ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অদম্য কর্মচাঞ্চল্য

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অদম্য কর্মচাঞ্চল্য

  • সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাদেশের মানুষ অদম্য ও পরিশ্রমী। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারী, বেকারত্ব ও সর্বোপরি দারিদ্র্য তাহাদের বিপন্ন করিতে পারে বটে, একেবারে পরাস্ত করিতে পারে নাই কখনো। নানান উদ্যমী ও উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে তাহারা জীবনযুদ্ধে টিকিয়া থাকেন। সীমিত সম্পদের এই দেশে বিপুল জনগোষ্ঠীকে একসময় বোঝা মনে করা হইত, কিন্তু আজকাল জনসংখ্যাকে জনশক্তি বা সম্পদ হিসাবেই বিবেচনা করা হইয়া থাকে। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতি থাকিতে পারে, কিন্তু এই দেশটি জনসম্পদে সমৃদ্ধ। তাই তো বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগিয়াছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় রহিয়াছে এবং বৈশ্বিক নানান বিশেষজ্ঞ সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হইতেছে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে একটি উন্নত দেশে পরিণত হইবে। জনগোষ্ঠীর এক বিশাল অংশই তরুণ এবং তাহারাই অর্থনীতির চাকা বেগবান রাখিতেছে এবং আগামী সময়ে অধিক বেগবান করিবে বলিয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ফলে আমরা দেখিতে পাই, বেকারত্বের অভিশাপকে আর কেহ পরোয়া করিতেছেন না। ক্ষুদ্র নানান উদ্যোগের মাধ্যমে এই দেশের উদ্যমী নাগরিকেরা নিজের পায়ে দাঁড়াইবার চেষ্টা চালাইয়া যাইতেছেন। অপ্রাতিষ্ঠানিক নানান উদ্যোগের মাধ্যমে তাহারা অর্থনীতিতে অবদান রাখিতেছেন। হয়তো হাটবাজারের এক কোণে কিংবা নগরের ফুটপাতে তাহারাও হাজির তাহাদের উত্পাদিত নানান পসরা লইয়া। তাহা হইতে পারে কুটির শিল্প, বস্ত্র কিংবা প্লাস্টিক পণ্য। ব্যস্ততম শহরের লাখো মানুষের ভিড়ভাট্টার ভিতরে তাহাদের পণ্যগুলি ঠিকই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করিতেছে। সেলাইয়ের কারুকার্যে খচিত একটি বস্ত্রখণ্ড, কাঠ কিংবা বাঁশনির্মিত একটি শো-পিস কিংবা এমব্রয়ডারি করা পোশাক বা চাদর ক্রেতা চলতিপথেই ক্রয় করিয়া ফেলিতেছেন। মূল বাজারের বাহিরে অবস্থানের কারণে এইসকল পণ্যদ্রব্যের মূল্যও কম থাকে, ফলে ক্রেতাসাধারণ নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যেই কিনিয়া ফেলিতে পারিতেছেন তাহার পছন্দের পণ্য। অন্যদিকে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে বিক্রেতার আয়ও তাহাকে বাঁচাইয়া রাখিতেছে, সংসার পরিচালনায় আনিয়া দিতেছে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য। এইসকল উদ্যোক্তার মধ্যে এক বড় অংশই হইলেন নারী। আমাদের জনসংখ্যার অন্যতম এই অংশ এতদিন কেবল গৃহকর্মে তাহাদের অবদান সীমিত রাখিলেও এখন ধীরে ধীরে তাহারা প্রত্যক্ষভাবে অর্থনীতিতে অবদান রাখিতেছেন। ঢাকা শহরের পরিসীমায় কেরানিগঞ্জসহ অন্যান্য অঞ্চল হইল এই সকল উদ্যোগের প্রধান ক্ষেত্র। শহরের ভিতরেও নারীরা নিজ নিজ গৃহে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করিয়া সচল রাখিয়াছেন অর্থনীতির চাকা।

এই সকল অস্বীকৃত উদ্যোক্তারা জীবনের প্রয়োজনেই নিজেদের নানা উদ্যোগের সহিত যুক্ত করিয়াছেন। কিন্তু দেশের সার্বিক উন্নয়নে তাহাদের অবদানও অস্বীকার করা যায় না। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানান নীতিও এই সকল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায় হইয়াছে। যেমন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা জামানত ব্যতীতই ১০ লাখ টাকা ঋণগ্রহণের সুবিধা পাইতেছেন। আছে বেসরকারি নানা উদ্যোগও। জরুরি হইল, এই সকল নীতি-সহায়তার সংবাদ সকলের নিকট পৌঁছাইতে হইবে। অনেক সময় তথ্যের অভাবে কিংবা দীর্ঘসূত্রতার কথা ভাবিয়া এই সুযোগ গ্রহণে অনেকেই আগ্রহী হইয়া উঠেন না। সেই সকল ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগেই এই সকল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিকট তথ্য সরবরাহ করিতে হইবে। দ্বারে দ্বারে এই সুযোগের কথা পৌঁছাইয়া দিতে হইবে, যাহাতে এই সকল সুবিধা গ্রহণ করিয়া উদ্যোগগুলি অধিক গতিশীল হইয়া ওঠে।

সূত্র: ইত্তেফাকfavicon59-4

Leave a Reply