শীর্ষ ধনীদের ১৫ অভ্যাস

শীর্ষ ধনীদের ১৫ অভ্যাস

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

কখনও কি ভেবে দেখেছেন কীসে বিশ্বের শীর্ষ সফল ব্যক্তিদেরকে বাকিদের থেকে আলাদা করেছে? এরা প্রায়ই ভোরবেলাতেই বিছানা ছাড়েন, সক্রিয়ভাবে নিজেরাই নিজেদের স্বাস্থ্যের দেখভাল করেন এবং মনোযোগসহকারে কোনো কিছুর অনুশীলন করেন। এরা গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সম্পর্কগুলোকে কখনোই অবহেলা করেন না। প্রযুক্তির পেছনে খুব বেশি সময় ব্যয় করেন না।

এখানে বিশ্বের শীর্ষ সফল ব্যক্তিদের ১৫টি উক্তি তুলে ধরা হলো। উক্তিগুলোতে যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস তাদের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে তা তুলে ধরা হয়েছে :


১. হাঁটুন

“গতি মানসিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ফোনে কথা বলার সময় হাঁটুন, মিটিং করার সময় হাঁটুন, চিন্তা করার জন্য হাঁটুন। হাঁটার সময়ই কেউ সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকেন। ”
– ক্রিস হেইল, কাউন্টেবল এর সিইও এবং প্রতিষ্ঠাতা।

২. রুটিন তৈরি করে কাজ করুন
“আমি প্রতিদিন ৫টা ১৫ মিনিটে ঘুম থেকে উঠি। এরপর মেডিটেশন ও প্রার্থনা করি এবং ২০টি জিনিস লিখি যেগুলোর জন্য আমি কৃতজ্ঞতা বোধ করি। ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত আমি ব্যায়াম করি। এরপর নাশতা করে কাজে যাই। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পুনরায় আমি একইভাবে ২০টি জিনিস লিখি। প্রতিদিন আমি এই রুটিন মেনে চলি। এতে জীবনের যেকোনো সমস্যাই আমি সহজে মোকাবিলা করতে পারি। ” – অ্যাশ শিলকিন, চিম্পচেঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা সিইও

৩. নিজেক অস্বীকার করুন
“আমি প্রতিদিন নম্রতা ও সহানুভূতির চর্চা করি। আমার বাবা-মা ছিলেন খুবই স্নেহময়। তারা সীমিত ক্ষমতা সত্ত্বেও আমাকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েই বড় করেছেন। কিন্তু পাশাপাশি তারা আমাকে পরার্থপরতা এবং লোকের ভিন্নতা উপলব্ধি করতেও শিখিয়েছেন। তাদের শিক্ষা আমাকে একজন বিদেশি সংবাদদাতা এবং এখন একজন নির্বাহী হিসেবে সাফল্য লাভে সহায়তা করেছে। এতে কারো সঙ্গে একমত না হলেও আমি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তা গণ্য করার মতো ধৈর্য ধারণের অধিকারী হয়েছি। আর লোকের ভিন্ন ধরনের আচরণ বুঝার জন্য অনুসন্ধানী মনের অধিকারী হওয়ার ফলে আমি লোককে অনেক সহজেই ম্যানেজও করতে পারি। ”
– ক্যালভিন সিমস, সভাপতি এবং সিইও, ইন্টারন্যাশনাল হাউস

৪. ই-মেইল চেক করার আগে প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম করুন
“পরিষ্কার ও ধরালো মাথা নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য প্রতিদিন সকালে আমি ব্যায়াম করি। ”
– জন জিগলার, সিইও, পার্কমোবাইল

৫. সবকিছু ক্যালেন্ডারে রাখুন
“আমার সব সবকিছু্ই হয় ডিজিটাল ক্যালেন্ডারে। কোনো কিছু ক্যালেন্ডার না থাকলে তার আর করা হয় না। ”
– জ্যাকুই রসহ্যান্ডলার, উফমিন্টস এর স্রষ্টা

৬. কখনোই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না
“কোনো ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে অন্তত কয়েক ঘণ্টা বা একদিনের জন্য বিষয়টি মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াজাত করুন। ওই সময়ের মধ্যে সমস্যাটির ৭০ শতাংশরই সমাধান হয়ে যাবে। এতে আপনার শক্তির অপচয় হবে না এবং মানসিক চাপ কমে আসবে। ”
– ক্যাথেরিন এনরাইট, এক্সোকিউটিক্যালস এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট

৭. সমস্যাকে ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করুন
“কারো সঙ্গে কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বললে সেটিকে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করুন। এতে শ্রোতাদের সঙ্গে আপনি একটি আবেগগত যোগাযোগ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। ”
– লরা স্কট, ওয়েফেয়ার এর ভিপি

