নিশাতের ‘কইন্যা’

নিশাতের ‘কইন্যা’

  • উদ্যোক্তা ডেস্ক

শাড়ি পরতে ভালোবাসেন আর অনলাইনে কেনাকাটা করেন, এমন প্রায় প্রত্যেকের কাছেই পরিচিত নাম ‘কইন্যা’।  এক লাখের বেশি ফলোয়ারসহ এই ফেসবুক ভিত্তিক শাড়ি কেনাবেঁচার পেইজটি তুমুল জনপ্রিয়। প্রতিনিয়ত চলছে নতুন নতুন শাড়ির আনাগোনা, আর কেনাবেচা। এই ব্যস্ত অনলাইন শপিং আউটলেট কইন্যার যিনি অধিকারী তার নাম, তাসমিনা তাবাসসুম নিশাত।

কইন্যার শুরুর গল্প প্রসঙ্গে নিশাত বলেন, তিনি আর তার  বন্ধু বাধন মিলে নিজেদের মতো করে কিছু করার তাগিদ থেকে কাজটা শুরু হয়েছিল। নিশাত বলেন, “একেবারে ছোট্ট করে মাত্র ১২৫০ টাকায় আমরা ব্যাবসাটা শুরু করি। সেটা খুব আগের কথাও কিন্তু না। এই ২০১৩-তে। গজ কাপড় আর লেইস কিনে শাড়ি বানিয়েছিলাম একটা।পরিচিত এক বড়বোন শাড়িটা কিনেছিলেন। সেই টাকায় পরে বানিয়েছিলাম দুটো শাড়ি। এক বড় ভাইয়ের বিয়ে ছিল। তার শাড়ি দুটো পছন্দ হয়। কিনে নেন। তার কিছুদিন পর রোজার ঈদ। সেবার ঈদের জন্য ৫টা শাড়ি করেছিলাম। পরিচিতরা আর বন্ধুরা কিনে নেয় শাড়িগুলো।”

তারপর এক কাছের বন্ধুর থেকে পরামর্শ পান গহনা বানানোর। দুই বন্ধু মিলে বিভিন্ন দেশের কয়েন সংগ্রহ করে সেসব দিয়ে গহনা বানাতেন তখন। এরপর দুজন মিলেই ফেইসবুকে একটা পেইজ খোলেন। নাম, ‘দ্বৈত’। চলতে থাকে শাড়ি গয়না বানানো। সঙ্গে একটা দুটো কুর্তি, কাফতান…। শুরুটা এভাবেই। তারপর শুরু করি তাঁতের শাড়ির ব্যাবসা, যেটার শুরুটা কইন্যা নামে। এরপর আর পেছন ফেরা নয়। শুরুতে তেমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি, কারণ শুরুটা ছিল পড়ালেখা করার সময়ে। আর বিশ্ববিদ্যালয় শেষ হবার আগেই ব্যবসাটা ততদিনে মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেছে।পড়াশোনা শেষ করে পুরোপুরি ব্যাবসায় মনোযোগ দেন নিশাত।

কাজে বাধা

নিশাত বলেন, কাজ করতে গেলে বাধা তো আসবেই। সেখানে নারী পুরুষ বলে বাধার তারতম্য আছে কিনা তা জানা নেই, কিংবা অনুভবও করিনি কখনও। আমাদের যে সমাজ ব্যবস্থা তাতে করে ইউনিভার্সিটি শেষ করে কোনও ছেলে বা মেয়ে ছোট্ট ব্যাবসার দিকে ঝুঁকবে তা মেনে নেবার মানসিকতা এখনও বোধহয় আমাদের তৈরি হয়নি। সেখান থেকে তো কিছু সমস্যা হয়ই। কিন্তু মেয়ে হবার কারণে আমি আলাদা করে তেমন কোনও সমস্যার সম্মুখীন হইনি। বরং কাছের মানুষদের অনুপ্রেরণা পেয়েছি অনেক। বিশেষ করে আমার মায়ের। তবে ব্যবসার কলেবর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন সংকটও তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন। আর সংকটের সমাধানের মধ্য দিয়েই তো এগিয়ে যাওয়া। যেকোনও সফল কাজ কিংবা উদ্যোগের পেছনেই একটা গল্প থাকে, সেই গল্প শ্রম ও নিষ্ঠার। নিষ্ঠার সঙ্গে যে কোনও বিষয়ে লেগে থাকলেই সফলতা নিশ্চিত। তবে মনোযোগ দিয়ে কাজে লেগে থাকতে হবে, বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করবার সাহস রাখতে হবে।

পরিশেষে

নিষ্ঠার সঙ্গে যে কোনও বিষয়ে লেগে থাকলেই সফলতা নিশ্চিত।তবে মনোযোগ দিয়ে কাজে লেগে থাকতে হবে,বাধা বিপিত্তকে অতিক্রম করবার সাহস রাখতে হবে মনে।কে কী বললো বা ভাবলো সেটা নিয়ে না ভেবে কাজটা নিয়ে ভাবা উচিৎ। কারণ দিন শেষে কাজটাই আপনাকে আলাদা একটা পরিচয় দেবে বলেই বিশ্বাস করেন নিশাত। পাশে রয়েছে বর ও বন্ধু বাধন মাহমুদ। দুজন মিলেই উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যেতে চান। আর দেশি পণ্য নিয়ে মানুষের খুব খুব কাছে থাকতে চান তিনি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউনfavicon59-4

Leave a Reply