পুঁজি ছাড়াই ১৪ ব্যবসা

পুঁজি ছাড়াই ১৪ ব্যবসা

  • উদ্যোক্তা ডেস্ক

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে চাকরির আশায় বসে বেকার জীবনযাপন করার কোনো মানে নেই। একটি কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই পুঁজি ছাড়াই আপনি এখনই ব্যবসায় নামতে পারেন। অনলাইনের এই সময়ে কোনো রকম পুঁজি ছাড়াই ব্যবসা করা যায় এমন ১৪টি অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো।


এসইও কনসালটেন্ট: সার্চ ইঞ্জিনের বিষয়ে ধারণা থাকলে চাকরির জন্য প্রতিষ্ঠানের আশায় বসে না থেকে অনলাইনেই শুরু করা যেতে পারে এসইও সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া। অনেক প্রতিষ্ঠান পাবেন যারা আপনার পরামর্শ নেওয়ার জন্য বসে আছে। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স সাইটে এমন কাজ পাওয়া যাবে। না হলে সোজা গুগল সার্চ দিয়েও কাজ চালানো যেতে পারে।

ব্যবসায়ী প্রশিক্ষণ: ব্যবসা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে এই অভিজ্ঞতা বসে বসে নষ্ট করার কোনো মানে নেই। অনলাইনে এমন অনেককে পাওয়া যাবে যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন। লিংকড ইনে যান, সেখানে আপনি ব্যবসা সংক্রান্ত আর্টক্যাল লিখতে পারবেন। এর দ্বারা সেখানে আপনি অনেক ক্লায়েন্ট পাবেন। তাদের সদুপদেশ দিয়ে নিজের মেধা এবং অভিজ্ঞতা ঝালিয়ে নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে টু-পাইস ইনকাম তো আছেই।

স্পেশালাইজড রিটেইলার: বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন দেশের সব বড় শহরগুলোতেই স্পেশালাইজড শপ বা সুপারশপ আছে। এদের মধ্যে অনেক ছোট বড় প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনলাইনে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রচার এবং বিজনেস শুরু করতে ইচ্ছুক। সেই সব প্রতিষ্ঠানের কোনো একটির সঙ্গে চুক্তি করে তাদের পণ্যসম্ভার দিয়ে একটি অনলাইন শপ চালু করা যায়।

সোশ্যাল মিডিয়া পরামর্শক: তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সোশ্যাল সাইটগুলো চরম উৎকর্ষ অর্জন করেছে। জীবনের সব সমস্যার সমাধান যেন হয়ে উঠছে ফেসবুকের মতো মাধ্যমগুলো। নিত্যনতুন ফিচারের পাশাপাশি বাড়ছে সোশ্যাল সাইট হ্যাক করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার মতো ঘটনা। আপনার যদি সোশ্যাল সাইটগুলোর ব্যবহারবিধি, নিরাপত্তাসহ ফ্রেন্ড-ফলোয়ার বৃদ্ধির বিভিন্ন ট্রিক্‌স জানা থাকে হবে আপনি হয়ে যেতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়া কনসাল্টেন্ট। এমনটা করলে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়া যাবে।

Is-Earning-20160712133842ওয়েব ডিজাইন: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ব্যবসা এটা। এখন একটি ছোটখাট প্রতিষ্ঠানও চিন্তা করে তাদের একটা ওয়েবসাইট থাকা দরকার। ওয়েব ডিজাইন জানা থাকলে ঘরে বসে থাকার কোনো মানে নেই। ফ্রিল্যান্স সাইটগুলোতে নিজের পোর্টফোলিও পোস্ট করুন। একটি নমুনা ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে রাখুন। বাজারদর বিবেচনা করে সাশ্রয়ী পারিশ্রমিক ঘোষণা করুন।

আবেদনপত্র/কভার লেটার লেখা: আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে অনেক শিক্ষিত মানুষ সুন্দর করে একটি চাকরির আবেদনপত্র লিখতে জানেন না। কিন্তু চাকরিক্ষেত্রে একটি সুন্দর গ্রহণযোগ্য আবেদনপত্র কিংবা কভার লেটার অন্যদের সঙ্গে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আপনার এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকলে লিংকডইন কিংবা সোশ্যাল সাইটগুলোয় এই বিষয়ে ক্লায়েন্ট খুঁজতে পারেন। ক্লায়েন্ট যে পাবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই।

