ভিনদেশী ভাষা শিক্ষা

ভিনদেশী ভাষা শিক্ষা

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বাধা পেরুনো অনেকেরই স্বপ্ন থাকে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের। পছন্দের বিষয়, মানসম্মত পড়াশোনা, আর্থিক সহজলভ্যতা ও সামাজিক নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে কেউ কেউ ইউরোপকে বেছে নেন। কেউ কেউ আবার পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রাখেন যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে এক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় জিআরই বা জিম্যাট পরীক্ষা। এ তালিকায় রয়েছে আইইএলটিএস পরীক্ষাও। এসব পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলে ভর্তির শতভাগ নিশ্চয়তা তো থাকেই, পাশাপাশি বৃত্তি-উপবৃত্তির সুযোগও তৈরি হয়।

সিদ্ধান্তের পথে
জিম্যাট ও জিআরই- দুটো পরীক্ষাই স্টম্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য প্রযোজ্য। এর যে কোনো একটিতে বসতে হবে আগ্রহী শিক্ষার্থীকে। প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিতে হবে সেখানে ভর্তির যোগ্যতা। সাধারণত বাণিজ্যের বিষয়গুলোতে পড়তে চাইলে জিম্যাট স্কোরের প্রয়োজন হয়। আর মানবিক, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে জিআরই স্কোর দরকার পড়ে। দুটো পরীক্ষাতেই বসার আগে নিবন্ধন করে নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে আইইএলটিএসের নিবন্ধন প্রক্রিয়াও একই। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করেও পরীক্ষায় বসতে পারেন। অথবা পরীক্ষা দিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করা সম্ভব। জিম্যাট, জিআরই ও আইইএলটিএস ছাড়াও জার্মান, ফরাসি ও জাপানি ভাষা শিখে সংশ্নিষ্ট দেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে উড়াল দিতে পারেন।

আইইএলটিএস
ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষার নাম আইইএলটিস। এর পূর্ণ রূপ- ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম। ইংরেজিভাষী দেশে লেখাপড়া বা কাজ করতে যেতে চাইলে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা প্রমাণের জন্য আইইএলটিস পরীক্ষা দিতে হয়। যে কোনো বয়সের এবং যে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা সল্ফপম্ন মানুষ এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর এর প্রকারভেদ লক্ষণীয়।
পরীক্ষার ধরন এবং প্রকারভেদ : লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং- এই চারটি অংশ থাকে।

লিসেনিং : শুনে বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা হয় এই অংশে। রেকর্ড করা নির্দিষ্ট বক্তব্য বা কথোপকথন শুনে এ অংশে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের।
রিডিং : বুঝতেই পারছেন, এ অংশে পড়ার ওপর দক্ষতা যাচাই-বাছাই করা হয়।
রাইটিং : ইংরেজি ভাষায় লেখার দক্ষতা যাচাইয়ের এ অংশে পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তর লিখতে বলা হয়। প্রথম প্রশ্নে সাধারণত চার্ট, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি থাকে। এর ওপর ভিত্তি করে আপনাকে নিজের ভাষায় বিশ্নেষণধর্মী উত্তর লিখতে হবে। আর দ্বিতীয় প্রশ্নটিতে সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে মত বা যুক্তি উপস্থাপন করতে বলা হতে পারে।
স্পিকিং : এখানে তিনটি অংশে পরীক্ষার্থীদের মোটামুটি ১১ থেকে ১৪ মিনিটের পরীক্ষা দিতে হয়। প্রথম অংশে পরীক্ষার্থীকে কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয়। যেমন : পরিবার, পড়াশোনা, কাজ, বন্ধু ইত্যাদি। দ্বিতীয় অংশে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই মিনিট কথা বলতে হয়। এর আগে প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়া হয় এক মিনিট। তৃতীয় অংশে রয়েছে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষকের সঙ্গে চার-পাঁচ মিনিট কথোপকথন। কথা বলার ওপর দক্ষতা যাচাইয়ের এই অংশে দ্রুত কথা বলার ক্ষমতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে এবং ভালো মার্কস পেতে সাহায্য করবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব বকবক করার চেষ্টা করুন!

জিম্যাট
গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট বা জিম্যাটে মোট ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পরীক্ষা নেওয়া হয়। অ্যানালাইটিক্যাল রাইটিং ৩০ মিনিট, ইন্টিগ্রেটেড রিজনিং ৩০ মিনিট, ভারবাল ৭৫ মিনিট ও কোয়ান্টিটেটিভ ৭৫ মিনিট।
অ্যানালাইটিক্যাল : এ অংশে ৩০ মিনিটে একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তুলে দেওয়া একটি বক্তব্যকে বিশ্নেষণ করতে হয় এখানে।
ইন্টিগ্রেটেড রিজনিং : গ্রাফিক্স, টেক্সট, চার্ট ইত্যাদি বিশ্নেষণ করে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় এ অংশে। প্রশ্ন থাকে মোট ১২টি।
কোয়ান্টিটেটিভ : সাধারণ গণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি থেকে ৩৭টি প্রশ্ন থাকে।
ভারবাল : রিডিং কমপ্রিহেনশন, বক্তব্য বিশ্নেষণ ইত্যাদি থেকে ৩৭টি প্রশ্ন থাকে।

