ঘরে বসে আরও ব্যবসা : পর্ব-২

ঘরে বসে আরও ব্যবসা : পর্ব-২

সাবরিনা তাবাসসুম : গত দুই পর্বে ব্যবসা করি ঘরে বসে আর ঘরে বসে আরও ব্যবসা শিরনামে জানিয়েছি বেশ কিছু নতুন ব্যবসার কথা। আজ জানাব আরও কিছু।


 

 

১. ই- কমার্স

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ই-মার্কেটিং। এ বিষয়ে আগ্রহ থাকলে আপনি শুরু করতে পারেন ই-মার্কেটিং ব্যবসা। আপনার আশে পাশে কি এমন ধরনের গৃহ সামগ্রী পাওয়া যায় যা আপনি ই-মার্কেটিং সাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে সক্ষম? পণ্যগুলোর মূল্য নির্ধারণ করুন এবং মার্কেটিং সাইটে পণ্যগুলোর ছবি সংযুক্ত করুন। এরপর আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি মাধ্যম নির্দিষ্ট করুন আর শুরু করে দিন ই-কমার্স।

 

২. সম্পাদকীয় সেবা

লেখালেখি করতে ভালো লাগে? বানানে দক্ষতা আছে? তাহলে বাসায় বসেই আপনি সম্পাদকীয় সেবার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বাসায় বসে দেওয়ার মতো কিছু সম্পাদকীয় সেবা হলো:

  • কপি এডিটিং : লেখার ভেতরে ব্যাকরণ সংক্রান্ত ভুল ও উপস্থাপণা সংক্রান্ত ভুল খুঁজে বের করে সঠিকভাবে সম্পাদনা করাই হচ্ছে কপি এডিটরের কাজ।
  • প্রুফ রিডিং : প্রুফ রিডার নিশ্চিত করেন যে কপি এডিটিংয়ের সময় ভুল সংশোধন করতে গিয়ে নতুন কোনো ভুল করা হয়েছে কি না।
  • ইন্ডেক্সিং : এই সেবা দেওয়ার জন্য বেশ কিছু সফট ওয়্যার পাওয়া যায়। সে বিষয়ে দক্ষ হয়ে ওঠা জরুরী।
  • আর্টিকেল লেখা : ঘরে বসেই আপনি ম্যাগাজিন অথবা দৈনিক পত্রিকাগুলোতে আপনার লেখা বিভিন্ন আর্টিকেল পাঠাতে পারেন।
  • কন্টেন্ট ডেভলপার : ওয়েব পেইজের কন্টেন্ট প্রদানকারী হিসেবেও আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
    এছাড়াও আরো কিছু সম্পাদকীয় সেবা আপনি দিতে পারেন। যেমন- ডেভেলপমেন্টাল এডিটিং, বুক ডক্টরিং, কপি রাইটিং ইত্যাদি।

 

৩. ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামত

এটি কম্পিউটার মেরামত ব্যবসার মতোই একটি ব্যবসা। তবে এখানে শুধু কম্পিউটার নয় বরং সব ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামত করিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা।

 

৪. অনুষ্ঠান আয়োজক

খেয়াল করলে দেখতে পাবেন আপনার চারপাশে কোনো না কোনো অনুষ্ঠান লেগেই আছে। সুতরাং অনুষ্ঠান আয়োজক হতে পারে একটি চমৎকার ব্যবসা। সম্ভাব্য যে সকল জায়গায় আপনি আয়োজক হিসেবে কাজ করতে চান, সেগুলো ঘুরে দেখুন। যারা আপনার সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে তাদের একটি ডাটাবেইজ তৈরি করুন। এরপর যখন একজন গ্রাহকের সাথে কাজ শুরু করবেন তখন তার প্রয়োজনগুলো বুঝে নিন।

 

৫. ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানার

ইদানিং অনেক প্রতিষ্ঠানই সিএফপি(সার্টিফাইড ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানার)রাখে। এ পেশা শুরু করতে চাইলে প্রথমে আপনাকে সিএফপি হিসেবে নিবন্ধন করে নিতে হবে। এই নিবন্ধনটি আপনার অভিজ্ঞতা ও পারদর্শীতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

 

৬. পুরনো জিনিস বেচাকেনা

সব সময় নতুন জিনিস কেনার সামর্থ সবার থাকে না। তারা একটু পুরনো জিনিস একটু কম মূল্যে কিনতে চান। এসব গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে আপনি এক জায়গা থেকে পুরাতন ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্র ক্রয় করে তা আবার কোনো আগ্রহী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন।

 

৭. আবাসিক বিদ্যুৎ সাশ্রয় পরামর্শক

ব্যবসার ধারনাটা নতুন। তবে জনপ্রিয় হচ্ছে দিন দিন। সব আবাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরাই সাশ্রয়ের পথ খোঁজেন। আপনি এমন ব্যবসা শুরু করতে পারেন যেখানে পরিদর্শক হিসেবে বাসা পরিদর্শন করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে।।

 

৮. গৃহ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক

গৃহ ব্যবস্থাপনা পরামর্শকের চাহিদা অনেক। সবাই চান ঘরটা সুন্দরভাবে গোছানো থাকুক। আপনি চাইলে শুরু করতে পারেন এই ব্যবসা। আপনি নিজেই গৃহ ব্যবস্থাপনার কাজ করতে পারেন অথবা কর্মী নিয়ে গৃহ ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন।

 

৯. আমদানি রপ্তানি পরামর্শক

আমদানি রপ্তানী নিয়ে যদি আপনার অভিজ্ঞতা থাকে অথবা মূল বিষয়গুলো জানা থাকে তাহলে আপনি ওয়ার্কশপ বা সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন।

 

১০. ইন্টেরিওর ডেকোরেটর

যারা নতুন বাড়ি নির্মাণ করছে তাদেরকে আভ্যন্তরীন সজ্জা বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। তবে সবার আগে গ্রাহকের রুচি এবং বাসা ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনের বিষয়ে আপনাকে ধারণা নিতে হবে।

favicon594এন্টারপ্রেনার অবলম্বনে

Sharing is caring!

Leave a Comment