সমুদ্রে ক্যারিয়ারের হাতছানি

সমুদ্রে ক্যারিয়ারের হাতছানি

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

রোমাঞ্চকর কাজ ও জীবনযাপনের প্রতি তরুণদের মোহ সহজাত। নগরের যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে জীবনের অন্য রকম ছোঁয়া পেতে অনেকেই পাড়ি জমান সাগরে, কেউ কেউ জাহাজে জাহাজে ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেন। রোমাঞ্চকর এমন কিছুই যদি পেশা বা ক্যারিয়ার হয়ে ওঠে, তাহলে তো কথাই নেই। নেভাল আর্কিটেকচার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং (নৌযান ও নৌযন্ত্র প্রকৌশল) বিষয়ে পড়ালেখা সাগরের নীল রাজ্যেই ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ করে দিতে পারে আপনাকে। পাস করার পর গোটা বিশ্ব হবে আপনার কর্মক্ষেত্র। কারণ সারা দুনিয়ায় মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কদর আকাশচুম্বী। ভাবছেন কোথায় পড়বেন? বিদেশ নয়, দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানেও চাইলে আপনি এ বিষয়ে পড়তে পারেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন তারা এ বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করতে পারেন। পাস করে গ্লোবাল ক্যারিয়ার গড়ার দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।

রোমাঞ্চকর ক্যারিয়ার
মালয়েশিয়ার একটি জাহাজের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশী রেজওয়ানুল হক জানান, এ পেশায় যেমন চ্যালেঞ্জ তেমন আনন্দও আছে। সমুদ্র নীল জলরাশির মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘোরার মজাই আলাদা। তাছাড়া এ পেশা অত্যন্ত সম্মানের। রয়েছে ভালো বেতন-ভাতাও। রেজওয়ান জানান, বিদেশে বাংলাদেশী মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের বেশ সুনাম রয়েছে। তাই বিদেশে বাংলাদেশী মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের বেশ চাহিদা। এক হিসাব মতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক জাহাজ শিল্পে ১ লাখ মেরিন কর্মকর্তা ও ৫ লাখ নাবিকের সংকট রয়েছে। এ সুযোগ নিতে হলে এখন থেকে প্রতি বছর অন্তত ৮০০ থেকে ১ হাজার মেরিন অফিসার তৈরি করা দরকার। আমাদের পাশের দেশ ভারত ২০০৯ সালে ৮৭ হাজার এবং চীন একই সময়ে দেড় লাখ মেরিন অফিসার ও নাবিক তৈরি করেছে। বর্তমানে আমাদের দেশেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর পড়াশোনার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীই একে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে স্বাচ্ছন্দ্যে।

কোথায় পড়বেন
বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১৯৭১ সাল থেকে নৌযান ও নৌযন্ত্র বিভাগে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আওতাধীন মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) নৌযান ও নৌযন্ত্র প্রকৌশল বিভাগ চালু হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিন সায়েন্সে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ রয়েছে। ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য জানতে নিুোক্ত ওয়েবসাইটগুলোয় খোঁজ নেয়া যেতে পারে : বুয়েট : www.buet.ac.bd এমআইএসটি :www.mist.ac.bd। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : www.cu.ac.bd চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। বিজ্ঞানে এইচএসসি বা ও-লেভেল ডিগ্রি লাভের পর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে ৩০০ জন শিক্ষার্থী আবাসিক ক্যাডেট হিসেবে নটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে থাকে এখানে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনাইটেড মেরিটাইম একাডেমি, ক্যামব্রিজ মেরিটাইম কলেজ, ওয়েস্টার্ন মেরিটাইম একাডেমি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমি, শাহ মেরিন বিজনেস ইন্সটিটিউট প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে।

উচ্চশিক্ষা
দেশে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করে আপনি উচ্চশিক্ষা বা স্কলারশিপ নিতে পারবেন। উচ্চশিক্ষার জন্য আমাদের দেশে বুয়েটে এমএস/এমএসসি ও পিএইচডি করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক এ পেশার ওপর স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। স্বল্প খরচে সিঙ্গাপুর, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কাতার, দুবাই ইত্যাদি দেশে চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষাও নিতে পারবেন। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরির সুযোগও আছে।

কর্মক্ষেত্র
একটি জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে এর বিভিন্ন কারিগরি দিকগুলো দেখেন মেরিন ইঞ্জিনিয়াররা। নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নৌযানের স্থাপত্যশৈলী, নির্মাণকৌশল, সব ধরনের নৌযন্ত্রের গঠন, ক্রিয়াকৌশল ও নৌপথের সব খুঁটিনাটি দিক নিয়েই কাজ। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এটি একটি অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হল সমুদ্রগামী জাহাজ। বর্তমানে বিশ্বে প্রতিদিন ৫ হাজার জাহাজ প্রায় ৬০০ কোটি টন পণ্য নিয়ে বিশ্বের প্রায় দেড়শ দেশে চলাচল করে থাকে। অধিকাংশ মেরিনার কাজ করেন এসব জাহাজে। তবে জাহাজের বাইরেও আছে তাদের কাজের সুযোগ। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন নৌবন্দর, জাহাজ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, পাওয়ার প্লান্ট প্রভৃতি জায়গাতেও মেরিনারদের কাজের বিপুল সুযোগ রয়েছে। এছাড়া জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, দেশী-বিদেশী তেল কোম্পানিসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানায়ও কাজ করতে পারেন মেরিন ইঞ্জিনিয়াররা। বাংলাদেশ শিপবিল্ডিং কর্পোরেশন, খুলনা শিপইয়ার্ড, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডে রয়েছে চাকরির ব্যাপক চাহিদা। বাংলাদেশ নেভি, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি ইত্যাদি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়ার রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ। দেশী-বিদেশী জাহাজে নাবিকসহ ভালো মানের চাকরি রয়েছে। মোটকথা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের রয়েছে বহুমুখী উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের হাতছানি।

আয়-রোজগার
বুয়েট থেকে পাস করা অস্ট্রেলিয়ার একটি জাহাজের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ইমদাদ হোসেন জানান, একজন ছাত্র পেশাগত জীবনে বিদেশী প্রতিষ্ঠানে ৮০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। দেশী জাহাজ বা অন্য প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় করতে পারেন। বিদেশী জাহাজে এখানে থাকা-খাওয়া-চিকিৎসা সবকিছুই মানসম্মত।favicon59-4

Leave a Reply