সৃজনশীলদের রাজ্য ইউটিউব

সৃজনশীলদের রাজ্য ইউটিউব

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

অনলাইনের বিশাল জগতের বড় অংশ দখল করে আছে ইউটিউব। মানুষ যেকোনো ধরনের তথ্য জানার জন্য আগে বইপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করত, ইন্টারনেট আসায় বইপত্রের জায়গা দখল করেছে সার্চ ইঞ্জিন। একইভাবে কোনো কিছু হাতেকলমে শেখার জন্য বা খুঁটিনাটি জানার জন্য এখন অন্যের সহায়তা প্রয়োজন হয় না বললেই চলে, কারণ সেই ভূমিকা পালন করছে ইউটিউবের ভিডিও। তথ্যের পাশাপাশি বিনোদনের চাহিদাও মেটাচ্ছে ইউটিউবের বিভিন্ন ধাঁচের ভিডিও। আবার যে কেউ চাইলে নিজের তৈরি করা ভিডিও সেখানে শেয়ার করতে পারেন। এ সময়ে ইউটিউবে ভিডিও প্রচার করে অনেকে ভালো আয়ও করছেন। তাদেরকে বলা হচ্ছে ‘ইউটিউবার’। দেশে অনেক তরুণ-তরুণী এখন ইউটিউবার হয়ে উঠছেন।


তানভীর তারেক, সাংবাদিক, ইউটিউবার, সংগীত পরিচালক

বছর পাঁচেক আগেও এদেশের অগণিত নাটক, সিনেমা, গান, ইন্টারভিউ; যেগুলোকে এখন আমরা কনটেন্ট বলি, এসব তখন আমরা গুগলে সার্চ করে দেখতাম। তখন স্রেফ দেখার জন্যই দেখা হতো। যদিও খতিয়ান অনুযায়ী বাংলাদেশের লাখ লাখ কনটেন্ট ইউটিউব প্রচলনের শুরু থেকেই অবৈধভাবে আপ করে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করেছে প্রবাসী অনেকে। কিন্তু দৃশ্যপট বদলেছে। এ নিয়ে একটি ছোট অভিজ্ঞতার কথা বলি। গতবছর সিঙ্গাপুরের গুগল অফিসের একটি আমন্ত্রণে যাই। সেখানে ইউটিউব সেকশনের দুজন স্টাফ আমাক গুগল অফিসের চমৎকার ইন্টেরিয়র দেখাচ্ছিলেন। দেখে মনে হচ্ছিল না কোনো অফিসে এসেছি। মনে হলো যেন ভুল করে কোনো সেভেন স্টারে ঢুকে পড়েছি। যাই হোক, লাঞ্চ আওয়ারে দুই তরুণের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।

একজন চাইনিজ। বয়স মাত্র ২৩। আরেকজন থাইল্যান্ডের ২১ বছরের কিশোরী। তাদের বিশেষভাবে গুগল ইনভাইট করেছে। আমাকে ইউটিউব স্টাফ প্রশ্ন করলেন, ‘বলুন তো তাদের প্রতিমাসে আয় কত?’

আমি কোনো অঙ্ক বলতে পারলাম না। পরে শুনলাম চাইনিজ ছেলেটা প্রতিমাসে ৭০/৮০ হাজার ডলার ইনকাম করে। তার আয়ের হিসেবে ডলারটি বাংলায় কনভার্ট করতে গিয়ে মাথা ধরে গেল। বিভিন্ন ফানি কনটেন্ট তৈরি করে। গত ৬ বছর ধরে ইউটিউব চ্যানেল চালু করেছে।

 

ইউটিউব চ্যানেল খোলা নিয়ে কিছু জরুরি পরামর্শ

গত দেড় বছর ধরে যেহেতু ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে নানা কাজ করছি, তাই অনেকেই এখন প্রশ্ন করেন, কীভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলব। কীভাবে টাকা আয় করব। তারা অনেকের কাছেই বিভ্রান্ত হন। কারণ ফেসবুকেও ইদানীং কিছু বিজ্ঞাপন দেখি, যেখানে টাকার বিনিময়ে অনেকেই ইউটিউব চ্যানেল খুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। অথচ আপনি একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুললেই অনায়াসেই ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপ করতে পারবেন। এর বাইরে ভিডিও আপলোডের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে একাধিক টিউটোরিয়াল আছে। তাই কারো প্রলোভনে বিভ্রান্ত হবেন না।