টাস্ক ম্যানেজার/সহকারী: ভালো অর্গানাইজিং দক্ষতা থাকলে এই ব্যবসার উপযুক্ত আপনি। অনলাইনের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে পারলে এই দক্ষতা একজন ব্যাক্তিগত সহকারী কিংবা অনলাইন টাস্ক ম্যানেজার হিসেবে কাজে লাগানো যায়। TaskRabbit কিংবা Zirtual এর মতো কোম্পানিগুলো টাকার বিনিময়ে এসব মানুষকেই খুঁজে থাকে। এসব সাইটে ডাটা রিসার্চ, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্টসহ বিভিন্ন কাজে সহকারীর দায়িত্ব পালন করা যায়।

প্রফেশনাল ফ্রিল্যন্সার: ফ্রিল্যান্সিং বলতে সাধারণত অবসর সময়ের কাজকেই আমরা বুঝে থাকি। কিন্তু সময়ের পাশাপাশি ধারণাও পাল্টে গেছে। এখন প্রচুর বেকার তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিংকে মূল পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। আপনি চাইলে পার্টটাইম কাজও করতে পারেন।

মার্কেটিং: আপনি যদি আমাজানের মতো সাইটগুলোতে পণ্যের রিভিউ লেখায় অভ্যস্ত থাকেন তবে এখনই তা বন্ধ করুন। কারণ বিনামূল্যে কেন আপনি কোনো পণ্যের মার্কেটিং করবেন? ওয়ার্ড অব মাউথ-এর মতো অনেক কোম্পানি আছে যারা নিজেদের প্রোডাক্ট অনলাইনে প্রমোট করার জন্য আপনাকে পয়সা দেবে। আপনার যদি প্রচুর ফলোয়ার সমৃদ্ধ সাইট কিংবা সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থাকে তবে তো সোনায় সোহাগা। আজই লেগে যেতে পারেন কাজে।

বুক লেখক: আপনার লেখালেখির হাত, ভাষার দক্ষতা এবং টাইপিং স্পিড যদি ভালো থাকে তবে আপনি অনায়াসে একজন ই-বুক রাইটার হতে পারেন। এটি অনেক সহজ একটা কাজ। ই-বুকের চাহিদা এত পরিমাণে বাড়ছে যে ই-বুক রাইটার খুঁজতে পাবলিকেশন্সগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অনলাইনে এমন গ্রাহক খুঁজে নিতে পারেন সহজেই।

প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান: অনেক ছোটখাট কোম্পানি আছে যাদের কোনো আইটি স্পেশালিস্ট নেই। তাদের প্রযুক্তিগত কোনো সমস্যা হলে বাইরের লোক ডাকতে হয়। আপনি এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অনলাইনে বসেই শুরু করতে পারেন প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান। সমস্যা হলে তারা আপনাকে জানাবে এবং আপনি ঘরে বসেই সমাধান দিয়ে দেবেন।

laptop-bagsa20160712133851ভার্চুয়াল চালান: শুনতে অদ্ভূত লাগলেও এই কাজটি আপনি নিজেই অহরহ করে থাকেন ব্যাংক কিংবা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। আপনার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সেখানে গুগল চেকআউটের মতো ট্রানজেকশন হ্যান্ডল করতে পারেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের অনলাইন চালানসমূহ অর্গানাইজ করার জন্য আপনাকে খুঁজে নেবে। আপনি তাদের সাইট থেকে পণ্যের ছবি বিবরণ কপি করে নিজের ওয়েবসাইটে আনুন। তারপর নির্দিষ্ট আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে নেমে পড়ুন পণ্য বিক্রিতে।

হস্তশিল্প বিক্রেতা: অটোমেটিক মেশিনের যুগে হস্তশিল্পের কদর মোটেই কমেনি। বরং প্রচারের অভাবে এই প্রাচীন শিল্প মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। আপনি এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন। তাদের পণ্য আপনি অনলাইনে বিক্রি করবেন। গ্রাহকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ নিয়ে আপনি কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন তাদের কাছে।

অ্যাপ ডেভেলপার: স্মার্টফোনের যুগে অ্যাপের ছড়াছড়ি। মানুষ এখন কম্পিউটারে বসে সাইট ব্রাউজ করার চাইতে স্মার্টফোন অ্যাপেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন অ্যাপ ডেভলপিংয়ে আগ্রহী। আপনি যদি কোডিং সম্পর্কে ভালো জেনে থাকেন তবে লেগে পড়ুন অ্যাপ ডেভেলপিংয়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন সফটওয়্যার ডেভেলপার কোম্পানিও অনলাইনে ডেভেলপার চায়। প্রথমে নিজে একটি আকর্ষণীয় অ্যাপ তৈরি করে নমুনা হিসেবে দেখান এবং যৌক্তিক পারিশ্রমিক দাবি করুন। আপনার কাজ পাওয়া নিশ্চিত।favicon59-4

Leave a Reply