তিনি অলরাউন্ডার, তিনি সর্বজয়া

তিনি অলরাউন্ডার, তিনি সর্বজয়া

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রাণের প্রাঙ্গণে সবাই ডাকে ‘অলরাউন্ডার’। মা ডাকেন ‘সর্বজয়া’। তবে তাঁর নাম সাইফা মেঘলা। পড়ছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। সাভারের স্থায়ী ক্যাম্পাসে, ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেঘলা। জানেন নাচ, গান, অভিনয়, রান্নাবান্না। শখ গাড়ি চালানো, ছবি আঁকা, আর পাহাড় বেয়ে চূড়ায় ওঠা! সতীর্থ আর শিক্ষকদের গর্ব মেঘলাকে ক্যাম্পাসে এক নামে চেনেন সবাই।

ক্যাম্পাসে মেঘলা কিন্তু শুধু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেই জড়িত নন। নিজের মেধা ও মননের প্রমাণ দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সহযোগী হিসেবেও। কালচারাল ক্লাবের ক্লাব সমন্বয়ক, ইংলিশ লিটারারি ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিএনসিসির (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস) রমনা রেজিমেন্টের নারী ক্যাডেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি বাবাকে ব্যবসার কাজে সহযোগিতা করছেন। প্রতিভা আর মেধার কারণেই মেঘলা ‘অলরাউন্ডার’, ‘সর্বজয়া’।

এত কিছু একসঙ্গে কীভাবে সামাল দেন? প্রশ্নের জবাবে মেঘলা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সব অনুষ্ঠানে আমি শুরু থেকেই অংশ নিতাম। সব সময় নিজেকে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছি। বাবাকে ব্যবসায় সহায়তা করা থেকে শুরু করে পড়াশোনা ও নিজের ইচ্ছাপূরণ—সব করেছি সমানতালে।’ প্রবল ইচ্ছাশক্তিই মূলত তাঁর কাজগুলো সহজ করে দিয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেন এই তরুণ। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হয়ে ঘুরে এসেছেন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে। সেখানে ‘ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম বিটুইন শ্রীলঙ্কা অ্যান্ড বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ১২ দিনের সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। এ ছাড়া মেঘলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন আরটিভির ‘ক্যাম্পাস স্টার’, এসএ টিভির ‘ইয়ুথ ভয়েস’ এবং নিউজ ২৪-এর ‘ক্যাম্পাসের খবর’ অনুষ্ঠানগুলোতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষ্ঠানে থাকে মেঘলার কোনো না কোনো উপস্থাপনা।

বেড়াতে খুব ভালোবাসেন তিনি। নাম মেঘলা বলেই কি না কে জানে, মেঘের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া তাঁর নেশা। পাহাড়ে চড়া বা হাইকিংয়ের কোনো প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়নি, তবু সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন অভিযানে। এরই মধ্যে দেখা হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার ‘অ্যাডামস পিক’ কিংবা বাংলাদেশের কেওক্রাডংয়ের মতো পাহাড়ের চূড়া। সিলেটের প্রায় সব কটি পাহাড় ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। মেঘলার ইচ্ছা আছে, আগামী বছর পাহাড়ে চড়ার প্রশিক্ষণ নেবেন। এরপর পুরোদস্তুর অভিযাত্রিক হয়ে যাবেন তিনি।

সাইফা মেঘলা মাধ্যমিক পাস করেন ঢাকার হায়দার আলী হাইস্কুল থেকে। সাভারের দোসাইদ এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে ভর্তি হন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। বাবা মো. মান্নান আর মা সাজেদা মান্নান তাঁর অনুপ্রেরণা। মেঘলা বলছিলেন, ‘আম্মু আমাকে রাজকন্যার মতো বড় করেছেন। কিন্তু আমি নিজে সব সময় মা-বাবার সৈনিক হতে চেয়েছি। এত দিন তো আমি মা-বাবার পরিচয়ে পরিচিত হয়েছি। একদিন মা-বাবাও যেন আমার পরিচয়ে পরিচিত হতে পারেন, সেই স্বপ্নই দেখি।’

সূত্র: প্রথম আলোfavicon59-4

Leave a Reply