আড্ডাবাজির ভালো-মন্দ

আড্ডাবাজির ভালো-মন্দ

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

পণ্ডিতরা বলে গেছেন, সৃষ্টিশীলতার নেপথ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আড্ডা। ফলে আড্ডাকে বন্ধু করে নেওয়া আপাতদৃষ্টিতে দোষের কিছু নয়। কিন্তু অতিরিক্ত আড্ডাবাজি বা আড্ডা-আসক্তি; কিংবা বাজে আড্ডার ফল কি একই রকম? মোটেও না। বরং তা ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। চলুন, সে রকম কিছু বিপদের পাঠ নেওয়া যাক:


সব গোল্লায়

আড্ডা-আসক্তি আপনাকে জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে বিমুখ করে দিতে পারে। যদি আপনি হোন শিক্ষার্থী, তাহলে আপনার পড়াশোনার বারোটা বেজে যেতে পারে। আর যদি হোন পেশাজীবী, তাহলে ক্যারিয়ারের ধস নামিয়ে দিতে এটি কাজ করতে পারে মহৌষধ হিসেবে। আর আপনার পারিবারিক জীবন যে তাতে ভীষণ বিপদে পড়ে যাবে- সে কথা বলাই বাহুল্য।

অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ
সাধারণত অভিভাবকরা আড্ডাকে ভালো চোখে দেখেন না। এটি যেমন তরুণদের বিরক্ত করে, আবার একভাবে দেখলে অভিভাবকদের এই অপছন্দকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বলা হয়ে থাকে, ‘অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ!’ আপনার আড্ডার বন্ধুরা যদি কোনোভাবে নেশা-আসক্ত কিংবা অন্য কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে সেটির প্রভাব আড্ডার ভেতর দিয়ে আপনার মধ্যে খুব দ্রুত কার্যকর হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রবল। ফলে নিজেকে বাঁচাতে আড্ডার মানুষগুলোকে ভালো করে যাচাই করে নেওয়ার বিকল্প নেই।

প্রাণঘাতী অসুখের তাড়া
আড্ডার এমনই জাদু, কখন যে সবাইকে সময়ের হিসাব-নিকাশ ভুলিয়ে দেয়, টের পাওয়া কঠিন। আর আড্ডা-আসক্তদের জন্য তো এটি একটি প্রাত্যহিক ব্যাপার। ফলে নাওয়া-খাওয়া ভুলে যাওয়ার ঘটনা অহরহ, এমনকি প্রায় নিয়মিতই ঘটতে থাকে, যা পরিণামে ডেকে আনতে পারে সাধারণ থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী অসুখও।

মানসিক যাতনা
যে কোনো আসক্তিই খারাপ। আড্ডা আসক্তিও। স্বভাবতই এ আসক্তিতে নিজেকে দেওয়ার মতো, নিজেকে গড়ে তোলার মতো, নিজেকে ভালোবাসার মতো, নিজের একান্ত সমস্যাগুলো সামলে ওঠার মতো সময়টি হারিয়ে যাবে আপনার। ফলে দিনে দিনে হীনমন্যতাসহ নানা মানসিক যাতনা তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। আর তা হয়তো চিরতরে মানসিক বৈকল্যও করে দিতে পারে আপনাকে।

আড্ডা হোক সুনির্বাচিত
আড্ডাবাজি আসলেই দোষের কিছু নয়, যদি তা হয় সুনির্বাচিত, পরিচ্ছন্ন ও পরিমিত। কিন্তু আপনি যদি আসক্ত হয়ে যান, তাহলে এটি যে কোনো নেশার মতোই ধীরে ধীরে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। অতএব, সাবধানতা অবলম্বন করেই পথ চলুন!

সূত্র: সমকালfavicon59-4

Leave a Reply