পারঙ্গম পার্থিব

পারঙ্গম পার্থিব

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

পুরো নাম পার্থিব মনিগ্রাম। সবাই ডাকে ঋক নামে। পড়ছে ঢাকার ধানমণ্ডির জুনিয়র ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে। নাচ, গান, অভিনয়, উপস্থাপনা, আবৃত্তি, গিটার, ছবি আঁকা ও খেলাধুলায় দুই হাত চলে সমানে। পড়াশোনায়ও পটু। স্কুলে পড়ছে ফুল ফ্রি স্কলারশিপে।

স্কুলজীবনের শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর রাজশাহীতে শিমুল মেমোরিয়াল স্কুলে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি পড়ে সেখানে। যে বাসায় থাকত, তার পাশের বাসায় নিয়মিত আসতেন নাচের শিক্ষক। পার্থিবের মা চান তাঁর ছেলেও শিখুক। ক্লাস ফোর থেকে পার্থিবের নাচ শুরু। নাচের শিক্ষকের হাত ধরেই রাজশাহীতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির একটি কর্মশালায় অংশ নেয়। সেখানে পার্থিব প্রথম দিনেই নজর কাড়ে নৃত্যশিল্পী সাজু আহমেদের। তিনি ও অন্যরা বাছাই করেন পার্থিবকে জাপানে একটি সংগঠনের নাচের অনুষ্ঠানের জন্য। ২৬তম ‘এশিয়ান প্যাসিফিক চিল্ড্রেনস কনভেনশন ইন ফুকুকা, জাপান ২০১৪’ সালে জাপানে যায় পার্থিব। এখন তো শিশু একাডেমির সদস্য হয়ে প্রত্যেক বছর অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায়।

পঞ্চম শ্রেণিতে স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একাধারে নাচ, গান, আবৃত্তি ও অভিনয়ে  প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে। পিএসসিতেও আছে গোল্ডেন ফাইভ। ষষ্ঠ শ্রেণিতে চলে আসতে হয় ঢাকায়। ভর্তি হয় জুনিয়র ল্যাবরেটরিতে।

শুধু নাচ নয়, চার বছর বয়স থেকে গানও শিখে চলেছে পার্থিব। প্রথমে শিখেছে রাজশাহীতে সন্দীপনী একাডেমিতে। এখন ছায়ানটে। তার পছন্দ লোকগীতি। কিন্তু গলায় নাকি বেশি সুন্দর লাগে রবীন্দ্রসংগীত। তাই বাসায় একজন শিক্ষক রাখা হয়েছে শুধু রবীন্দ্রসংগীতের জন্য। এর ফাঁকে গিটারও শিখছে। দুই বছর শিখেছে শিশু একাডেমিতে। কোর্স শেষে বাসায় আবার শিক্ষক রেখে নিয়েছে হাওয়াই গিটারের তালিম। এরপর শুরু হবে স্প্যানিশ গিটার। এ ছাড়া বাঁশি, তবলা ও ক্রাউনও বাজাতে পারে। গানের মধ্যে প্রিয় গায়ক হাবিব ওয়াহিদ ও পছন্দের ব্যান্ড চিরকুট। গায়ক সন্ধি ও স্বাগতার সঙ্গেও কিছুদিন কাজ করেছে পার্থিব।

নাচে তার পছন্দ লোকনৃত্য। শিখছে পান্থপথের নন্দনকলা একাডেমিতে। স্কুল, শিক্ষা সপ্তাহ ও শিশু একাডেমির যাবতীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভুল করে না। গত বছর জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সাত দিন ধরে অনুষ্ঠান মাতিয়ে রেখেছিল পার্থিব। উপস্থাপনায়ও পটু সে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বইমেলা উপলক্ষে শিশু একাডেমি থেকে কলকাতায় যায় পার্থিব। সেখানে দেখায় নাচ। এটুকু বয়সে বঙ্গভবনও পরিদর্শন করে ফেলেছে দুইবার।

আবৃত্তি ও ছবি আঁকা শিখেছে নজরুল ইনস্টিটিউটে। উপস্থাপনার কোর্স করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। স্কুলের বিভিন্ন প্রগ্রামের উপস্থাপনা করতেও ডাক পড়ে তার।

পার্থিব আঁকেও বেশ। পোর্ট্রেট করতে পারে অবিকল। এরই মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ও মেসির পোর্ট্রেটও এঁকে ফেলেছে। স্কেচের পাশাপাশি জলরঙেও পটু।

খেলাধুলার কথা না বললেই নয়। পঞ্চম শ্রেণিতে থাকতেই ব্যাডমিন্টনে পারদর্শী হয়। এরপর ঢাকায় এসে সুলতানা কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দুই সপ্তাহের কোর্স করে। সেখানকার কোচ পার্থিবের খেলায় মুগ্ধ হন। তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয় কর্মশালার জন্য। ব্যাডমিন্টন খেলতে পার্থিব তার মায়ের সঙ্গে যায় মালয়েশিয়ায়। গত বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে একটি বিশাল ট্রফিও নিয়ে এসেছে। সেটি আছে তার স্কুলে।

ঝোঁক আছে ক্রিকেটেও। কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমিতে চলছে চর্চা। প্রায়ই হয় ম্যান অব দ্য ম্যাচ। এর বাইরে স্কুলে লং জাম্প, হাই জাম্প ও সাঁতারেও কম যায় না পার্থিব।

পার্থিবের গুণের তালিকায় আরো একটি আইটেম আছে! সে রান্নাও জানে! তার বয়সী অনেকের যেখানে চুলার কাছে যাওয়া মানা, সেখানে পার্থিবের কাছে লুচি, নুডলস ও চা বানানো নস্যি!

এত কিছুর মধ্যে সময় দেয় পোষা প্রাণী ও গাছগাছালিকে। ছোট থেকেই যত্ন নিচ্ছে গোল্ড ফিশের। আছে পাখি, খরগোশ আর লর্ড। লর্ড হলো শখের বিড়াল। অবসর কাটে তার সঙ্গেই। মা বলেন, ‘সব কিছুই পারে ঋক। একটার পর একটা ঝোঁক চাপে। কিছুদিন মাতামাতির পর আবার নতুন কিছু চাই তার।’

পার্থিবের প্রিয় বিষয় বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের জীববিজ্ঞান অংশ বেশি ভালো লাগে। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চায়। শিক্ষকরাও বলেন, ‘পার্থিব তো অলরাউন্ডার! ও আমাদের স্কুলের সম্পদ।’

সামনে জেএসসি। তাই আপাতত কিছু কিছু ঝোঁক বন্ধ রেখেছে। কারণ এসবের মধ্যে পড়াশোনায় তো ভালো ফল লাগবেই।

সূত্র: কালের কণ্ঠfavicon59-4

Leave a Reply