আগে নিজেকে তৈরি করতে হবে

আগে নিজেকে তৈরি করতে হবে

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

অনেক কিছুই করতে পারে অনিক! ফেসবুকে দারুণ দারুণ নামে পেজ খুলে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে। কখনো আবার তাকে দেখা যায় শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যালের কর্মশালায়। বেশ ভালো লেখালেখিও করতে পারে সে। গুণগুণ করে যে গান গায়, সেটাও শুনে বাহ্ বাহ্ করে বন্ধুরা! সমস্যা হলো, যখনই তাকে কেউ একটা শর্টফিল্ম বানাতে বলে, বাজেটের অজুহাত দেখায় সে। অথবা পাড়ার কনসার্টে গান গাইতে বললেও তাকে পাওয়া যায় না, কারণ তার মূল্যবান কণ্ঠ সে বিনামূল্যে দিতে রাজি নয়! আচ্ছা বলুন তো, অনিক যে অনেক কাজের কাজী এটা মানুষকে জানাতে হলেও তো তার আগে নিজেকে প্রকাশ করতে হবে, তবেই না তার কথা সবাই জানবে, তার পরিচিতি বাড়বে! আপনিও কি নানা অজুহাতে নিজেকে এমন গুটিয়ে রাখতে চান? নিশ্চয়ই না। নিজেকে প্রকাশ করুন, আর বুঝিয়ে দিন আপনি কত কী পারেন! প্লাটফর্ম তো প্রতিদিনই আপনাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে! আপনি নিজেকে শূন্য ভাবলে চলবে না। যখন অন্যরাও আপনার গুরুত্ব বুঝবে তখনই তা কাজে আসবে। এই পৃথিবীর কেউই পরিপূর্ণ নয়, প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দুর্বলতা আছে। নিজেকে জানুন। কোন কোন কাজে আপনি বেশি সামর্থ্যবান, আর কোন কোন কাজে আপনি দুর্বল তা জেনে নিন এবং দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। দুর্বলতা আমাদের সবারই আছে; কিন্তু যে যতটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে পারে, সেই তত বেশি সফল হতে পারে। নতুন কোনো কাজকে এড়িয়ে যাবেন না, চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করুন। আপনার অব্যাহত চেষ্টা আপনাকে অন্য এক উচ্চতায় যেতে সাহায্য করবে। চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফল হলে আপনার আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়ে যাবে বহুগুণ, অন্যের কাছেও আপনার যোগ্যতা আপনি প্রমাণ করতে পারবেন।

বাবা-মায়ের কাছে আপনি যখন প্রথম ‘অ, আ’ শিখছিলেন, তখন পারছিলেন না কিছুই। কিন্তু বাবা-মা হাল ছাড়েননি। যার ফলে একসময় ঠিকই শিখে গিয়েছিলেন। আর তার ফলাফলস্বরূপ আজকে এই লেখাটি পড়ছেন। আপনার কর্মক্ষেত্রের প্রতিটা সমস্যার সমাধানও আপনাকে নিজে থেকেই করতে হবে। আর তার জন্য আপনাকে করতে হবে চেষ্টা। হাল ছাড়া যাবে না। বারবার চেষ্টা করে যান। প্রতিটি চেষ্টা আপনাকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আপনি যে ক্ষেত্রে কাজ করছেন, সেই ক্ষেত্রে হয়তো আগে কেউ সফলভাবে কাজ করে গেছেন। অথবা করছেন। ক্ষেত্র নতুন হলেও বলা যায় আশপাশে কেউ না কেউ অনেকটা একইরকম কোনো প্রকল্পে কাজ করছেন। আমরা সর্বদা যে ভুলটা করি তা হলো তার গতিবিধি, কর্মপদ্ধতি থেকে কিছু শেখার চেষ্টা না করে তাকে হিংসা করা শুরু করি। আর এখানেই আমরা পিছিয়ে পড়ি। আমরা খুব অনায়াসে তার সফলতাকে আমাদের অনুপ্রেরণাতে রূপান্তরিত করতে পারি। তার পথ অনুসরণ করতে পারি। অথবা আমাদের পথের অনেক আগাম সমস্যা আমরা তাকে অনুসরণ করে আগে থেকেই সমাধান করতে পারি, আর সমাধান করতে না পারলে অন্তত প্রস্তুত তো থাকা যায় এক্ষেত্রে।

ধরুন, আপনি সিঁড়ি দিয়ে একটা ভবনের ত্রিশ তলাতে উঠবেন। যখন পাঁচ তলাতে উঠলেন, কিছুটা ক্লান্ত আপনি। যখন দশ তলাতে উঠলেন, তখন আপনি যতটা না ক্লান্ত তারচেয়ে বেশি ভেঙে যাচ্ছে আপনার মনোবল তখন মনে হচ্ছে—আরও বিশ তলা তো বাকি। কিন্তু আপনি যদি আপনার সেই একই পথ একই কষ্ট স্বীকার করে ভাবনা অথবা দৃষ্টিভঙ্গিটাকে পাল্টিয়ে ফেলেন তো কী হবে? একবারে ত্রিশ তলা হিসাব না করে দশ তলা করে তিন বার ভাবুন। তখন দশ তলাতে ওঠার পর আপনার মনে হবে, তিন ভাগের এক ভাগ শেষ করে ফেলেছি আর মাত্র দুই ভাগ বাকি। পেরে যাব। গাণিতিকভাবে ঘটনা সমান হলেও মনস্তাত্ত্বিকভাবে আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। মাঝে মাঝে ভিন্ন কিছু করুন, যা আপনার ভালো লাগে, যা আপনার শখ। নিজেকে মাঝে মাঝে সময় দিলে আপনি সপ্তাহের বাকি কর্মদিবসগুলোতে কর্মস্পৃহা ফিরে পাবেন। জীবন অথবা ক্যারিয়ার যেখানেই সফল হতে চান, তার জন্য আগে নিজেকে তৈরি করুন, নিজেকে ভালোবাসুন এবং নিজেকে জানুন।

সূত্র: ইত্তেফাক

Leave a Reply