ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৮ম সমাবর্তন আজ বুধবার (১৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস আশুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কামিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান এবং সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন থাইল্যান্ডের সিয়াম ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. পর্নচাই মঙ্গখোনভানিত। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম মাহবুব উল হক মজুমদার, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এ এম এম হামিদুর রহমান, প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর সামছুল আলম, এলাইড হেলথ সায়েন্সস অনুষদের ডিন প্রফেসর আহমেদ ইসমাইল মোস্তফা এবং বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মাসুম ইকবাল প্রমুখ। ভ্যালিডেকটোরিয়ান বক্তব্য প্রদান করেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম।

এবারের সমাবর্তনে ৫৬৩১জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী ১৭ জন গ্র্যাজুয়েটকে স্বর্ণপদক প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী সমাবর্তন শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। তোমরা সেই সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হলে। তোমদের হাত ধরেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তোমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা অর্জন করেছ তা দেশের কল্যাণে ব্যয় করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১কে সামনে রেখে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ইমিতধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বংয়সম্পূর্ণতা, নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশকে এশিয়ার সবচেয়ে বিকাশমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এই অগ্রযাত্রার পথে নবীন গ্রাজুয়েটদেরকে স্বীয় মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে অবদান রাখার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় সেই জরুরি কাজটিই করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলছে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এসময় মন্ত্রী ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোস্পানি, বিজনেস ইনকিউবেটর, স্টার্টআপ মার্কেট, এন্ট্রাপ্রেনারশিপ বিভাগসহ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিস্ময়কর অবদান রাখছে। এজন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে ডা. দীপু মনি বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি তৈরিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অন্যন্য। কিন্তু অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরই আইন না মানার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা কখনোই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে খুব শিগগিরই উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরিত করা হবে বলে তিনি জানান। এসময় তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, একটি স্বপ্ন নিয়ে এদেশের মানুষ দেশ স্বাধীন করেছিল। স্বপ্নটি হচ্ছে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত একটি দেশ গড়া। সেই স্বপ্ন পুরোটা এখনও পূরণ হয়নি। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নানা ক্ষেত্রে দেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। এখন কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য নতুন প্রজন্মকে দ্বায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, তরুণরা হচ্ছে জাতির কাণ্ডারি। কাণ্ডারি যদি পথ হারায় তবে তরী কখনোই তীরে পৌঁছুতে পারে না। এজন্য জাতির কাণ্ডারি তথা নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক আব্দুল মান্নান আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে স্থিতিশীল করার জন্য প্রচুর উদ্যোক্তা প্রয়োজন। উদ্যোক্তারা অনেক মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারে। মানুষ যত কর্মজীবী হবে দেশ তত উন্নত হবে। এসময় তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদেরকে যে শিক্ষা প্রদান করেছে তা তোমাদেরকে উদ্যোক্তা হতে সহয়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস।

গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে সমাবর্তন বক্তা পর্নচাই বলেন, চোখের সামনে একঝাঁক ভবিষ্যৎ কর্ণধার দেখতে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, কর্পোরেট নেতা, ফার্মাসিস্ট, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ। তোমরাই এ দেশকে বদলে দেবে। শুধু তাই নয়, আমি বিশ্বাস করি, তোমরা পরবর্তী প্রজন্মের পথ মসৃন করার জন্য মানবিক স্বপ্ন দেখবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করবে। প্রতিযোগিতামূলক এই পৃথিবী মোকাবেলা করার জন্য তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব, উদ্ভাবনী গবেষণা ও মেধাবী শিক্ষকরা তোমাদেরকে নিঃসন্দেহে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।

বেকারত্ব সমস্যার কথা উল্লেখ করে পর্নচাই বলেন, সারা পৃথিবীতে বেকারত্ব সমস্যা প্রকট হচ্ছে। তুমি যত উচ্চ শিক্ষিত হবে, তোমার বেকার হবার সম্ভাবনা তত বেশি। এ অবস্থায় তোমাদের উচিত উদ্যোক্তা হওয়া। তোমরা যদি উদ্যোক্তা হও তাহলে অনেক বেকারের কর্মসংস্থান করতে পারবে। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদেরকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, তোমরা নিশ্চয় কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে, জীবনে সাফল্যের উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হবে, কিন্তু কখনোই তোমার দেশ, জাতি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মানব সম্প্রদায়ের প্রতি দায়বন্ধতার কথা ভুলে যেও না।

পর্নচাই আরো বলেন, তোমরা নিশ্চয় গর্বিত শিক্ষার্থী একারণে যে তোমরা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়োর সুযোগ পেয়েছে। আমি জেনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি যে এটি একটি আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয়। খেলাধুলা, সহশিক্ষাশিক্ষা কার্যক্রম, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা বিনিময় প্রকল্প ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গ্রাজুয়েট তৈরি করছে। এসময় তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়াম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, প্রতিটি মানুষের আলাদা আলাদা পরিচয় রয়েছে। এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের আঙুলের ছাপ আলাদা। সুতরাং তুমি স্বতন্ত্র। তোমার এই স্বতন্ত্রতা কর্মজীবনেও প্রমাণ করা উচিত। এসময় তিনি নবীন গ্রাজুয়েটদেরকে একুশ শতকের বাজার চাহিদা বুঝে এবং সময়ের প্রয়োজন মাথায় রেখে ক্যারিয়া নির্বাচন করার আহ্বান জানান।

নবীন গ্রাজুয়েটরেকে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কীভাবে উদ্যোক্তা হওয়া যায় সেসব বিষয়ে অনেক সেমিনার, কর্মশালা, লেকচার, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি তোমরা ড্যাফোডিলের শিক্ষাজীবনে পেয়েছ। সেসব শিক্ষা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সহয়াক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১৭টি বিভাগে ২৮০০০ শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েশন প্রদান করে।

Leave a Reply