অনলাইনে পড়াশোনা

অনলাইনে পড়াশোনা

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন রুটিন করে অনলাইনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। বিশ্বের প্রায় সব দেশে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় এ হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সার্চ বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের কাছে অতি জনপ্রিয় বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামের বিষয়ে সার্চ করেন অনলাইনে। এসব সার্চের তথ্যের ভিত্তিতে ভিন্নরকম তালিকা তৈরি করেছে সার্চ জায়ান্ট গুগল।

সচরাচর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা থেকে এটি আলাদা। অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সার্চের ভিত্তিতে গুগল প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই বিশ্বের অনেক নামি বিশ্ববিদ্যালয়। জানি, নিজের কথা ভাবছেন। স্মার্টফোন থেকে চোখ সরে না এখন আপনার। দিনমান তাতে ডুবে থাকছেন! অনলাইন স্কুল এখন আপনার বন্ধু। এই অনলাইন স্কুলের উত্তাল দুনিয়ায় আপনি হাবুডুবু খাচ্ছেন। চাইলেই যে কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে নিতে পারছেন। যে বিষয়টা বুঝতে পারছেন না তাও বুঝে নিতে পারছেন। এ ছাড়াও ঘরে বসে নিতে পারছেন বিদেশি নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি।

এই রঙিন দুনিয়ায় ডুব মেরে আবার উঠতে ভুলে যাবেন না কিন্তু!

টেন মিনিট স্কুল
অনলাইন মানে আপনি কই আছেন তা কোনো ব্যাপার না। যেখানেই থাকুন সেখানে বসে সহজেই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারছেন। বিশেষত ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থী যারা, তাদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ ও ভালো একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে রবি-টেন মিনিট স্কুল। জেএসসি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত এডুকেশন কন্টেন্ট প্রচার করছে তারা। তাদের ফেসবুকের লাইভ ফিচার ব্যবহারকারী লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এই প্ল্যাটফর্ম।

যাত্রা শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই রবি-টেন মিনিট স্কুল দেশের শীর্ষ অনলাইন স্কুলে পরিণত হয়েছে। তাদের প্রতিটি ডিজিটাল ক্লাসরুমে কমপক্ষে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারে। রসায়নের নানা বিক্রিয়া, গণিতের বিভিন্ন কঠিন ধারণা বোঝানো বা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞানের সম্পর্ক ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে প্ল্যাটফর্মটি। শুধু তাই নয়, ফেসবুকের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির স্কিল ডেভেলপমেন্ট ল্যাবের আওতায় পাওয়ার পয়েন্ট বা ইলাস্ট্রেটরের মতো সফটওয়্যারের টুলগুলো নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ফেসবুকে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের মাধ্যমে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সুযোগ এনেছে তারা। এ ছাড়াও অসংখ্য অনলাইন স্কুল গড়ে উঠেছে দেশে।

গুগল যা বলে
গুগল সার্চের ওপর ভিত্তি করে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের অনলাইন প্রোগ্রামে অতি আগ্রহের ফলে এক নামে পরিচিত বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ঠাঁই পায়নি এ তালিকায়। গুগল প্রকাশিত শীর্ষ ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় আছে ভারতের পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়।

এই তালিকা থেকে খুব সহজেই বোঝা যায় যে, শিক্ষার্থীরা গতানুগতিক ক্যাম্পাস প্রোগ্রামের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্রোগ্রামের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। অন্তত সার্চের ফলাফল তাই বলছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনার ইউনিভার্সিটি অব ফিনিক্স রয়েছে গুগল প্রকাশিত তালিকার শীর্ষে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ই-ক্যাম্পাস প্রোগ্রাম অনেক জনপ্রিয়। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রাম ছাড়াও অনেক শর্ট কোর্স রয়েছে গত শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির।

শুধু অনলাইন প্রোগ্রামে এগিয়ে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের সার্চ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি পেছনে ফেলেছে হার্ভার্ড, স্টানফোর্ড ও কলম্বিয়ার মতো বিশ্ববিদ্যালয়কে। অনলাইন টাস্ক ম্যানেজমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় টেকশহর, এরপর রয়েছে আরেক নামি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। অনলাইন প্রোগ্রামের অগ্রপথিক বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে। এটির প্রোগ্রাম সবসময়ই আপডেট থাকে বলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে।

ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে শিক্ষার্থীদের সার্চের তৃতীয় অবস্থানে আছে দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি। যুক্তরাজ্যের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন বা ই-ক্যাম্পাস ইউরোপের দেশগুলোর অনলাইন পড়াশোনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহের কারণে উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্রোগ্রামে। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সার্চ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এশীয় ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো এগিয়ে।

তালিকায় উঠে আসছি আমরাও
ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্স প্রদান করে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান ইউকে ইউনিভার্সিটি থেকে সার্চে এগিয়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে ইডিএক্স ও ফিউচারলার্ন। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, চতুর্থ অবস্থানটি একটি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। কেরালার কালিকাট বিশ্ববিদ্যালয়। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অনলাইন ডিগ্রির আগ্রহ বা টেকনোলজির ব্যবহারে তাদের এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি প্রমাণ। গুগলের তালিকার শীর্ষ ১০-এ রয়েছে আরও একটি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। চেন্নাইয়ের আন্না বিশ্ববিদ্যালয়। যার অবস্থান ৬ নম্বরে। মাঝের অবস্থানটি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার।

তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এখন পিছিয়ে নেই। শিগগিরই বাংলাদেশি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায় স্থান করে নিলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না!

