কানাডায় বৃত্তির খোঁজখবর

কানাডায় বৃত্তির খোঁজখবর

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

রাব্বী বাংলাদেশের এক নামকরা প্রতিষ্ঠানে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছেন। তার ইচ্ছে মাস্টার্সটা কানাডার কোনো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করা। কিন্তু রাব্বী এটাও শুনেছেন যে, কানাডায় সেল্ফ-ফাইন্যান্সে পড়তে যাওয়াটা খুবই ব্যয়বহুল। তাহলে কী তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে?

অবশ্যই রাব্বীর মতো হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কানাডায় পড়াশোনার স্বপ্ন দেখতে পারেন। কারণ ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি কানাডাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ প্রোগ্রামের সুবর্ণ সুযোগ।

যদিও আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামগুলোতে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু মাস্টার্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্যে ফান্ডিং, স্কলারশিপ ইত্যাদির বিস্তর সুযোগ রয়েছে। কানাডায় স্কলারশিপের বিস্তারিত নিয়েই আজকের আলোচনা।

প্রথমেই শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় পড়াশোনাবিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট:

১. কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনাবিষয়ক তথ্যের ওয়েবসাইট: https://www.univcan.ca/

২. কানাডার অন্টারিও প্রভিন্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ওয়েবসাইট: https://www.ouac.on.ca/

৩. স্টুডেন্টবিষয়ক সরকারি ওয়েবসাইট: https://www.canada.ca/en/immigration-refugees-citizenship/services/study-canada.html

৪. উপকারী ওয়েবসাইট: https://www.studyincanada.com/ এবং http://immigrationandsettlement.org/

কানাডায় স্কলারশিপ প্রোগ্রাম:

১. Vanier Canada Graduate Scholarship (Vanier Canada Graduate Graduate Scholarships (Vanier CGS):

প্রতিবছর কানাডিয়ান সরকার মোট ১৬৭টি এই বৃত্তি প্রদান করে থাকে এবং বছরের যে কোনো সময়েই বিভিন্ন কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য ভ্যানিয়ার স্কলারশিপসহ মোট ৫০০ জনের মতো শিক্ষার্থী থাকে।

এই বৃত্তি সম্বন্ধে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য:

আপনাকে প্রথমে কানাডিয়ান কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে। এই বৃত্তির পরিমাণ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কানাডিয়ান ডলার, যা পিএইচডি প্রোগ্রামের তিন বছর পর্যন্ত দেয়া হয়। যোগ্য হওয়ার জন্য একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব, গবেষণার সম্ভাব্যতা এবং নেতৃত্ব গুণাবলি এই তিনটিকেই সমানভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

প্রার্থীরা যে কানাডিয়ান ইন্সটিটিউশনে পড়তে চান, তাদের দ্বারা অবশ্যই মনোনীত হতে হবে। প্রতি বছর প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়, আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার জন্য এই বৃত্তি পেয়ে থাকে।

টাইমলাইন:

জুলাই থেকে নভেম্বর: এই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীরা প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করে আবেদনপত্র প্রস্তুত এবং জমা দিতে পারেন। ১ নভেম্বরের মধ্যেই Vanier CGS প্রোগ্রামে মনোনয়ন জমা দিতে হয়। লিঙ্ক: www.vanier.gc.ca/en/home-accueil.html

২. University of Waterloo International Master’s and Doctoral Awards:

এই বৃত্তি মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য প্রতি সেমিস্টারে ২,০৪৫ ডলার দুই বছরের জন্য এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য প্রতি সেমিস্টারে ৪,০৪৯ ডলার তিন বছরের জন্য দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য বৃত্তির বিশাল সুযোগ হচ্ছে ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার্স এবং ডক্টরাল স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ডস। এই বৃত্তির জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীদের ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামগুলোতে পূর্ণ-সময় নথিভুক্ত থাকতে হবে এবং একটি বৈধ কানাডিয়ান স্টাডি পারমিট থাকতে হবে।

লিঙ্ক: ​uwaterloo.ca/graduate-studies/awardsandfunding/international-student-funding

৩. Ontario Graduate Scholarship (OGS):

ওজিএস প্রোগ্রামটি স্নাতকোত্তর গবেষণায় মাস্টার্স এবং ডক্টরেট পর্যায়ে উৎসাহিত করার জন্য প্রাদেশিক সরকার অর্থায়ন করে। এই বৃত্তির মূল বিষয়গুলো হচ্ছে এটির মূল্য বছরে ১৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার।

সর্বনিম্ন স্কলারশিপ হতে পারে দুই সেমিস্টার পর্যন্ত। এই বৃত্তির যোগ্যতা অর্জনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্টুডেন্টকে স্টাডি পারমিট নিয়ে অন্টারিওতে থাকতে হবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া:

একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব, যেটার ওয়েট ৩০-৫০ শতাংশ এবং একাডেমিক মার্কস, প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি, পুরস্কার এবং অনার্সের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। রিসার্চ এবিলিটি ও পটেনশিয়াল ইন প্রোগ্রাম স্টাডি, সম্মেলন, উপস্থাপনা এবং মৌলিকত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।

কমিউনিকেশন ও লিডারশিপ এবিলিটি, এটার ওয়েট কম—মাত্র ০-২০ শতাংশ এবং এতে প্রাসঙ্গিক স্বেচ্ছাসেবক, নেতৃত্ব এবং একাডেমিক কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়।

লিঙ্ক: uwaterloo.ca/graduate-studies/awardsandfunding/external-awards/ontario-graduate-scholarship-ogs-and-queen-elizabeth-ii

কানাডায় স্কলারশিপ, স্টুডেন্ট ভিসা এবং ইমিগ্রেশন নিয়ে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সেটেলমেন্ট’-এর স্বেচ্ছাসেবীরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন। সম্পূর্ণ অলাভজনক কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সেটেলমেন্ট’-এর ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক গ্রুপ থেকেও বিনামূল্যে এসব বিষয়ে সহযোগিতা লাভ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ থেকে কানাডায় পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকের চোখেই থাকে। কিন্তু পড়তে যাওয়ার আগে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে যাওয়াটা অনেক জরুরি। সেল্ফ ফাইন্যান্সে স্টুডেন্ট হিসেবে কানাডায় পড়তে আসার বিশাল খরচের কথা চিন্তা করে অনেকেই বাংলাদেশে গ্র্যাজুয়েশন এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে স্কলারশিপ প্রোগ্রাম কিংবা ইমিগ্রেশনের সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

এজেন্সি এবং দালালরা কাগজ প্রসেসিং করে টাকা নিতেই আগ্রহী। কিন্তু একজন স্টুডেন্টকেই কানাডা আসার ব্যাপারে সঠিক তথ্য অনুসন্ধান এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

সূত্র: যুগান্তর

Leave a Reply