আপনার স্বপ্নের কাজের জন্য ইন্টারভিউ: ২০টি পয়েন্ট নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে

আপনার স্বপ্নের কাজের জন্য ইন্টারভিউ: ২০টি পয়েন্ট নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে

  • কে এম হাসান রিপন

একটি কাজ পাওয়ার অন্যতম অংশ হচ্ছে ইন্টারভিউ। অনেকেই আছে, যারা প্রচুর মেধাবী। কিন্তু সঠিকভাবে ইন্টারভিউ না দিতে পারায় কাজ পাওয়া হয়ে ওঠে না। একটি সফল ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রয়োজন বিশেষ কিছু প্রস্তুতি, সফ্ট স্কিলস এবং কিছু জ্ঞান। আমরা প্রায় কমবেশী ১৬/১৭ বছর পড়াশুনা করার পর কাজ পাওয়ার বা কাজ চাইবার যোগ্যতা অর্জন করি। আবার অনেকে আরো আগেই সে যোগ্যতা অর্জন করে থাকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি কাজ পাওয়ার অনেক আগে থেকেই নিজের মনোভাব, দক্ষতা এবং জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে নিতে হয়। সাধারনত আমরা ইংরেজীতে যেটাকে বলি “Attitude, Skills & Knowledge (ASK) model”

আপনার পরবর্তী যেকোন ইন্টনভিউতে যাবার আগে আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন আসলে ইন্টারভিউ কত ধরনের হয়ে থাকে। সাধারনত আমরা ৬ ধরনের ইন্টারভিউর দেখা পাই।

১. ট্রেডিশনাল ওয়ান টু ওয়ান ইন্টারভিউঃ আপনি যে কাজের জন্য আবেদন করেছেন তার পরিচালক যখন আপনার সাথে একান্তে আলোচনার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানান।

২. প্যানেল ইন্টনভিউঃ পতিষ্ঠানের একাধিক ব্যক্তিরা মিলে যখন আপনার সাক্ষাৎকার গ্রহন করেন। এ ধরনের একটি প্যানেল সাধারনত ঐ প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী বা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের দক্ষ ব্যক্তিদের দ্বারা গঠন করা হয়।

৩. বিহেভিয়র ইন্টনভিউঃ এ ক্ষেত্রে কাজদাতা কাজ প্রত্যাশীকে ঐ পদের সাথে মিলিয়ে পূর্বের কোন অভিজ্ঞতার আলোকে আচরনগত প্রশ্ন করে জানার চেষ্টা করে থাকেন যে ঐ সময়ে তার পদক্ষেপগুলো কি ছিল।

৪. গ্রুপ ইন্টনভিউঃ এ ধরনের ইন্টরভিউতে প্রতিষ্ঠান একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সকল কাজ প্রত্যাশীদের একসাথে ডেকে কাজ, প্রতিষ্ঠান এবং প্যাকেজ সম্পর্কে জানাবার পর প্রাথমিক সিলেকশন
করে থাকেন।

. ফোন ইন্টারভিউঃ এখানে কাজদাতা কাজ প্রত্যাশীকে ফোনের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করেন যে তিনি কাজ এবং কাজের ধরন সম্পর্কে জানার পর তার মতামত কি। যদি সন্তোশজনক হয় তাহলে তাকে ফরমাল ইন্টারভিউতে ডাকবেন।

৬. লাঞ্চ ইন্টারভিউঃ অনেক সময় দ্বিতীয় ইন্টারভিউ হিসেবে কাজদাতা কাজ প্রত্যাশীকে ডাকেন যেখানে প্যানেলে নতুন আরো কিছু সদস্য কে যুক্ত করেন যারা প্রশ্নের মাধ্যমে দেখার টেষ্টা করেন আপনি কতটুকু দক্ষ কাজটির জন্য।

ইন্টারভিউ হচ্ছে কাজদাতা এবং কাজপ্রত্যাশীর মধ্যকার আলোচনা। একজন কাজপ্রত্যাশী চান নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান আর কাজদাতা চান একজন যোগ্য, দায়িত্ববান কর্মী। তাই দুজনেরই লক্ষ্য যেহেতু টেকসই সেহেতু টেকসই কিছু অর্জনে ইন্টারভিউ হচ্ছে আপানার প্রথম পদক্ষেপ। এ প্রথম পদক্ষেপটাই আপনাকে হয়তো বড় একটি ক্যারিয়ারের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে “Talent will get you in the Interview Door but Character will keep you in the Room”. এখানে ট্যালেন্ট বলতে বোঝানো হয়েছে যেসকল জ্ঞান এবং দক্ষতার কারনে আপনাকে একজন কাজদাতা কাজে লাগাবার উদ্দেশ্যে ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু এখানে আমাদের সকলের স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে কাজের নিশ্চয়তা আমি পাবো আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ঠের কারনে। ইন্টারভিউতে আমার আত্মবিশ্বাস, কর্মদক্ষতাকে সঠিকভাবে নিদৃষ্ট জায়গায় ব্যবহার করার ক্ষমতা, আচার-আচরন কে বিবেচয় রেখে আমাকে কাজ দেবার স্বীদ্ধান্ত নেওয়া হয়।       

