যেভাবে তৈরি করবেন সুপার নেটওয়ার্ক

যেভাবে তৈরি করবেন সুপার নেটওয়ার্ক

  • উদ্যোক্তা ডেস্ক

ব্যবসায়ের মূল সম্পদই হলো যোগাযোগ। শুধুমাত্র যোগাযোগ দক্ষতাই ব্যবসায়ে অসম্ভব কিছু সাফল্য এনে দেয়। ইফেক্টিভ নেটওয়ার্কিং কোন ভাগ্যের বিষয় নয়- এজন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ়তা। তবে কিভাবে একটি সুপার নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন, এ জন্য আপনাকে অনেক বেশী মাথা ঘামাতে হবে না। নিয়মিত শুধুমাত্র সাতটি অভ্যাস গড়ে তুলুন।


১. ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ

আপনি যদি নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট জাতীয় কোন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে যান অথবা বিশেষ কোন ব্যক্তি বা গ্রুপের সাথে যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ করতে চান সেক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে ফেসবুক বা অন্য কোন মিডিয়া থেকে তাদের ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক কার্যক্রমের ডাটা সংগ্রহ করে তার সম্পর্কে ভালো ভাবে আগে অবগত হন। এবং তার সাথে সাক্ষাতের পর তাকে বুঝতে না দেয়াই ভালো যে আপনি তার সম্পর্কে কিছুটা অবগত। এরপর তার বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে কথা বলতে পারেন আর এভাবে এগিয়ে যেতে পারেন।

২. ভ্যালু এ্যাড

সবচেয়ে বড় পাওয়ার ফুল নেটওয়ার্কিং প্রাকটিস হলো প্রতিটি নতুন সম্পর্ককে আলাদা ভাবে গুরুত্ব দেয়া। বিশেষ করে প্রথম থেকেই তার প্রয়োজন অপ্রয়োজনের বিষয় গুলো বোঝা এবং সেভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসা। অপরকে সাহায্য করার ভেতর নিজের সাহায্য পাওয়ার বিষয়টি অন্তর্নিহিত থাকে এবং দেখা যায় তার মাধ্যমে নেটওয়ার্ক আরও বিস্তার লাভ করে।

৩. সফল উদ্যোক্তাকে অনুসরণ

রিলেশন বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে সফল উদ্যোক্তাদের সাথে যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ রাখার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তাদের সাথে কথা বলে তাদের যোগাযোগ দক্ষতার বিষয়টি বুঝে সে অনুযায়ী নিজেকে সমৃদ্ধ করা যায়। তার চেয়ে বড়  কথা হল একজন সফল উদ্যোক্তার সাথে থাকে ইফেক্টিভ নেটওয়ার্ক। সেই সফল উদ্যোক্তার সাথে রিলেশন ডেভেলপ করা মানে নিজেকে সেই ইফেক্টিভ নেটওয়ার্কে যুক্ত করা।

৪. ব্যক্তিগত আগ্রহকে প্রাধান্য দেয়া

আপনি যখন কাঙ্খিত কোন ব্যক্তির সাথে পরিচিত হবেন, যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ করতে হলে প্রথমেই আপনার প্রতিষ্ঠান বা কথা রাখুন। হাসি মুখে। পাল্টে যাবে আপনার চারপাশটা !কর্মকান্ড সম্পর্কে আলোচনায় না যেয়ে ব্যক্তিগত কোন যোগ সাদৃশ্য কিংবা কোন স্মরণীয় ঘটনা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটা সহজ সম্পর্কের দিকে যেতে পারেন। একজন সফল উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রধান করে দেখেন।

৫. লিস্ট তৈরি করা

প্রতিনিয়ত একটি লিস্ট তৈরি করতে পারেন যে কার কার সাথে যোগাযোগ উন্নয়ন করা প্রয়োজন এবং কিভাবে সেই সুযোগ তৈরি হতে পারে। যেমন কোন ইভেন্ট আয়োজন করা প্রয়োজন, কখন সেই ইভেন্ট আয়োজন করা যায়, কাদেরকে ইনভাইট করা হবে এই বিষয়গুলোর লিখিত ডকুমেন্টেশন থাকলে কাজ সহজ এবং পরিচ্ছন্ন হয়।

৬. কথা দিয়ে কথা রাখা

কারো কাছে ভালো রেপুটেশন বা আস্থা অর্জনের জন্য প্রথমত অবশ্যই জরুরি কথা দিয়ে কথা রাখা। প্রয়োজনে কথা না দেয়া যেতে পারে তবে কথা দিয়ে কথা না রাখা কোন ভাবেই সুসম্পর্কের সাথে সমীচীন নয়। একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই কথা দিয়ে কথা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই কথা দিয়ে কথা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

৭. শক্তিশালী নেটওয়ার্কের প্রতি সুবিচার করা

আপনি একটি লিস্ট তৈরি করতে পারেন যেখানে আপনার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ মাধ্যমগুলো প্রাধান্য পেতে পারে। যেমন সবচেয়ে টপ ১০ থেকে ১৫ জন নেটওয়ার্কিং পার্টনারকে নির্বাচন করে তাদেরকে কোন গিফট্ বা ডিনার প্রস্তাব করতে পারেন। তাদের প্রতি আপনার কর্তব্য কিংবা আন্তরিকতাই সম্পর্কের স্থায়িত্ব পাশাপাশি আপনার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট নির্ভর করে।

বর্তমান বিশ্বে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে এবং সামনে আরো ঘটবে। এই সমসাময়িক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে ব্যবসা বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে। আপনি কেবল যোগাযোগ উন্নয়নের এই কৌশলগুলো রপ্ত করবেন সাথে আছে টেকনোলজি। ব্যবসা আপনার জন্যই।favicon59-4

Leave a Reply