৮. কোথায় যেতে চান নিজেকে তা স্মরণ করিয়ে দিন
“ব্যক্তিগত এবং পেশাগত লক্ষ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতেই পারে। কিন্তু মাঝেমধ্যেই একটু পেছন ফিরে তাকালে কতটুকু এগোলেন তার একটা পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। আর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করে। ”
– জিম রোবসন, সিইও, পিন পয়েন্ট

৯. স্বাস্থ্যকর পানীয় এবং ধ্যান দিয়ে দিন শুরু করুন
“প্রতিদিন সকালে আমি লেবুর রস মিশ্রিত বা তাজা হলুদ মিশ্রিত হালকা গরম পানি পান করি। এতে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এরপর ৩০ মিনিটের জন্য ধ্যান করে কাজে যাই। কাজে যাওয়ার আগে সবজি ও ফলমূল সমৃদ্ধ নাশতা করি। আমি বিশ্বাস করি সুস্থ ও শক্তিশালী দেহ ও মন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এতে নিত্যদিনের যে কোনো নতুন সমস্যা মোকাবিলা করা আরো সহজ হয়। ”
– লাভলিন সিধু, ব্যাঙ্কমোবাইল এর সহপ্রতিষ্ঠাতা

১০. প্রতিদিন অন্তত দুইবার ব্যায়াম করুন
“দিনের শুরতে এবং শেষে কঠোর শরীরচর্চা আমার মনকে সঠিক গড়নে রাখতে সহায়ক হয়। শুরুতে ৬০ মিনিট এবং শেষেও ৬০ মিনিট ব্যায়াম করলে কাজে আমার মনোযোগ ঠিক থাকে। ”
– জান্দের ক্যাম্পোস, অ্যাঙ্গোলা ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট এর সিইও

১১. পরিবারের সঙ্গে আনন্দমূলক সময় কাটান
“আমার কিশোর বয়সী দুই ছেলের সঙ্গে সুযোগ পেলেই আমি পিংপং বা বাস্কেট বল খেলায় বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠি। এতে কাজে ফিরে আসার পর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ এবং ইতিবাচক মানসিক গঠনকাঠামো ধরে রাখা যায়। ”
– লিসা স্কিট ট্যাটাম, ল্যান্ডিট এর সহপ্রতিষ্ঠাতা

১২. সমর্থন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন
“কোনো কিছুই কখনো পরিকল্পনা মাফিক চলে না এবং পথ চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝাঁকুনি খেয়ে লোকে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তবে আমি খুবই ভাগ্যবান যে আমার পরিবার, স্ত্রী এবং চার সন্তান আমাকে যথেষ্ট সমর্থন, সাহস ও উৎসাহ যুগিয়েছে। ”
– জন সুমরয়, সিইও এবং উদ্ভাবক, মাইফোল্ড

১৩. অগ্রিম পরিকল্পনা করে রাখুন
“প্রতিদিন কাজে যাওয়ার পথে আমি দুটি বা তিনটি শীর্ষ কাজ অথবা প্রয়োজনীয় যোগযোগ নিয়ে ভাবি। যেগুলো নিয়ে সেদিন বিশেষভাবে মনোযোগী হতে হবে। ”
– ম্যাইঅ্যা হ্যাগ, আই সি মি এর সিইও

১৪. মহান মনোভাব নিয়ে ঘুম থেকে জাগুন
“বুঝতে শিখুন, আপনি যে মুহূর্তে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন সে মুহূর্তের মনোভঙ্গিই আপনার পুরো দিনটি কেমন যাবে তার দিক নির্দেশক। আপনি হয়ত কোনো পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। কিন্তু নিজের মনোভাব নিয়ন্ত্রণের একমাত্র কর্তা আপনি নিজেই। সুতরাং প্রতিদিন ঘুম থেকে জাগার সময় সে দিনটি জয় করার মনোভঙ্গি নিয়েই আমি জাগি”।
– ব্রায়ান নুনার, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও, টুইস্ট অ্যান্ড সিল।

১৫. নিজেকে সময় দিন
“প্রতিদিন আমি জিমে, হাঁটাহাঁটি করে, গান শুনে বা বই পড়ে ১ ঘণ্টা করে সময় কাটাই। নিজেকে এতগুলো ঘণ্টা সময় দেওয়ার ফলে আমি একজন ভালো স্ত্রী, ভালো সিইও এবং সুখী মানুষ হয়ে উঠি। ”
– কেট হুইটিং, এডুসেন্টস এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিইওfavicon59-4

Leave a Reply