 

বাংলাদেশে ইউটিউব চর্চা

জেনে অবাক হবেন যে, এখন অধিকাংশ টিভি চ্যানেল তাদের স্টেশনের স্যাটেলাইট বিলটিও দিয়ে থাকে ইউটিউব থেকে আয়কৃত অর্থ দিয়ে। শুধু যে এন্টারটেইনমেন্ট, তা নয়। এক জরিপে জানা গেছে, ইউটিউবে ছোটদের বিভিন্ন শিক্ষণীয় কনটেন্টের পরেই বিভিন্ন হাইটেক সলিউশনের ভিডিও জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এছাড়া ফুড লাভারদের জন্য ফুড কনটেন্টসহ বিভিন্ন ডাক্তারি সলুশন এখন ইউটিউবের জনপ্রিয় কনটেন্ট।

একটা ছোট উদাহরণ দিই। ইউটিউবে সার্চ দিলেই আপনারা অনায়াসেই পেয়ে যাবেন । চ্যাণেলটির নাম ‘রায়ান’স টয় রিভিউ’। রায়ান নামের ৬ বছরের এক ছেলে তার বাবা মায়ের সাথে বিভিন্ন খেলনা নিয়ে খেলাধুলো করে থাকে। তারা এর বাইরে আর কিছু করে না। গুগল থেকে তারা প্রতিমাসে আড়াই কোটি টাকার ওপরে পায়। তারা নিজস্ব প্যালেস কিনেছে। আর কিছুদিনের ভিতরে হয়তো প্রাইভেট জেট কিনবে। কিন্তু তারচেয়েও বড় কথা। এখন বিশ্বের সবচেয়ে নামীদামি খেলনার ব্র্যান্ডগুলো তাদের নতুন খেলনা বাজারে ছাড়ার আগে রায়ানের বাড়িতে পাঠায়। একই সাথে রায়ান সেই খেলনা নিয়ে ভিডিও তৈরি করলে বাজারে এর চাহিদা বাড়ে। আর এর জন্য মোটা অঙ্কের টাকা নেয় রায়ানের পরিবার। এ রকম অনেকগুলো মার্কেটিং পলিসি রয়েছে, যা থেকে ইউটিউবের মাধ্যমে ইনকাম করা যায়।

কিন্তু এরচেয়েও বড় কথা আপনি আপনার সবকিছু কাজের স্মৃতি ব্যাংকের ভল্টের মতো জমা রাখতে পারবেন। ইউটিউবের মতো ভিডিও ব্যাংক বা এ থেকে অর্থোপার্জনের এমন প্লাটফর্ম আরও হয়েছে। তবে সেগুলো এখনো তেমন জনপ্রিয়তায় আসতে পারেনি।

গুগল তাদের বাংলাদেশে কার্যালয় স্থাপন করতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সম্ভাবনার দ্বার খুলবে আরও। তরুণদের কাছে শুধু একটিই পরামর্শ, পৃথিবীর সব ইউটিউবারের ভিতরে একটি দুর্নাম রয়েছে আমাদের। তা হলো আমরা কনটেন্ট নকল করি, এছাড়া অবৈধ উপায়ে স্ক্যাম করার মাত্রা বেশি। নিজেদের দেশের সম্মান ও আত্মসম্মান রক্ষার জন্য হলেও অরিজিনাল কনটেন্ট নিয়েই ইউটিউবার হোন। হোক তাতে ধীরে সাবস্ক্রাইবার বাড়ছে। কিন্তু যাদের আস্থা ভোটে, যে সাবস্ক্রাইবারদের নিয়ে আপনি অর্থোপার্জন করছেন, তাদের বিশ্বাসের দরজায় আঘাত দিলে ভবিষ্যতে আপনার, আপনার দেশের ক্ষতি।