ইন্টারভিউর ক্ষেত্রে প্রথম যে কাজটি করণীয় সেটি হচ্ছে ইন্টারভিউকে কখনোই সাধারণ কোনো বিষয় হিসেবে নেয়া যাবে না। কাজপ্রত্যাশীর লক্ষ্য হওয়া উচিত, ”আমি ইন্টারভিউতে অবশ্যই অংশ নেব এবং জয় করে তারপর ফিরবো’। ইন্টারভিউর আগে, ইন্টারভিউ চলাকালীন এবং ইন্টারভিউ পরবর্তী বেশ কিছু করণীয় থাকে। এখানে সে বিষয়গুলো মূলত আলোচনা করা হবে।

  1. প্রথমেই বলি ইন্টারভিউয়ের আগের প্রস্তুতির বিষয় সম্পর্কে। প্র‍থমে ভাবতে হবে, এই কাজটির সুযোগ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে এবং কেন এসেছে? এটি ভালো করে জানতে পারলেই অনেক প্রশ্নের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সাথে দেয়া সহজ হয়ে যায়। সাথে সাথে জানতে হবে কোন সূত্র থেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক এলো। ইন্টারভিউয়ের ডাক আসার পরে আপনার প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনি অবশ্যই ইন্টারভিউতে সময়ের অন্তত ২০ মিনিট অংশগ্রহণ করছেন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইন্টারভিউতে যেতে চেয়েও অনেকের যাওয়া হয় না। সেক্ষেত্রে পরবর্তিতে ঐ প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে আর তাকে ডাকা হয় না, এককথায় কালো তালিকায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  2. ইন্টারভিউয়ের আগে আরেকটি কাজ করতে হয় আর সেটি হলো ”হোমওয়ার্ক”। ইন্টারভিউতে জানতে চাওয়া হতে পারে যে, আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যাচ্ছেন, সেটা সম্পর্কে কতটুকু জানেন বা খোঁজ নিয়েছেন। আর সেজন্যই বাড়িতে বসে সেই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় বিষয়গুলো জেনে তারপর ইন্টারভিউয়ে যাওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যেমনঃ
  3. প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট ভিজিট করে সহজেই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। অথবা এমন কোন তথ্য যেমন বিগত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন ঘেটে আপনি জানাতে পারেন আপনি কোথায় কিভাবে কাজ করে আরো উন্নত ফলাফল নিয়ে আসতে পারেন।
  4. প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের এখন নিজস্ব সোস্যাল মিডিয়ায় পেজ আছে যেমন Facebook, LinkedIn, YouTube, Instagram যেখানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্নকার্যক্রম তুলে ধরা থাকে, সেখান থেকেও অনেক তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
  5. Google কে ব্যবহার করেও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।
  6. কাজের বিবরণী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক সময় আমরা দেখতে পাই কাজ প্রত্যাশী বেশীরভাগ মানুষ কাজে বিবরণী না পর্যালোচনা করেই ইন্টরভিউ দিতে চলে আসেন যা কোনভাবেই কাম্য নয়। বরং কাজের বিবরণীকে পর্যালোচনা করে সে মোতাবেক তার সিভি তৈরী করে ইন্টরভিউতে অংশ নিতে হবে।
  7. পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী কাছ থেকেও যদি তথ্য সংগ্রহ করা যায় তাহলে তাই করতে হবে ইন্টারভিউর কক্ষে প্রবেশের পূর্বে।
  8. ইন্টারভিউয়ের পূর্বমুহূর্তের কিছু প্রস্তুতি অবশ্যই নিতে হবে। যেমন আপনার একাডেমিক কাগজপত্র, সনদপত্র, বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সনদ এবং অন্য কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা এবং ফোল্ডারে সাজানো আছে কিনা দেখে নিতে হবে। এখন অনেক চমৎকার ফাইল/ফোল্ডার অনেক কম দামে পাওয়া যায়। এতে দুটি সুবিধা হবেঃ একটি কাজদাতার চাহিদা অনুযায়ী তৎখনাত আপনি দিতে পারছের এবং দ্বিতীয়টি হলো আপনি যে অত্যন্ত গোছানো একজন কর্মী সেটা প্রমানীত হয়ে গেলো।  
  9. ইন্টারভিউতে একটা কমন প্রশ্ন হলো, নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন। এখানে আপনি একটি সুযোগ পেলেন নিজের ব্যক্তিগত চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ, দক্ষতা এবং জ্ঞানকে কাজদাতার সম্মুখে প্রকাশ করার। এক্ষেত্রে প্রচুর পরিমানে অণুশীলন করতে হবে যেন ঘাবরে গিয়ে এই চমৎকার সুযোগটি নষ্ট করে না ফেলেন। মনে রাখতে হবে এই সুযোগটি হলো নিজের জন্য তৈরি করা একটি বিজ্ঞাপন চিত্রের মতো। ৬টি ভাগে আপনি আপনা উত্তরকে সাজাতে পারেন:
  10. প্রথমেই আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শক্তি (Strength) সেটা দিয়ে শুরু করুন যেমন: Commitment, Critical Thinking, Leadership Quality, Patience ইত্যাদি
  11. দ্বিতীয়ভাগে আপনি আপনার সেই শক্তি বা সামর্থ্যকে কিভাবে আপনার পূর্বের কর্মক্ষেত্রে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রয়োগ ঘটিয়ে আশানুরুপ ফলাফল এনে দিয়েছেন।
  12. তৃতীয়তো ধরুন আপনার পূর্বের কর্মক্ষেত্রে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আপনার সরাসরি উপস্থিতির কারনে ৮০% সফলতা বা এক লক্ষ টাকা অর্জিত হয়েছে, আপনি সেটা আত্মবিশ্বাস মনোভাব নিয়ে বলে ফেলুন