জিআরই
গ্র্যাজুয়েট রেকর্ডস এক্সামিনেশনস বা জিআরই হলো কম্পিউটার অ্যাডাপটিভ পরীক্ষা; অর্থাৎ কম্পিউটারে বসেই পরীক্ষা দিতে হয়। ২০১১ সালে এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন, এখন থেকে এতে কোনো প্রশ্ন বাদ দিয়ে পরের প্রশ্নে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। পরে সময় থাকলে আবার সেই প্রশ্নে ফিরে আসা যাবে। পরীক্ষার মোট সময়কাল ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। এতে ৬টি বিভাগ থাকে। প্রতি বিভাগের পর এক মিনিট বিরতি দেওয়া হয়। দুটি ভারবাল রিজনিং, দুটি কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং, একটি গবেষণামূলক ও একটি লিখিত অংশ।
কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং : ৩৫ মিনিটে ২০টি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে প্রতি অংশে। বীজগণিত, সাধারণ গাণিতিক হিসাব ও জ্যামিতির নানা প্রশ্ন থাকবে।
ভারবাল রিজনিং : প্রতিটি ভারবাল অংশে ৩০ মিনিটে ২০টি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সাধারণত ৪টি বা ৫টি উত্তর দেওয়া থাকবে। সঠিকটি বেছে নিতে হবে। শূন্যস্থান পূরণ, বাক্য সম্পূর্ণ করা, রিডিং কমপ্রিহেনশন ইত্যাদি ধরনের প্রশ্ন থাকবে। একটি প্রশ্নের একাধিক উত্তর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে উত্তরপত্রে দুটিই উল্লেখ করতে হবে। আংশিক উত্তর দিলে কোনো নম্বর পাওয়া যাবে না।
লিখিত পরীক্ষা : জিআরইর শুরুতে থাকে লিখিত পরীক্ষা। কম্পিউটারে লিখে পরীক্ষা দিতে হবে। এতে দুটি রচনা লিখতে হবে। একটি ইস্যু টাস্ক ও অপরটি আর্গুমেন্ট টাস্ক। কোনো বিষয়ে একটি বা দুটি প্যারা তুলে দেওয়া হতে পারে। এর সঙ্গে পরীক্ষার্থী একমত বা ভিন্নমত পোষণ করেন কি-না- তা লিখতে হবে। এর পাশাপাশি পরীক্ষার্থীকে তার নিজের পক্ষে যুক্তিও উপস্থাপন করতে হবে। আর্গুমেন্ট টাস্কেও একটি বক্তব্য তুলে ধরা হবে। পরীক্ষার্থীকে যুক্তি দিয়ে বলতে হবে- এই বক্তব্যে কী কী বিষয় অ্যাজাম্পশন করা বা ধরে নেওয়া হয়েছে। শূন্য থেকে ছয়ের মধ্যে স্কোর দেওয়া হবে।
জিআরই প্রস্তুতিবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পরীক্ষার্থী এ ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর চাইলে দেখতে পারবেন। কেমন উত্তর কেমন স্কোর হয়েছে- তাও দেখতে পারবেন। তা থেকে পরীক্ষার্থী নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে পারেন। এ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী কোনো স্পেল চেকারের সাহায্য নিতে পারবেন না।

জার্মান ভাষা
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক তথ্যের জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ডিএএডি। এখানেই পাবেন জার্মান ভাষা শেখা ও জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সব তথ্য-উপাত্ত। এটি গ্যেটে ইনস্টিটিউটে অবস্থিত। প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা-৫টা পর্যন্ত ‘জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা : মুখোমুখি আলাপ’ শীর্ষক কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত হয়। চাইলে তাতে অংশগ্রহণ করে নিজ লক্ষ্যে হাঁটতে পারেন। এ ছাড়া ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করা হয় এখানে। যোগাযোগ করতে পারেন এ ঠিকানায়- গ্যেটে ইনস্টিটিউট, বাড়ি-১০, সড়ক-৯ [নতুন], ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা। চাইলে ০২-৯১২৬৫২৫-৬, ৮১১০৭১২- ই নম্বরে ফোন করেও খোঁজ নিতে পারেন।

ফরাসি ভাষা
উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকের পছন্দ ফ্রান্স। ফরাসি ভাষা শিখে যেতে পারেন সে দেশে। চার মাস থেকে চার বছর মেয়াদে ফরাসি ভাষা শিখতে পারেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে। ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে রয়েছে বৃত্তির সুযোগ। যোগাযোগ করতে পারেন এ ঠিকানায়- আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ২৬ মিরপুর রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা। চাইলে ফোনেও যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে ৮৮-০১৬৭৮০৮৬৪৪২।

প্রস্তুতি পর্ব
ভিনদেশি ভাষা সংক্রান্ত এসব পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে নেমে পড়ূন। ভালো ফলের জন্য ব্যারনস, কাপলান, প্রিন্সটন ইত্যাদি বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনামূলক সহায়তা প্রদান করে থাকে; দ্বারস্থ হতে পারেন সেগুলোর। তবে এসবের বাইরে আপনাকে হতে হবে আত্মবিশ্বাসী।
অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের অভাবে কাগ্ধিক্ষত ফল অর্জনে ব্যর্থ হন। তাই দেরি না করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।
আত্মবিশ্বাস সঙ্গে রেখে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে হাঁটতে শুরু করুন কাঙ্ক্ষিত পথে।favicon59-4

Leave a Reply