 

নিজের গান ও ভিডিও নিয়ে মানিক মিউজিক

আমিরুল মোমেনীন মানিক একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। গান ও লেখালেখি তার ভালোলাগার জায়গা। গান গাওয়ার পাশাপাশি লিখেন ও সুর করেন। আর নিজের গাওয়া গানগুলো নিয়ে ইউটিউবে তৈরি করেছেন চ্যানেল ‘মানিক মিউজিক’। যেটিতে যোগ দিয়েছেন প্রায় এক লক্ষ সাবস্ক্রাইবার। আমিরুল মোমেনীন মানিক বলেন, ‘আমি নিজেকে প্রথাগত ইউটিউবার বলব না। শখের বশেই ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করি। গান আমার ভালোলাগার জায়গা, গতানুগতিক গানের বাইরে জীবনমুখী গান গাওয়ার চেষ্টা করি। যেমন: কিছুদিন আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্ররা যখন আন্দোলন করছিল, তখন এ নিয়ে একটি গান লিখে গেয়ে আপলোড করেছিলাম।’ জামালপুরের সন্তান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক ছাত্র মানিকের গানের প্রতি ভালোলাগা ছোটবেলা থেকেই। নিজের গানগুলোতে জীবনের নানা কথা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেন মানিক। ওপার বাংলার প্রখ্যাত শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তীর সাথেও অ্যালবাম করেছেন। নচিকেতার সঙ্গে যৌথভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন ‘আয় ভোর’ নামে একটি গানে, যেটি তার প্রিয় কাজগুলোর অন্যতম। গানের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন কলকাতা, ত্রিপুরা ও আসাম থেকেও। এ রকম বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছোট ছোট ভিডিওক্লিপগুলো সংগ্রহ করে ইউটিউবে আপলোড করতেন। কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে তার গাওয়া একটি গানের ভিডিও ক্লিপ ভিউ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখবার। ২০১১ সালে প্রথম ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করেন তিনি। গেল বছরের শেষ দিকে মানিক মিউজিক নামের চ্যানেল খোলেন। এখন এই চ্যানেলে নিজের কথা, গান ও ভাবনা তুলে ধরছেন, পাশাপাশি কিছু আয়ও হচ্ছে, এনে দিয়েছে বাড়তি পরিচিতি। কিছুদিন আগে এফডিসিতে গিয়েছিলেন। সেখানে একজন দৌড়ে এসে বললেন, ভাই আমি আপনার গান শুনি, ভিডিও দেখি। মানিক জানতে চাইলেন, কোথায়? উত্তর এলো, ইউটিউবে! মানিক বলেন, ‘ইউটিউবকে আমি ভবিষ্যতের শ্রেষ্ঠ প্লাটফর্ম মনে করি। ভালো কন্টেন্ট শেয়ার করে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মানুষও সেটা গ্রহণ করছেন। তবে দায়বদ্ধতার সাথে কাজ করে যেতে হবে।’

 

বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের খাবারের চুলচেরা বিশ্লেষণ খাইদাই ডটকম

ফারুকে আযম একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন। তার সঙ্গী খালেদ সাইফুল্লাহ ব্যবসায়ী, একসময় ছিলেন টিভি উপস্থাপক। এই দুই বন্ধুর ইউটিউব চ্যানেল ‘খাইদাই ডটকম’। তাদের কাজ হলো বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানে ঘুরে ঘুরে খাবারের স্বাদ নেওয়া, পাশাপাশি সেটার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করা! আর এক্ষেত্রে খালেদ থাকেন ক্যামেরার সামনে, ফারুক করেন ছবি ধারণের কাজ।