  13. চথুর্থতো বর্তমান সুযোগটি আপানার দক্ষতা উন্নয়নে কিভাবে কাজ করবে এবং আপনি প্রতিষ্ঠানকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন।
  14. সবচেয়ে বড় যে ভুল করি তা হলো মুখস্তবিদ্যার মতো সিভিটাকে পড়তে থাকি এবং যথারীতী কাজ পাবার থেকে অনেক দুরে সরে যাই।  
  15. সময়কে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। জায়গার দূরত্ব, যানজট, সব কিছু মাথায় রেখে কমপক্ষে ইন্টারভিউর ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ভালো। এতে যে সুবিধা হয় তা হলো ইন্টারভিউয়ের স্থানে গিয়ে একটু ফ্রেশ হওয়া যায়। ইন্টারভিউ কক্ষে ঢুকার সময় যেন আপনি সতেজ এবং ফ্রেশ থাকেন সেটা অবশ্যই মাথায় রাখা উচিৎ।
  16. আমার কাছে একটি প্রবাদ অত্যন্ত প্রিয় “First Impression is the Best Impression”. আমার বাবা আমাকে বলতেন জানো আমরা যেকোন আমন্ত্রনে আমার সবচেয়ে ভালো পোষাকটি কেন পরিধান করি? কারন আমি যখন আমার সবচেয়ে ভালো পোষাকটি পরে অনুষ্ঠানে গেলাম তখন যিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি উপলব্ধী করেন যে আমি তার আমন্ত্রণকে সম্মান জানালাম। এটি শোনার পর আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার সবচেয়ে ভালো পোষাকটি পরিধান করবার।  ইন্টারভিউর পোশাক অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। ইন্টারভিউর জন্য পরিপাটি পরিস্কার পোশাক পরিধান করা অত্যন্ত জরুরী। সবচেয়ে ভালো হয় আলাদা করে শুধুমাত্র ইন্টারভিউর জন্য একসেট পোষাক রেখে দেয়া। পোশাক অনেক সময় ইন্টারভিউ গ্রহণকারীর কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। সাধারণ রঙের পোশাক এক্ষেত্রে উত্তম। বেশি গাঢ় রঙের পোষাক না পরিধান করাই ভালো। মেয়েদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় দেখা যায় যে, তারা প্রচুর পরিমানে মেকাপ দিয়ে বা খুব কড়া পারফিউম দিয়ে ইন্টারভিউতে যাচ্ছেন। এটা  না করাই ভলো। ইন্টারভিউর পোষাক নিয়ে আমি আলাদা একটি ভিডিও করেছি যেখানে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি কি পরিধান করা উচিৎ। 
    লিংক: http://youtube.com/kmhasanripon  
  17. ইন্টারভিউ রুমে গিয়ে কিছু প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। যেমন ইন্টারভিউ রুমে গিয়ে হাসিমুখে থাকাটা শ্রেয়। ইন্টারভিউ রুমে আপনি সিওর হয়ে নিন যে, আপনার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করেছেন। অনেক সময় ইন্টারভিউর মাঝে অনেকের ফোন বেজে ওঠে। অনেকে আবার সেখানে ফোন রিসিভ করে কথা বলা শুরু করেন। এগুলো করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। এমনকি কে আপনকে ফোন করলো সেটাও না দেখে সরাসরি ফোন বন্ধ করে দিতে হবে। এতে করে কাজদাতা বুঝতে পারবেন এই ইন্টারভিউটিকে আপনি কতখানি গুরুত্ব দিচ্ছেন।  
  18. আরেকটি বিষয় হলো হাত মেলানো। অনেক সময় ইন্টারভিউ কক্ষে হাত মেলানোর জন্য যখন কাজদাতা হাত বাড়িয়ে দেন, তখন কাজপ্রত্যাশী খুব অস্বাভাবিক বা আত্মবিশ্বাসহীনভাবে হাত মেলান। হাত মেলানোর ক্ষেত্রে হাসিমাখা মুখ নিয়ে Smartly এবং Friendly হতে হবে। ইন্টারভিউ কক্ষে চেয়ারে বসা নিয়েও আমাদের অনেক ঝামেলা হয়। সবসময় যেকোন মুহুর্তে সোজা হয়ে বসা অত্যন্ত জরুরী। চেয়ারে আরামে হেলেদুলে বসে কথা বলা একটু যেন কেমন দেখায়। আবার অনেকে  ইন্টারভিউ ‍দিতে এসে টেবিলে থাকা বিভিন্ন জিনিস নিয়ে খেলতে শুরু করে দেন যেটা একদম উচিৎ নয়। অনেকে আবার গোমরা মুখে না তাকিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করেন যেটা করা একদমই যাবে না। Eye Contact একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চোখের দিকে তাকিয়ে উত্তরদিলে আত্মবিশ্বাসের লেভেল বুঝা যায়। তাই কথা বলার সময় নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে বা এক পলকে কারো দিকে তাকিয়ে থেকে কথা না বলাটা জরুরী।
  19. আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার সময় খুব উত্তেজিত হয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে গুছিয়ে বললে সঠিক উত্তরটি দেওয়া যায়। সহজভাবে উত্তর দেয়ার অনুশীলন করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, প্রশ্নকর্তাকে কখনই বুঝতে দেয়া যাবে না যে, আপনি বেতনের জন্য এই কাজটা করতে চাচ্ছেন। অথবা অযৌক্তিক বেতন চাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। শেষের দিকে একটি কথা হলো, ইন্টারভিউর মাধ্যমে আপনার ব্যাক্তিত্বকে প্রকাশ করতে হবে।
  20. ইন্টারভিউ শেষ হয়ে গেলেও কিন্তু কিছু কাজ থাকে। যেটিকে বলছি After Interview। যেমন, আপনি ইন্টারভিউয়ারের ভিজিটিং কার্ডটা নিয়েছেন। বাসায় পৌছে তাকে একটা ছোট্ট মেসেজ দিন, বা থ্যাংস নোট দিন। এটা আপনার জন্য পজিটিভ ইম্প্রেশন ক্যারি করবে।

