ক্লাস রুমের বাইরে

ক্লাস রুমের বাইরে

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মাহমুদা ম্যামের প্লানেটরি জিওলজি ক্লাস দিয়ে শুরু আর বিকেল সাড়ে ৪টায় দেলোয়ার স্যারের জিওলজিক্যাল ডাটা ইন্টারপিটেশন দিয়ে শেষ। মাঝখানে একটুও দম ফেলার সুযোগ নেই। বিভাগের টানা ক্লাস-পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্টের চাপে সবাই যেন রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছে। তাই বিভাগের শত ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪২তম ব্যাচের একঝাঁক শিক্ষার্থী কয়েক দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ল দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশে।

ক্যাম্পাস থেকে বাসে করে কমলাপুর রেলস্টেশন, সেখান থেকে ট্রেনে চড়ে সোজা সিলেট। প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. শরীফ হোসেন খান, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. রুমানা ইয়াছমিন ম্যামকে সঙ্গে পেয়ে আমাদের আনন্দের মাত্রা যেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেল। রাত ১০টায় ট্রেনে ওঠার পর সৈকত আর সুমনের ভাঙা গলার বেসুরো গানে ঘুম যে কোথায় উবে গেল সে কথাই যেন ভাবছিল তমা, শিরিন, শান্তরা। সকালে স্টেশনে নেমেই সৈকত ফেসবুকে ছবি পোস্ট দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিল- আমরা এখন সিলেটে। শফিক তখনও সুরমা বেসিনের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিল।

রেলস্টেশন থেকে আমরা সোজা জৈন্তাপুর জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে গিয়ে উঠলাম। তারপর শুরু হলো উঁচু উঁচু পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, রঙ-বেরঙের পাথর আর নির্জন মনকাড়া সারি সারি চা বাগানের সঙ্গে মিতালি। সারি নদীর স্বচ্ছ নীল জলরাশি, মনকাড়া অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত সারি সারি চা বাগান, হিমশীতল পানির সঙ্গে রঙ-বেরঙের পাথরের সারি, পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি আমাদের সব ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর গ্লানিকে ক্ষণিকের জন্য ভুলিয়ে দিয়েছিল। এটি ছিল আমাদের শেষ ফিল্ডওয়ার্ক। তাই স্মৃতির মণিকোঠায় রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো বন্দি করে রাখতে ফটোসেশনের মোটেই কমতি ছিল না।

সারি নদীতে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে সারি বেঁধে সেলফি তুলতে ভুল করেনি আতিক, শাওন, তরিক, রহিম, শওকত ও সাজ্জাদরা। শেষ পর্যন্ত ছবি তোলায় সেলফি কুইন অর্থিকেও হার মানতে হলো ইভার কাছে। অনিকের বানানো গানটি উঠতে-বসতে গাইতে শুরু করল সবাই। দিনভর ঘোরাঘুরির পাশাপাশি স্যাম্পল কালেকশন, হ্যামার, ক্লাইনোমিটার ও ম্যাপ নিয়ে ছোটাছুটি করতে করতে কখন যে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেল তা আমরা মোটেও টের পেলাম না। বেলা শেষে ঘড়ির কাঁটা আবারও মনে করিয়ে দিল এবার ঘরে ফেরার পালা। দু’ধারে সিলেটের ঘন সবুজ প্রকৃতিকে পেছনে ফেলে আমাদের ট্রেন ছুটল ইট-পাথরের নগরীর দিকে।

সূত্র: সমকালfavicon59-4

Leave a Reply