ভুল পথে হাঁটছেন না তো ?

ভুল পথে হাঁটছেন না তো ?

  • উদ্যোক্তা ডেস্ক

উদ্যোক্তার হওয়ার পথ বড় বন্ধুর। এ পথে বিস্তর কাঁটা ছড়ানো থাকে। হিসেব কষে ধাপ না ফেললেই বিপদ। তাই নবীন উদ্যোক্তা সদাই ভয়ে থাকেন—ভুল পথে হাঁটছি না তো? এসব নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু পথ বাতলে দিয়েছি বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তাবিষয়ক ম্যাগাজিন এন্ট্রাপ্রেনার ডটকম


বাজার বিশ্লেষণ

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সর্বপ্রথম বিবেচ্য বিষয় হল- বাজার অর্থাৎ মার্কেট প্লেস। যেখানে আপনি আপনার পণ্য অথবা সেবা প্রদান করবেন।  আপনি যে পণ্য অথবা সেবা বাজারজাত করবেন সে পণ্য অথবা সেবা বাজারে কেমন চাহিদা এবং আপনার প্রতিযোগিদের হাল হকিকত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা গ্রহণ করুন। আপনি যদি আরেকটু বুদ্ধিমান হয়ে থকেন তবে তাদের ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে পড়াশোনা করুন। এতে একদিকে যেমন আপনি মার্কেট সম্পর্কে ধারণা পাবেন তেমনি কিছু ছোট খাটো দুর্বলতাও খুঁজে পেতে পারেন আপনার প্রতিযোগী কোম্পানির।

ব্যবসা যাই হোক হাতে ক্যাশ রাখুন

মার্কেট সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাবার পর ক্যাশের দিকে মনোযোগ দিন। অযথা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না করে পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করুন। এবং এক্ষেত্রে আপনাকে অনেকটা মিতব্যয়ী হতে হবে। ব্যাংক আপনাকে ভালো সাহায্য করতে পারে। আপনি চাইলে আপনার কোম্পানীর নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারেন যেখান থেকে আপনার ব্যবসার সকল ট্রাঞ্জেকশান হবে। আয় ব্যয় সব কিছুর নিখুঁত হিসাবের ব্যবস্থা রাখুন যাতে বছর শেষে ব্যবসার একটি ওভারভিউ পেতে পারেন।

নতুন পণ্য বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে চলুন

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি হল- মার্কেটের সাথে হালনাগাদ থাকা। নতুন নতুন কি প্রোডাক্ট বাজারে আসছে সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন। বিশ্ব অর্থনীতির খোঁজ খবরও রাখুন। শুধু তাই নয় আজকের প্রযুক্তির দৌরাত্ম্যময় পৃথিবীতে এগিয়ে থাকতে হলে অবশ্যই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এগিয়ে থাকতে হবে। নিত্য নতুন অনেক অ্যাপ বাজারে আসছে। খুঁজে দেখুন কোন অ্যাপ বা সফটওয়্যার আপনার কাজে সহায়তা করতে পারে।

শুরুতেই বড় মার্কেটে পা দিবেন না

আপনি যদি ব্যবসার শুরুতেই চিন্তা করেন ‘চাইনিজ মার্কেটের ১% ও যদি ধরতে পারি!’—তবে বলতে হবে আপনি শুরুতেই ভুল করছেন। বাংলায় গোড়ায় গলদ যাকে বলে। আপনার স্বপ্ন বড় হবে কিন্তু শুরুতেই সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে পড়লে হাবু ডুবু খেয়ে কখন যে তলিয়ে যাবেন তার হদিশ পাবেন না। এক্ষেত্রে যে ৩টি বিষয় মাথায় রাখবেন –

  • প্রথমেই মার্কেটের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এবং অন্যতম বিষয়টির দিকে নজর দিন।
  • মার্কেটের ভাষায় কথা বলুন এবং ভোক্তার (Consumer) মনোযোগ আকর্ষণ করুন।
  • কোম্পানি ছোট হোক আর বড়ই হোক, নিজেদের একটি স্লোগান তৈরি করে নিন।

ভোক্তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিন

ইংরেজিতে একটা কথা আছে— Salespeople know the adage “always be closing,” referred to by the acronym ABC. Entrepreneurs have an acronym, too: Always be adapting, or ABA। অর্থাৎ একজন উদ্যোক্তাকে তার মার্কেটের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। ভোক্তাদের মতামত জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে একটি দুটি সমালোচনায় আপনাকে বিব্রত হলে চলবে না। মনে রাখবেন পৃথিবীতে শতভাগ নিখুঁত যন্ত্র যেমন হয় না তেমনি কোনো প্রোডাক্ট শতভাগ ভালো হবে সেটা আশা করাও ঠিক নয়। প্রোডাক্ট বা সেবায় যদি কোনো গুণগত পরিবর্তনের মতামত পান তবে সেটা সাদরে গ্রহণ করুন।

