পড়ার বিষয় ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন’

পড়ার বিষয় ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন’

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

বাংলাদেশের আইন শিক্ষা ব্যবস্থা একটি সনাতন ধর্মী শিক্ষা ব্যবস্থা। এই শিক্ষা ব্যবস্থায় ভূমি আইনকে একটি বিষয় হিসেবে পড়ানো হয় মাত্র। শুধু কয়েকটি বিষয় পড়ার মাধ্যমে ভূমি আইনের ব্যাপকতা বোঝা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে ভূমি একটি দুষ্প্রাপ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। যদিও আইনে এর সুষম বণ্টনযোগ্যতা নিশ্চিতের একটি রাষ্ট্রীয় দায় রয়ে গেছে। অথচ আইনে এই বিষয়টির তেমন স্বীকৃতি চোখে পড়ে না।

২০১৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ল’ এন্ড ল্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন নামে বিভাগটি চালু হয়। ঠিক ঐ বছর ১৯ এপ্রিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৩৬তম সভার সুপারিশে ও ২৮ এপ্রিল ২০১৬ সালের সিন্ডিকেটের ৭১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন’ বিভাগটি জন্ম লাভ করে। ২০১৭ সালে এই বিভাগটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে আইন অনুদের ডিন, সহযোগী অধ্যাপক খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন এই বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।

‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন’ বিভাগে আইনের মূল পাঠ্য বিষয়সহ ভূমি পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিশেষ বিষয়গুলো পাঠদান করা হয়। যার মাধ্যমে একজন ছাত্র কর্মজীবনে সহকারী বিচারক, বিচারিক হাকিম, দেওয়ানি/ ফৌজদারি/ আয়কর আইনজীবী হিসেবে যোগদানের জন্য একাডেমিক ভাবে প্রস্তুত হতে পারবে। অধিকন্তু তারা ভূমির প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ভূমির যথাযথ ও টেকসই ব্যবহার নীতি নির্ধারণ, দিয়ারা জরিপ, উপকূলীয় ও পাহাড়ি ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আইন’ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম মাসুম বিল্লাহ, যিনি ভূমি আইনের রাজনীতি বিষয়ে ডক্টরেট করেছেন তার মতে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিষয়টি শিক্ষার তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক   দাবি দু’-ই মেটাবে। আইনের স্নাতকরা যে যে কাজ করতে পারবে, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও   আইনের শিক্ষার্থীরা সেসব তো পারবেই,  অধিকন্তু ভূমি বিষয়ক জ্ঞানে এদের বেশি দখল থাকায় ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রে এদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। আমার অনুমান, ভূমি বিষয়ক মামলা নিরসন, ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনে আত্ম-বৈষ্যয়িক বিষয়ে তাদের বিশেষ প্রধান্য সৃষ্টি হবে।

‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন’ বিভাগ একটি চমত্কার গবেষণার পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে, যা আইন ও ভূমি সংক্রান্ত গবেষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ফলশ্রুতিতে একজন ছাত্র আইন ও ভূমি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নিজেকে উপযুক্ত রূপে প্রস্তুত করতে সক্ষম হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক

Leave a Reply