চ্যালেঞ্জিং পেশা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং

চ্যালেঞ্জিং পেশা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং

রবিউল কমল : নীল পানির রোমাঞ্চকর সাগরে আপনাকে স্বাগত। সাগর শাসন করা জাহাজের কান্ডারি হয়ে আপনিও ঘুরতে পারেন দেশ-দেশান্তরের বড় বড় বন্দর। সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এবং দেশের বেশ ক’টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যারা পড়াচ্ছে নটিক্যাল সায়েন্স এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর। নটিক্যাল সায়েন্স এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সমুদ্র বন্দর ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র বিষয়ক জ্ঞান, জাহাজ নির্মাণ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রদান করা হয়ে থাকে। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের এ বিষয় দুটিতে পড়ার সুযোগ থাকছে। 


বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি : তিন বছর মেয়াদি নটিক্যাল সায়েন্স এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর স্নাতক  ডিগ্রি সম্পন্ন করা যাবে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে। দুই বছর তাত্ত্বিক পড়াশোনা এবং এক বছর ‘অন জব ট্রেনিং’ মিলিয়ে তিন বছরে শেষ হবে স্নাতক। নটিক্যাল সায়েন্স এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করতে হবে এবং দুটিতেই জিপিএ থাকতে হবে ৩.৫। এছাড়া গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে আলাদা করে ৩.৫ গ্রেড পয়েন্ট এবং ইংরেজিতে ৩ গ্রেড পয়েন্ট থাকতে হবে। দৈহিক উচ্চতা : ছেলেদের জন্য কমপক্ষে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি এবং মেয়েদের কমপক্ষে পাঁচফুট দুই ইঞ্চি। এছাড়া এ লেভেল সম্পন্ন শিক্ষার্থীকে গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও ইংরেজিসহ পাঁচটি বিষয়ে ন্যূনতম সি গ্রেড থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীকে অবশ্যই সাঁতার জানতে হবে। এই কোর্সের জন্য শিক্ষার্থীর খরচ হবে চার লাখ ১০ হাজার টাকা। যোগাযোগ :www.macademy.gov.bd।

মেরিন ফিশারিজ একাডেমি : চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমি থেকে এই কোর্স সম্পন্ন করতে হলে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করতে হবে। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ন্যূনতম ২.৫ জিপিএ থাকতে হবে। সেই সঙ্গে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে ২.৫ গ্রেড পয়েন্ট থাকতে হবে। এ-লেভেল সম্পন্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও একই শর্ত অর্থাৎ ও-লেভেল এবং এ-লেভেল জিপিএ ২.৫। পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতে ২.৫ গ্রেড পয়েন্ট থাকতে হবে। দৈহিক উচ্চতা : ছেলেদের জন্য কমপক্ষে ১৬২ সেন্টিমিটার এবং মেয়েদের জন্য কমপক্ষে ১৫৫ সেন্টিমিটার। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই সাঁতার জানতে হবে। এছাড়াও বেশ কিছু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আছে নটিক্যাল সায়েন্স এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ।

ইউনাইটেড মেরিন একাডেমি : ইউনাইটেড মেরিন একাডেমিতেও আছে নটিক্যাল সায়েন্স এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ। এখানে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করতে হবে। দুটি পরীক্ষাতেই জিপিও থাকতে জিপিএ-৩.৫।  এছাড়া গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে আলাদা করে ৩.৫ গ্রেড পয়েন্ট এবং ইংরেজিতে ৩ গ্রেড পয়েন্ট থাকতে হবে। এ-লেভেল সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, ইংরেজিসহ পাঁচটি বিষয়ে ন্যূনতম সি গ্রেড থাকতে হবে। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য খরচ হবে ১৪ লাখ টাকা। আর নটিক্যাল সায়েন্সের জন্য ১৩ লাখ টাকা। যোগাযোগ :www.uma.edu.bd।

ওয়েস্ট ওয়ে মেরিন একাডেমি : ওয়েস্ট ওয়ে মেরিন একাডেমিতে শিক্ষার্থীকে ভর্তি হতে হলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করতে হবে। জিপিএ থাকতে হবে ৩.৫। এছাড়া গণিত এবং পদার্থ বিজ্ঞানে শতকরা ৬০ নম্বর থাকতে হবে। দৈহিক উচ্চতা ছেলেদের জন্য কমপক্ষে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি এবং মেয়েদের জন্য কমপক্ষে পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই সাঁতার জানতে হবে। নটিক্যাল সায়েন্স এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য খরচ হবে ১১ লাখ টাকা। যোগাযোগ :www.wmabd.com।

আটলান্টিক মেরিন একাডেমি : এখানে নটিক্যাল সায়েন্স এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করতে হবে। জিপিএ থাকতে হবে ৩.৫। গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে আলাদা করে ৩.৫ গ্রেড পয়েন্ট এবং ইংরেজিতে ৩ গ্রেড পয়েন্ট থাকতে হবে। দৈহিক উচ্চতা কমপক্ষে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থীকে অবশ্যই সাঁতার জানতে হবে। প্রশিক্ষণকালে খরচ হবে ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

Leave a Reply