প্রয়োজনে পরিকল্পনা বদলে ফেলুন

প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে, আপনি একটিমাত্র ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তাই করতে পারবেন না। যেকোনো অবস্থার জন্য আপনাকে থাকতে হবে সদাপ্রস্তুত। তা হোক অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা জাতীয় পরিবর্তন। সকল বিরূপ অবস্থাকে মোকাবেলা করে যেহেতু আপনাকে এই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হবে সেহেতু বিকল্প কিছু ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অগ্রিম করে রাখুন।

শুধু পরিকল্পনা পরিবর্তন করলেই হবে না। আপনাকে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রোডাক্টেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে মনে রাখবেন, পৃথিবীটা প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। আপনাকেও বদলাতে হবে।

এ তো গেল কিছু নিয়মমাফিক কৌশলের কথা। এবার আসা যাক কিছু মানসিক কথাবার্তায়। একবার ভেবে দেখুন তো, আপনি একজন উদ্যোক্তা। আপনার মাঝে কিছু বিষয় অবশ্যই বিদ্যমান যা আর দশটা আটপৌরে মানুষের মধ্য নেই। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে যেসব গুণ আপনার থাকা উচিত তা একবার দেখে নিন।

কৃতজ্ঞতা

আপনাকে সবার আগে কৃতজ্ঞ হতে হবে। দেশ, সমাজ, পরিবার এবং বন্ধু- বান্ধব সকলের নিকট। ব্যবসায় আপনি অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সমস্যার দিকে ফোকাস করলে সমস্যাটা আরো বড় মনে হতে পারে শুধু তাই নয় জীবন খানিকটা দুর্বিষহ লাগাও অদ্ভুত কিছু নয়। এতে আপনি হতাশও হতে পারেন। যা আপনাকে এক ধাপ পিছিয়ে দিতে পারে। সেই কঠিন মুহূর্তগুলোতে ভেঙ্গে না পড়ে একবার শুধু জীবনটাকে উপলব্ধি করুন এবং কৃতজ্ঞ থাকুন নিজের সৌভাগ্যের প্রতি। কেননা আপনার চেয়েও খারাপ সময় কেউ কেউ কাটাচ্ছে। কৃতজ্ঞতা মানসিক পরিতৃপ্তির জন্ম দেয়, মানসিক পরিতৃপ্তি জন্ম দেয় এক টুকরো সুখ ও শান্তির। আর হতাশা কেটে গেলে আপনি ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যা সমাধান করে ফেলতে পারেন নিমিষেই।

সততা

প্রত্যেক সফল উদ্যোক্তা সৎ এবং কাজের প্রতি যত্নবান থাকেন। আমরা সবাই একটি বিষয়ে অবগত—ফল ততটা সুমিষ্ট হবে যতটা আপনি যত্নশীল এবং পরিশ্রমী হবেন। প্রত্যেক সফল উদ্যোক্তার জন্যও এ কথাটি সত্য। আপনি আপনার ভোক্তাদের প্রতি পরিবারের সদস্যদের মতই যত্নশীল হবেন। তাদের মতামতের গুরুত্ব দিবেন। মনে রাখবেন তারাই আপনার ব্যবসার প্রাণ।

নব্য উদ্যোক্তাদের খুব সহজেই সাফল্য অর্জনের একটি প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু নির্মম হলেও সত্য এই যে সহজে কিংবা কম পরিশ্রমে আশাতীত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। বরং রূঢ় সত্য এই যে, আপনি যে পরিমাণ পরিশ্রম করবেন তার চেয়ে বেশি সফলতা পাবেন না। ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করুন, সফলতা একদিন ধরা দিবেই।

অধ্যবসায়

কোন অবস্থাতেই হেরে গেলে চলবে না। অনেক বাধা বিপত্তি আসবে, কিন্তু ধৈর্য ধরে নিষ্ঠার সহিত লেগে থাকতে হবে। হয়ত প্রথমেই তেমন সাফল্যের মুখ নাও দেখতে পারেন কিন্তু দমে গেলে চলবে না। একবার পা হড়কে গেলে পিছিয়ে পড়তে হবে এই প্রতিযোগিতায়। ছোটবেলায় নিশ্চয় অধ্যবসায় নিয়ে রচনা, ভাবসম্প্রসারণ পড়েছেন। আশা করি জানেন, আজকের সফল ব্যক্তিগণ জীবনে কতবার বিফল হয়েছিলেন, কিন্তু তারা দমে যাননি। তাদের ক্ষেত্রেও সফলতা একদিনে আসেনি, একবারে আসেনি।

সংযম এবং সততা

আপনার জীবনে সফলতা আসবে। কিন্তু সফলতার মোহ যেন আপনাকে অন্ধ না করে দেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। অর্থের মোহ মানুষকে অমানুষ করে তোলে। প্রবাদে আছে – অর্থই অনর্থের মূল। আপনার যেন সে দুর্ভাগ্য না হয়। অর্থের সঠিক ব্যবহার সফল উদ্যোক্তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ইংরেজি থেকে অনুদিত

সূত্র: এন্ট্রাপ্রেনার ডটকমfavicon59-4

Leave a Reply