বিশ্নেষকদের চাওয়া
শিক্ষার্থীদের কাছে যেতে এবং নিজেদের গুরুত্ব বোঝাতে ইন্টারনেট এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনলাইনে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন কোর্স ক্রমবর্ধমান হারে বাড়াচ্ছে। ইন্টারনেট আগ্রহের কারণে ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে ই-ক্যাম্পাসভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্নেষকদের মতে, এ কারণে প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন নতুন করে ভাবতে হবে। পরিকল্পনা করতে হবে, তারা কি পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে এগিয়ে যাবে, না খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা না করে ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যাবে।

যদিও ইন্টারনেট বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ। অনলাইন ডিসিশন নিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এখন শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে।

অ্যাপসের দুনিয়া
চলুন, এবার নিজেকে গড়ার কিছু অ্যাপে মন দিই-

এভারনোট : কাগজ-কলম নিয়ে এখন কেউ ঘোরে না। তাই বলে কাগজ-কলমের কাজ কি থেমে থাকবে! এখন তরুণদের কাছে আছে হ্যান্ডনোটের বিকল্প ডিজিটাল অ্যাপস এভারনোট।

গুগল : অল ইন ওয়ান কেবল গুগলের ক্ষেত্রেই যেন সাজে এখন। যে কোনো বিষয়ে জানতে চান তো গুগলে যান।

ম্যাপস : নতুন কোনো জায়গায় যাবেন, চিন্তার কিছু নেই। ফোনে ম্যাপস অ্যাপসটি ডাউনলোড করে রাখুন।

বই পোকা : বাংলা সব ক্লাসিক বই পড়তে চাইলে এই অ্যাপের সাহায্য নিতে পারেন অনায়াসে।

ডিকশনারি : মোটা ডিকশনারির ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে ডিকশনারি অ্যাপস ডাউনলোড করুন। এতে যে কোনো সময়, যে কোনো শব্দ ঝটপট খুঁজে নিতে পারবেন।

তথ্য অধিকার আইন : বলা হয়, ‘তথ্য যার কাছে যত বেশি, সে-ই ধনবান।’ বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানা যাবে এই অ্যাপের মাধ্যমে। যে কোনো সমস্যার সমাধান কিংবা যে কোনো জায়গায় গিয়ে কীভাবে তথ্য চাইতে হবে, তথ্য পাওয়ার আবেদন ফরমসহ পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যাবে এই অ্যাপের মাধ্যমে।

সুইফট কিবোর্ড : এটি একটি কিবোর্ড। স্মার্টফোনে টাইপ করার সহজ পদ্ধতি হচ্ছে এই কিবোর্ড। বাংলাসহ আরও পাঁচটি ভাষায় এই কিবোর্ডে টাইপ করা যায়।

গুডরিডস : বইয়ের সব খবরা-খবর দিতে সাহায্য করবে এই অ্যাপ।

অ্যামাজন কিন্ডল : ইতিহাস, কল্পকাহিনী, ব্যবসা, রাজনীতি, ভৌতিক, অ্যাকশন আরও নানা বিষয়ে বই এখানে পাওয়া যায়। তবে এই অ্যাপে বই পড়তে হলে টাকা গুনতে হবে।

গুগল প্লে বুকস : অ্যাপসটিতে বইয়ের পাহাড় আছে বলতে হবে। সুবিধার দিকটি হচ্ছে এখানে অফলাইনে পড়ার সুবিধা আছে।

অডিবল : যাদের চোখে সমস্যা, তাদের জন্য আছে অডিবল অ্যাপ। এর জন্য বইয়ে চোখ রাখার প্রয়োজন পড়বে না। অ্যাপই আপনাকে বই পড়ে শোনাবে।

এ ছাড়া আড্ডা, আবেগ, অনুভূতি সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন পেয়ে যাবেন অ্যাপ। এই অ্যাপ আপনাকে সহজেই বিশ্ব নাগরিক করে তুলবে। অনায়াসে অনলাইন স্কুল আর অ্যাপের সাহায্য নিয়ে পৃথিবীর যেই প্রান্তেই থাকুন বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিতে পারবেন উচ্চশিক্ষার সনদ, এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন স্বপ্নের সঙ্গে নিজেকেও!

সূত্র: সমকাল

Leave a Reply