ফারুক বলেন, ‘মানুষের নানারকম শখ থাকে, তেমনি বিভিন্ন জায়গার খাবার খাওয়াও একধরনের শখ। আমরা খেতে পছন্দ করি, নতুন নতুন জায়গায় যাই। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাত্ আমি ও খালেদ ভাই ভাবলাম, খাবারের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি খাবারটা সম্পর্কে অন্যদেরকে জানানোর জন্য কিছু করা যায় কি না। ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের খাবারের রিভিউ পাওয়া যায়, এমনকি বিভিন্ন দেশ ঘুরে ফুড ব্লগিং করে স্রেফ ভিডিও শেয়ারের আয় থেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকে। কিন্তু আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নামকরা অনেক খাবারদাবার থাকলেও সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না। তাই বাংলায় ফুড ব্লগিং করা প্রয়োজন, এমন ভাবনা থেকেই খাইদাই ডটকমের শুরু।’

এরমধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোর নামীদামি খাবারের রিভিউ করেছেন তারা। গিয়েছেন ঢাকার বাইরেও। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা হলো বিদেশে গিয়েও বিভিন্ন খাবারের রিভিউ করবেন। ফারুক বলেন, ‘শুরুর দিকে অনেকে আমাদের এই কাজটা সহজভাবে নেননি। খাবার খাওয়ার দৃশ্য ভিডিও করা অনেকে পছন্দ করেন না। শুরুতে গালি দিয়েও কমেন্ট করতেন কেউ কেউ! কিন্তু ধীরে ধীরে আমাদের চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বেড়েছে, এখন সেটা প্রায় ষাট হাজার। আয়ও হচ্ছে।’ আলাপচারিতায় জানা গেল আরেক মজার বিষয়। বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনরা তাদের নাম দিয়েছেন খাবারের ডিকশনারি। ঢাকার ভিতরে ঘুরতে ঘুরতে কখন, কোথায়, কোন খাবারটা খাওয়া উচিত, সেটা জানার জন্য প্রায়ই পরিচিতরা ফোন করেন। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে খাইদাই ডটকমকে নিয়ে তাদের নতুন পরিকল্পনা আছে, সেটা দেখার জন্য আপাতত অপেক্ষায় থাকতে হবে, জানালেন ফারুকে আযম।

 

প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলায় টিউটোরিয়াল নিয়ে তানভীর রাসেল

ছোটবেলা থেকে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ জয়পুরহাটের ছেলে তানভীর রাসেলের। প্রযুক্তির বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে জানার চেষ্টা করতেন। স্কুলে পড়ার শেষদিকে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার পর তিনি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে পারেন। নিজে নিজে ফটোশপের কাজ শেখেন, ২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জয়পুরহাটে থেকেই শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং। পরে ঢাকায় এসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। যখন ইউটিউব ব্যবহারের প্রচলন বাড়ল, তখন তিনিও প্রায়ই ইউটিউবে ভিজিট করতেন। নিজে কম্পিউটারে কাজ করার সময় কোনো সমস্যায় পড়লে সেটার সমাধান খুঁজতেন ইউটিউবে। কিন্তু তখনো ইউটিউবে বাংলায় কোনো টিউটোরিয়াল পাওয়া যেত না। বিদেশি বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনেক সময় বুঝতে সমস্যা হতো। সেসময়ই তিনি ভাবলেন, বাংলায় প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল থাকা প্রয়োজন। শুরুর দিকে কিছু ভিডিও নিয়ে একটা চ্যানেল শুরু করলেন। কিন্তু নিয়মকানুন খুব বেশি জানা না থাকায় হঠাত্ সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর তিনি ইউটিউব চ্যানেল ও ইউটিউব কন্টেন্টের ব্যাপারে ভালোভাবে জানাশোনার জন্য ইন্টারনেট ঘাঁটতে শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘তানভীর রাসেল’ নামেই তৈরি করেন আরেকটি চ্যানেল। ইউটিউব সম্পর্কে নিজে যেটুকু জেনেছেন, সেটা কাজে লাগিয়ে তৈরি করেন ভিডিও টিউটোরিয়াল ‘হাউ টু ক্রিয়েট অ্যা ইউটিউব চ্যানেল’। এর আগে এই বিষয়ের ওপর বাংলা কোনো টিউটোরিয়াল ছিল না। রাসেলের সেই ভিডিওটি ভিউ হয় প্রায় পনেরো লাখবার! বাড়তে থাকে চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারও। এখন পর্যন্ত ‘তানভীর রাসেল’ চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৭৭ হাজার। প্রায় প্রতিদিন সেখান থেকে মিলছে নানা বিষয়ের টিউটোরিয়াল। এরমধ্যেই চ্যানেলটি ইউটিউবের সিলভার বাটন পেয়েছে। ফটোশপ শেখা, ফ্রিল্যান্সিং, কম্পিউটারের ট্রাবলশুটিংসহ আরও অনেক বিষয়ে তানভীর নিজেই ক্যামেরার সামনে কথা বলে ভিডিও আপলোড করছেন। তানভীর রাসেল বললেন, ‘আমার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা হলো আমি এমন একটা প্লাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের নিজেদের তৈরি করা ভিডিও টিউটোরিয়াল আপলোড করবেন।’