উপরে আলোচিত ইন্টারভিউর আগে, ইন্টারভিউর সময়, এবং ইন্টারভিউর পরের বিষয়গুলো যদি মেনে চলি, তাহলে ইন্টারভিউ জয় করা কঠিন কিছু হবে না। মনে রাখতে হবে একটা ইন্টারভিউর ডাক জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি আমন্ত্রণ। এটিকে যত গুরুত্বের সাথে দেখা যায় ততোই আশানুরুপ ফলাফল পাওয়া যায়। এরজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অণুশীলন। আমি সবসময় বিশ্বাস করি “Practice Makes Perfect”. নিজের ঘরের আয়নার সামনে দাড়িয়ে প্রতিদিন উত্তর দেবার অনুশীলন করুন। আর এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমরা মোটামুটি সবাই কমবেশী জানি কি কি প্রশ্ন সাধারনত করা হয়ে থাকে ইন্টারভিউতে।

মনে রাখবেন নিজেকে বড় করতে হলে আগে নিজেকে ভালোভাবে জানাটা অত্যন্ত প্রয়োজন। তারপর প্রতিষ্ঠানকে জেনে নিজের সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর সাজিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে হাসিমুখে যদি ইন্টারভিউ সম্পন্ন করতে পারেন তাহলে সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর তারপরও যদি কাজ না পান তাহলে সমস্যা কি এখানে হয়নি আরেকটি ইন্টারভিউতে হবে কারন প্রতিষ্ঠানের তো অভাব নেই আমাদের দেশে। হাল ছাড়বেন নাম হতাশ হবেন না। আজ না হোক কাল হবেই।

ভিডিও লিংক যেখানে YouTube এ ইন্টারভিউ নিয়ে আমার তৈরি করা কিছু ভিডিও:

কে এম হাসান রিপন

নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএসডিআই)

Leave a Reply