযোগ্যতা একেবারেই কম নয়! ব্যস্ততাভরা জীবনটাতে শুধুমাত্র প্রিয় মানুষগুলোকে নিয়ে কিছু স্নিগ্ধ সুন্দর সময় কাটানোই এ দিনটির অভিসন্ধি।

যদিও এ দিনটি বেশ বিতর্কিত, প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলদের মাঝেই দিনটিকে আবদ্ধ করে রাখা হয়। ভালোবাসা যে শুধু প্রেমিকযুগল কিংবা দম্পতিদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়—এর পরিসীমা যে বাবা মা শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রতিটা সম্পর্কের সাথে অনবদ্যভাবে জুড়ে আছে সেটা যেন আমরা ভুলতে বসেছি, সেই চেতনাকে বিস্মৃতির গহ্বর থেকে তুলে এনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর ভালোবাসার ফেরিওয়ালা (ভি-১৪) এর দ্বারা ফুল দিয়ে অভিবাদন জানায় ভালোবাসার মানুষগুলোকে। সেটা হতে পারে অঙ্গনের শিক্ষক, কর্মচারীবৃন্দ, পরিবার এমন কি পাশের ঐ দোকানদার চাচা! এই দিনে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পর্যন্ত প্রতিটি সদস্যদের সঙ্গে দিনটি উৎদযাপন করে থাকে ভি-১৪।

ভ্যালেন্টাইন থেকে ভি এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ রুপান্তর করে ভি-১৪ নাম দিয়ে স্প্রিং-২০১৮ ব্যাচের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা এ দিনটিতে মুঠো মুঠো ভালোবাসা ফেরি করে ভালোবাসার ফেরিওয়ালা হয়ে ওঠে, যার মূল উদ্দ্যেশ্য এই দিবসটিকে ঘিরে যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, সেগুলোকে ভেঙে ফেলে শুভ্র চেতনাকে জাগ্রত করা। ভালোবাসার ফেরিওয়ালারা মনে করেন, ভালোবাসা দিবস বললেই যে সবাই ধরেই নেয় এদিনটা শুধুমাত্র যুগলদের জন্য তা নয়, স্রষ্টা ভালোবাসা সবার জন্য ভাগ করে দিয়েছেন। ভালোবাসা শুধু একজন বা দু’জন ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, সবার জন্যই। আর ভালোবাসা তো তাকেই দেওয়া যায় যারা সেটা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। সারা বছর যারা আমাদের যোগ্য করে তুলছেন তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে, আমাদের সেবা প্রদান করে আসছেন, আমরা হয়তো তাদের কখনো জিজ্ঞাসা করতেও সুযোগ বা সময় করে উঠতে পারি না, কেমন আছেন আপনি! কিন্তু তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আমাদের জন্যই। তাই এ দিনে সে সব সাদা মনের মানুষদের অভিন্দন ও ধন্যবাদ জানানোর জন্যই ভি-১৪ ছোট্ট চিরকুট আর ফুল উপহারের মাধ্যমে ভালোবাসা ফেরি করে বেড়ায়! প্রতিবারের মতো এবারো বাদ যায়নি এ দিনটির উৎযাপন। রঙিন ফুল আর চিরকুটে লেখা ভালোবাসা পৌঁছেছে দ্বারে দ্বারে।

এভাবেই ভালোবাসা ছুঁয়ে থাকুক সকল সম্পর্কের মাঝে, বসন্ত চলে যাক, দিবস ফুরিয়ে যাক ভালোবাসার ব্যাপ্তি থাকুক প্রতিটা মুহুর্তে!

Leave a Reply