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তারকাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেলিব্রেটি ফ্যাক্টস

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে দর্শন বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন মোস্তারিনা নাজনিন মহুয়া। ছোটবেলা থেকেই তারও আগ্রহ কম্পিউটারের প্রতি। ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার পর ইন্টারনেট সার্ফিং করতে করতে একসময় জানলেন, ইউটিউবে ভিডিও কন্টেন্ট শেয়ার করেও অনেকে আয় করছেন। বিষয়টার ওপর আগ্রহ জন্মায়। জানতে পারেন, যারা ক্যামেরায় কথা বলে সেটা ভিডিও করে আপলোড করেন, তাদেরকে বলা হয় ইউটিউবার। তবে এর বাইরেও বিভিন্ন রকমের ভিডিও তৈরি করেও অনেকে ভিডিও মার্কেটিং করে আয় করেন। এরপর এ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেন। অন্যদিকে মহুয়ার বন্ধু জালামপুরের ছেলে মামুনূর রশীদের একই বিষয়ের ওপর আগ্রহ। তিনি বগুড়ার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা করার পর এখন ঢাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন। একসময় নদীভাঙনের কারণে ঘর হারিয়ে পড়াশোনা হুমকির মুখে পড়েছিল। তখন থেকে তিনি ভাবতেন নিজে উপার্জন করার জন্য কিছু করতে হবে। শুরু করলেন ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি। অন্যদের মতো তার গল্পটাও অনুমেয়, শুরুতে সফল হননি। পরে মহুয়া ও মামুন একসঙ্গে কাজ করে ‘সেলিব্রেটি ফ্যাক্টস’ নামে চ্যানেল খোলেন। যেহেতু আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তারকাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই চ্যানেল আর অনেকেরই এ নিয়ে আগ্রহ, তাই সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যাও বাড়তে লাগল। এখন এই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার প্রায় আড়াই লাখ। প্রতিদিন ভিডিও দেখছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। আর এর মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করছেন মহুয়াও। শুধু এটি নয়, রূপচর্চা নামে আরও একটি চ্যানেল রয়েছে মহুয়ার, যেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন টিপস ও ভিডিও শেয়ার করছেন। রূপচর্চার সাবস্ক্রাইবার ৪৩ হাজার। আর দুটি চ্যানেলের সবকিছু মিলিয়ে প্রতিমাসে আয় হচ্ছে হাজার ডলার। মোস্তারিনা নাজনীন মহুয়া বললেন, ‘পরিবারের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেন। আমি দিনরাত কম্পিউটারের সামনে বসে থাকি, এ নিয়ে কখনো কারোর তীর্যক মন্তব্য শুনতে হয়নি। তাছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করে অর্থোপার্জন করছি বলে আরও অনেকে সম্মানের চোখে দেখে। আমি চাই অন্য মেয়েরাও এটা অনুসরণ করুক। মামুনূর রশীদ বললেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি নিয়েই থাকব। উদ্যোক্তা হিসেবে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে চাই।’

সূত্র: ইত্তেফাক

Leave a Reply