জেফ বেজসের সাফল্যের মূলমন্ত্র

জেফ বেজসের সাফল্যের মূলমন্ত্র

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

বিল গেটসকে টপকে এখন পৃথিবীর সেরা ধনী অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী নিয়োগ ও তাদের পরিচালনা করার কারিশমাই নাকি এই সাফল্যের মূল কারণ! বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।


স্টিভ জবস, বিল গেটসের মতো বেজসের চলার শুরুটাও মসৃণ ছিল না। অফিস ভাড়া করার টাকা জোগাড় করতে না পেরে চেয়ার নিয়ে বসে পড়েছিলেন গ্যারেজের মধ্যেই। বিপণনে ছোটাছুটি আর পণ্য ডেলিভারির জন্য শুরুর সঙ্গী মাত্র ১০ জন। ডেলিভারির কাজে মাঝেমধ্যে হাত লাগাতেন নিজেও।

এখন তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। এ অবস্থানে পৌঁছাতে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি মূল ভূমিকা রেখেছে কর্মী পরিচালনার পদ্ধতি।

প্রতিষ্ঠানের মান বজায় রাখতে প্রায় ২০ বছর আগে কর্মী পরিচালনার জন্য তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন বেজস। আজও অ্যামাজনে বিষয়গুলোকে দেখা হয় সমান গুরুত্বের সঙ্গে।

এক.

বেজস বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের আমি আজ থেকে পাঁচ বছর পর প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান কল্পনা করতে বলি। পাঁচ বছর পরে যাতে পেছনে ফিরে আমরা বলতে পারি, আমাদের আসলেই অনেক উন্নতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর চিন্তাধারা জেনেই বোঝা যায় সে আসলে কত দূর ভাবতে পারছে। গৎ বাঁধা চিন্তাভাবনা এড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের মান বাড়ানোর দিকে তার নজরই কতটুকু হবে।

দুই.

প্রার্থীর মৌলিক গুণাবলি অ্যামাজনে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। যেমন—বানান জ্ঞানের সঙ্গে অ্যামাজনের কাজের তেমন কোনো সম্পর্ক না থাকলেও ১৯৯৮ সালে বানান প্রতিযোগিতা ‘ন্যাশনাল বি’ চ্যাম্পিয়নকে অ্যামাজনে নিয়োগ দিয়েছিলেন বেজস। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজের বাইরেও কর্মীদের অন্য কিছু গুণ বা শখও কাজের পরিবেশের উন্নতি ঘটায়। এমনকি কাজের সময় গান গেয়ে সবাইকে উজ্জীবিত করলেও প্রতিষ্ঠানের কাজের মান বাড়ে।

তিন.

অ্যামাজনে কর্মী নিয়োগে জড়িত কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠিতে বেজস লেখেন, আমি সব সময় তাদের সঙ্গেই কাজ করতে চাই, যাদের কাছে আমি নতুন কিছু শিখতে পারব। প্রতিষ্ঠানের জন্য যে নতুন কিছু যুক্ত করতে পারবে এমন কাউকেই যেন নেওয়া হয়।

এই তিন বিষয় ছাড়াও অ্যামাজনের সাফল্যে তাদের নীতিমালায় থাকা নিচের নির্দেশনাগুলো কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে আলোচনা আছে।

১. প্রতিদ্বন্দ্বীরা কি করছে না করছে সেদিকে নজর না দিয়ে গ্রাহকদের মন জয়ে চেষ্টা করা।

২. দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলকে প্রাধান্য দেওয়া।

৩. কর্মীদের প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনে তাগিদ দেওয়া। উদ্ভাবনগুলো সরলভাবে উপস্থাপন করা।

৪. নেতৃস্থানীয় কর্মীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা। অন্যদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া।

৫. শেখার ইচ্ছা ও কৌতূহলী হওয়া। অ্যামাজনের কর্মীরা ‘শেখার কোনো শেষ নেই’ নীতিতে বিশ্বাসী।

৬. যাদের মেধা আছে এবং প্রতিষ্ঠানের সব বিভাগে কাজ করার ইচ্ছা আছে তাদেরই নিয়োগ দেওয়া।

৭. সব সময়ই কর্মীদের ভালো মানের পণ্য, সেবা সরবরাহ এবং এর ক্রমোন্নতির জন্য মানদণ্ড বজায় রাখতে কর্মীদের তাগিদ দেওয়া।

৮. সাহসী দিকনির্দেশনা।

৯. আস্থা অর্জন।

১০. অমত থাকলে তা জানানো।

সূত্র: এন্ট্রাপ্রেনার ডটকম

Leave a Reply