কাজের ক্ষেত্র অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

কাজের ক্ষেত্র অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

  • ফ্রিল্যান্সার্স ডেস্ক

বাংলাদেশে হঠাৎ করেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের পরবর্তী গন্তব্য হতে চলেছে এই মার্কেটিং পলিসি। ২০১৬ সালে এই নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। বড় বড় অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে অংশগ্রহণ করার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করেছে অংশগ্রহণকারীরা। চট্টগ্রাম থেকে এ বিষয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন কিউআইকিউজেড.কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম। এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।


: বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা কেমন?

আবুল কাশেম : বেশ ভালো। যারা ফ্রিল্যান্সিং করে বিশেষ করে অনলাইন মার্কেটিং সংক্রান্ত সার্ভিসগুলো দেয় তাদের সবাই একটা সময় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে জেনে যান। বাংলাদেশে অনলাইন মার্কেটিং ভিত্তিক সার্ভিস দিচ্ছে এমন অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন। এরা সবাই স্বাধীন ও ভালো আয়ের জন্য নিজের একটা বিজনেস তৈরি করতে চাইবেন এটাই ন্যাচারাল। এদের আগ্রহটা অনেক বেশি। এছাড়াও যারা অনলাইনে কিছু একটা করতে চান তারাও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে বেশ আগ্রহী।

: হঠাৎ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে কেন?
আবুল কাশেম : অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক আগ থেকেই অনেকে করছেন। অনেক কোর্স ও ট্রেনিং আছে। কিছুদিন আগে আমরা অ্যাফিলিয়েট বুটক্যাম্প আয়োজন করি। রিলেটেড ফেসবুক গ্রুপগুলোতে এই নিয়ে বেশ প্রচার প্রচারণা হয়। এরপর অন্যরাও কিছু প্রোগ্রাম করে। ফলে প্রচারটা বেশ ভালো হচ্ছে। প্রচারের কারণে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন। ফেসবুকে এই নিয়ে তাই আলোচনা হচ্ছে বেশ।

: আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অন্যান্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে পার্থক্য কী এবং আমাজন সবচেয়ে এগিয়ে কেন?
আবুল কাশেম : অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মডেল একই। অফারগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়। কেউ কেউ বিক্রি হলেই কমিশন দেয়, কেউ ফরম পূরণ করলে দেয়। কারও কারও ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট, কারও ডিজিটাল প্রোডাক্ট। আমাজনে প্রচুর পরিমাণ প্রোডাক্ট আছে। ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল। বলা যাবে না আমাজন সবচেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশে আমাজনের জনপ্রিয়তার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। অ্যাফিলিয়েট পেমেন্ট পাওয়া যায় পেনিয়রের ইউএসই পেমেন্ট সার্ভিস ব্যবহার করে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়া সাইট তৈরি করে এসইও-এর মাধ্যমে সাইটের ট্রাফিক তৈরি করা যায়। এসইও করে যে ভিজিটর আনা যায় তার জন্য অর্থ দিতে হয় না। এসইও ছাড়াও সোস্যাল মিডিয়া থেকেও অর্গানিক ট্রাফিক তৈরি সম্ভব। সাইটের পারফরমেন্স ভালো না হলে ঠিক করে নেয়ার সুযোগ থাকে। সাইট তৈরি করার যে ধাপ আছে সেগুলো শেখার অনেক রিসোর্স আছে।

: আমাজন ছাড়াও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের কেমন সুযোগ আছে?
আবুল কাশেম : আমাজনে ছাড়া অন্য অ্যাফিলিয়েটের সুযোগ অনেক। কিন্তু সমস্যা আছে অন্য জায়গায়। রিস্কটা বেশি। অন্যত্র দক্ষতা ও জ্ঞানও বেশি লাগবে।

: আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের শুরুটা কীভাবে করতে হবে?
আবুল কাশেম : বেশ কয়েকভাবেই আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। পেইড অথবা ফ্রি ট্রাফিক মেথড। ট্রাফিক মেথডের ওপর নির্ভর করবে কী শিখতে হবে আর কীভাবে শুরু করতে হবে। তবে স্টেপ জিরো হলে এই দুই ধরনের ট্রাফিক মেথড সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেয়া উচিত। য়রয়ু.পড়স-এ একটা ফাউন্ডেশন কোর্স আছে। এটা বিনামূল্যেই করা যাবে। ফ্রি ও পেইড মেথড নিয়ে এখানে পরিষ্কার একটা ধারণার পাশাপাশি কী কী শিখতে হবে, কোথা থেকে শেখা যাবে, কীভাবে শুরু করতে হবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠান কিউআইকিউজেড.কম কী করছে?
আবুল কাশেম : আমরা ২০০৬ সাল থেকেই আউটসোর্সিং সার্ভিস দিয়ে আসছি। আমাদের প্রায় সব রকমের ক্লায়েন্ট আছে। তবে এদের একটা বিশাল অংশ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংবিষয়ক অনেক কিছুই শিখেছি। আমাদের বিজনেস সাইটের পাশাপাশি বেশ কিছু অ্যাফিলিয়েট সাইট পরিচালনা করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং করে, কিংবা অনলাইন বিজনেস করে এমন কমিউনিটির সঙ্গে অনেক আগে থেকেই জড়িত। আমি অনেক আগে থেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে ফেসবুক গ্রুপে ও আমার ব্লগে লিখে আসছিলাম। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২০১২ সালে বেশ কয়েকটি ওয়ার্কশপ করি। এতে এখন যারা অনেক ভালো করছে এই বিষয়ে বেশ আগ্রহী হয়ে উদ্যোগ নিয়েছিল আর যথেষ্ট ভালো সাফল্য পেয়েছে বলা যায়। ইদানীং আবার প্রচুর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এছাড়া অ্যাফিলিয়েট সাইট তৈরির যে ধাপ এদের অনেক কিছুই এখানকার ফ্রিল্যান্সাররা শিখে গেছে। আমার মনে হয়েছে তাদের যদি গাইড দেয়া হয়, মেনটরিং করা যায় তাহলে এরা সফল হবেই। তাই কিউআইকিউজেড.কম নামের প্রতিষ্ঠান চালু করেছি; যাতে করে আমাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান শেয়ার করতে পারি।

: তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন যারা ফ্রিল্যান্সার তাদেরকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আনার জন্যই কিউআইকিউজেড.কম?
আবুল কাশেম : না। যারা একেবারে নতুন তাদের জন্যও আমরা কোর্স ডিজাইন করেছি। কিউআইকিউজেড.কম-এর অ্যাফিলিয়েট সাইট তৈরির কোর্স করে কেবল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবে তা নয়। চাইলে ৭-১০টির বেশি বিষয়ে দক্ষ ক্যাটাগরিতে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবে।

: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আগ্রহীদের নতুনদের জন্য পরামর্শ কী?
আবুল কাশেম : শুরু করতে পড়াশোনা শুরু করুন। সুযোগ অনেক। ভালোভাবে জেনে শুরু করলে সফলতার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। বিভিন্ন ওয়েবিনার, মিটআপ ও ওয়ার্কশপে জয়েন করতে পারেন। তবে সাবধান থাকতে হবে। অনেক অর্থ আয় হয় এটা মিথ্যা না। আবার খুব সহজেই হয়ে যাবে এটাও ঠিক না। আপনি যদি জানেন, উদ্যোগ নেন আর পরিশ্রম করেন তাহলেই ভালো করবেন।

: এক্ষেত্রে সফল হতে চাইলে কীভাবে কাজ করতে হবে?
আবুল কাশেম : জানতে হবে, শিখতে হবে, উদ্যোগ নিতে হবে, লেগে থাকতে হবে।

: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের দক্ষতাকে আর কোন কোন ক্ষেত্রে কাজে লাগানো সম্ভব?
আবুল কাশেম : অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গেলে অনলাইন বিজনেসের অনেক কিছুই শিখতে হয়। আসলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আর নিজের বিজনেসের পার্থক্য হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আপনি অন্যের প্রোডাক্ট প্রোমোট করেন আর নিজের বিজনেসে আপনার নিজের প্রোডাক্ট প্রমোট করেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য যা শিখতে হবে সেগুলোকে কেন্দ্র করে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়।

: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের চ্যালেঞ্জ কী?
আবুল কাশেম : অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। তবে সব সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব যদি সঠিক গাইডলাইন ফলো করে ভালোভাবে কাজ করা যায়। আমার কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট প্রজেক্ট আছে। এছাড়া ২০০৬ সাল থেকেই আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা প্রায় ৩ হাজার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের সঙ্গে তাদের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছি। এই প্রজেক্টগুলোতে আমরা যখন কাজ করি তথন অনেক কিছুই আমরা তা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করি।

: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আবুল কাশেম : কিউআইকিউজেড.কম হবে প্রশিক্ষণ পোর্টাল আর BDHire.com হবে প্লেসমেন্ট প্লাটফর্ম। ব্যক্তিগতভাবে আমার একটা স্বপ্ন আছে। বাংলাদেশের নানা প্রান্তের প্রফেশনালকে বিডিহিরো.কমের মাধ্যমে গ্লোবালি ফুলটাইম বা পার্ট টাইম জব পেতে সাহায্য করা। সেটা করার জন্যই এখন কাজ করব। আর ভবিষ্যতে এটা নিয়েই থাকতে চাই। এটা আমি টাকা আয় করার জন্য করব না। টাকা আমাকে আয় করতে হবে প্রজেক্ট চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু যে বিষয়টা আমার জন্য গুরত্বপূর্ণ তা হল আমি অন্যদের সাহায্য করতে পারছি।

সূত্র: যুগান্তরfavicon59-4

Leave a Reply