সায়েন্টিফিক রিসার্চ প্রপোজাল

সায়েন্টিফিক রিসার্চ প্রপোজাল

  • মো. জাবেদুল হক

সংগৃহীতবিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় সায়েন্টিফিক রিসার্চ প্রপোজাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ওপর নির্ভর করে একজন প্রফেসরের অধীনে আপনি রিসার্চ করতে পারবেন কি, পারবেন না। অনেক ক্ষেত্রে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনাও নির্ভর করে।

আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে সম্পূর্ণ বিষয়টাকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। একটি রিসার্চ প্রপোজাল শুধুমাত্র ভর্তি প্রক্রিয়ায় সহায়ক তা নয়। ভর্তি পরবর্তী ইন্টারভিউতে বিষয়টিকে তুলে ধরতে হয়। এ ছাড়া বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারে ল্যাবভিত্তিক আলোচনা সভায় ক্লাসে অপশনাল সাবজেক্টের রিপোর্ট প্রেজেন্টেশন হিসেবে এবং ভবিষ্যতে পাবলিকেশনেও এটি সহায়ক হতে পারে।

আসুন এবার কীভাবে শুরু করা যায় রিসার্চ প্রপোজাল লেখা? প্রথমে আমরা আমাদের পছন্দের বিষয়ে অর্থাৎ যে বিষয়ে আমি রিসার্চ করতে ইচ্ছুক সে বিষয়ের ওপর গুগল স্কলার থেকে ৫-৬টি আর্টিকেল ডাউনলোড করে সব কটি পড়ে মূল বিষয়ের ওপর একটি তাত্ত্বিক ধারণা অর্জন করা। অতঃপর যেকোনো একটি সম্পূর্ণ আর্টিকেল অর্থাৎ যে আর্টিকেলের সাপোর্টিং ইনফরমেশন ও রেফারেন্সগুলো সহজলভ্য এরূপ আর্টিকেলটি সব বিষয়সমূহ অন্তত ৫-৭ বার সময় নিয়ে পড়া। সঙ্গে সঙ্গে তার মূল বিষয়টি ধরার চেষ্টা করা। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপের সার সংক্ষেপ নোট করা। এবার পুরো বিষয়টিকে কিছু সময় চিন্তা করে একটি স্কিম তৈরি করা। এবার অন্যান্য পঠিত আর্টিকেলগুলোর সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো সামগ্রিক তুলনা করলে একটা ধারণা জন্মাবে। এবার আসা যাক লেখার ব্যাপারটা।

আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু ধাপ অনুসরণ করি যা নিচে উল্লেখ করলাম। পুরো রিসার্চ প্রপোজালটিকে ছয়টি ধাপে ভাগ করা যেতে পারে।

প্রথম ধাপ: ইন্ট্রোডাকশন বা ওভার ভিউ ধাপ। এ ক্ষেত্রে আপনার পছন্দের সুনির্দিষ্ট বিষয়টির ওপর ও বর্তমান প্রয়োগ নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা। অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের ব্যাকগ্রাউন্ড আলোচনা করা।

দ্বিতীয় ধাপ: এক কিংবা দুই লাইনের সম্পূর্ণ বিষয়ের কিওয়ার্ডসগুলো লিপিবদ্ধ করা।

তৃতীয় ধাপ: এইম অব দ্য প্রেজেন্ট ওয়ার্ক। এই ধাপে আপনাদের দৃষ্টিতে আর্টিকেলের দুর্বল পয়েন্টটি প্রাপ্ত রেফারেন্সসহ উল্লেখ করুন। আপনি ছোটখাটো কোনো একটি পয়েন্টকে আপনার ভবিষ্যৎ কাজ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। এতে করে পয়েন্ট ভুল কিংবা অযৌক্তিক মনে হলেও প্রফেসরের দৃষ্টিতে আপনার আপনার আগ্রহটি প্রকাশ পাবে। সঙ্গে বিভিন্ন ড্রয়িং সফটওয়্যার ব্যবহার করে একটি স্কিম জুড়ে দেওয়া যায়। এই ধাপটি সবচেয়ে বেশি ফোকাস করা উচিত।

চতুর্থ ধাপ: এ ক্ষেত্রে অল্প কয়েক লাইনে আপনার বিষয়ের প্রায়োগিক দিক নিয়ে আলোচনা করা।

পঞ্চম ধাপ: এই ধাপে একটি টাইম ফ্রেম তৈরি করা যেতে পারে কোর্সের সময় অনুসারে। যেমন প্রথম ৩-৪ মাস স্টাডি করা, পরবর্তী এক থেকে দেড় বছর এক্সপেরিমেন্ট ও ক্যারেক্টারাইজেশন, সর্বশেষ প্রাপ্ত উপাত্ত একীভূত করে পাবলিকেশন, এসব উল্লেখ করা যেতে পারে।

ষষ্ঠ ধাপ: রেফারেন্স পঠিত আর্টিকেলসমূহের সঠিক রেফারেন্স উল্লেখ করা।

মো. জাবেদুল হক: শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান

সূত্র: প্রথম আলোfavicon59-4

Leave a Reply