আদ্রতার অনেক গুণ

আদ্রতার অনেক গুণ

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

টুকটাক প্রগ্রামিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়েও ভাবে। নিজে তো পড়ছেই, অন্যকেও পড়ায়। তবে এসব ছাড়িয়ে গেছে আরেক গুণ! আদ্রতা খান প্রজ্ঞা একজন পরিবেশপ্রেমীও!


টিউটরের কাছ থেকে শুনে প্রগ্রামিংয়ে আগ্রহ জন্মায় মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদ্রতার। পরে নিজেই শুরু করে শেখা। পরপর তিন বছর প্রগ্রামিং কুইজে পুরস্কারও পেয়েছে। এর মধ্যে একবার জাতীয় পর্যায়ের কুইজে স্কুলের প্রতিনিধিত্বও করেছে। প্রগ্রামিং নিয়ে অনেক অভিভাবকেরই রয়েছে খুঁতখুঁতে মনোভাব। আদ্রতার এমনটাই ধারণা। বলল, ‘তারা ভাবেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে এসব লেখার কী মানে। এমন ধারণা বদলানো দরকার। অনেকটা সময় বসে থাকতে হয় বলে অনেকে তাঁদের সন্তানদের প্রগ্রামিংয়ে নিরুৎসাহিত করেন। তাঁরা চান বেশি বেশি বই পড়ুক। এতেও কিন্তু আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। ’

অবশ্য আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও প্রগ্রামিং নিয়ে বেশিদূর যায়নি আদ্রতা। টুকটাক কোডিং করলেও তার মনোযোগ এখন বিজ্ঞানের নতুন নতুন প্রজেক্ট নিয়ে। বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলায় আদ্রতা দেখিয়েছে তার প্রজেক্ট। এর মধ্যে একটা প্রজেক্ট ছিল ক্লোনিং নিয়ে। ওয়াই স্টপ ক্লোনিং নামে তার ওই প্রজেক্টটিতে দেখানো হয়েছিল ক্লোনের ভালো দিকগুলো। এর বাইরেও আদ্রতা তৈরি করেছে ‘সমাধানের নাম সাধারণ পরিবহন’ নামের একটি প্রজেক্ট। ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে ভাবনা থেকেই তার এ কাজ। প্রজেক্টে আদ্রতা বলেছে, আমরা যদি গণপরিবহন ব্যবহার করি তবে যানজট অর্ধেক কমে আসবে। প্রায় চারটি প্রাইভেট কারের সমান জায়গা নেয় একটা বাস। অথচ একটি বাসে প্রায় ১০টি প্রাইভেট কারের যাত্রী বসতে পারে। এতে শব্দদূষণ ও পরিবেশ দূষণ দুটিই কমবে।

আদ্রতার ইচ্ছা ডাক্তার হবে। ডাক্তার হয়ে মানবসেবার মিশনে নামবে।

অন্যদের শেখাতেও ভালোবাসে আদ্রতা। প্রগ্রামিং থেকে শুরু করে পড়াশোনার নানা বিষয়ে বন্ধুদের আদ্রতা ওর বন্ধুদের শেখায়। ‘আমার স্যার বলেছে তুমি কাউকে মাছ ধরে দিয়ো না; বরং তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দাও।’ বলল আদ্রতা।

তবে এসব ছাপিয়ে গেছে আদ্রতার আরেক গুণ। আর তা হলো দেশপ্রেম! অবসরে আদ্রতার প্রিয় কাজ রাস্তায় পড়ে থাকা ময়লা উঠিয়ে ডাস্টবিনে ফেলা। বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে গেলেও তার সঙ্গে একটি বড় ব্যাগ থাকবেই। রাস্তায় পড়ে থাকা ময়লা ভরে নেয় ওতে। পরে ব্যাগটা ভরে এলে ফেলে দেয় ডাস্টবিনে। এ নিয়ে কারো কথায় কান দেয় না ও। বলে, ‘দেশটা তো আমার। যদি নিজে দায়িত্ব এড়িয়ে যাই তবে ক্ষতিটা আমারই। আর আমার ধারণা আমার এ কাজ দেখে অন্যরা ময়লা পরিষ্কারে অনুপ্রাণিত হবে। আর অনেকে মিলে যখন এ কাজ শুরু করবে তখন ঝকঝকে একটা দেশ পাব আমরা। ’

এর বাইরে সময় পেলেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে দুস্থ শিশুদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে আদ্রতা।

সূত্র: কালের কণ্ঠfavicon59-4

Leave a Reply