জিম্যাট নাকি জিআরই ?

জিম্যাট নাকি জিআরই ?

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রথমে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন পরীক্ষাটা আপনার দেয়া দরকার। জিম্যাট নাকি জিআরই? আপনি যদি এমবিএ, বিজনেসে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি করতে চান তাহলে জিম্যাট। অন্য সবকিছুর জন্য জিআরই দিতে হয়। তবে মাস্টার্স ইন ফাইন্যান্স, ম্যাথেমেটিক্যাল ফাইন্যান্স, পিএইচডি ইন ফাইন্যান্সেও ৯৫% বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই শর্ত থাকে। অনেক বিষয়ের জন্য জিআরই অথবা জিম্যাট যেকোন একটা দিলেই চলে। আপনার কোন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে খোঁজ নেন আপনাকে কোনটা দিতে হবে। যদি জিআরই অথবা জিম্যাট যেকোন একটা গ্রহণ করে তবে জিআরই দেওয়াই ভাল। কারণ জিআরই জিম্যাট থেকে তুলনামূলক সহজ।

প্রথমে জিম্যাট নিয়ে কথা বলা যাক:
GMAT মানে Graduate Management Admission Test। ম্যানেজমেন্ট শব্দটা দিয়ে বুঝতে পারছেন যে এটা ব্যবসায় পড়ার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের সব এমবিএ’র জন্যই এটা লাগে। তবে সম্প্রতি কিছু কিছু স্কুল যেমন স্ট্যানফর্ড, এমআইটি জিআরই গ্রহণ করা শুরু করেছে। জিম্যাটের টোটাল স্কোর ৮০০। মোটামুটি ইংরেজি জানা থাকলে আর ভোকাবুলারি স্কিল ভালো হলে তিন/চার মাস প্রস্তুতি নিলে ৮০০-র মধ্যে ৬০০-৭০০ তুলতে পারবেন।  জিম্যাটের ফি ২৫০ ডলার। পরীক্ষা হয় এআইইউবি বনানী’তে। পরীক্ষার সময় কমবেশী ৪ ঘন্টা।

জিম্যাটে তিনটি সেকশন থাকে:
১। এনালিটিক্যাল রাইটিং এসেসমেন্ট:  দুইটি রচনা লিখতে হবে, প্রত্যেকটির জন্য ৩০ মিনিট সময়। স্কোর হচ্ছে ৬। ৪ পেলেই হয়ে যায়। টেমপ্লেট এপ্রোচ নামে একটা পদ্ধতি আছে যেটা ব্যবহার করলে যে কেউ ৩/৪ ঘন্টা প্র্যাকটিস করলে ৫ পাওয়া একদম সহজ। তবে জিম্যাটের রাইটিং অংশটি একদমই গুরুত্ব বহন করে না। এই ৬ স্কোরটা আপনার আসল ৮০০ স্কোরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। এটা সেপারেটলি আসে।

২। কোয়ান্টিটেটিভ বা ম্যাথ পার্ট: বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর জন্য ম্যাথ অংশটি মোটামুটি সোজা। অন্তত ইংলিশ (ভারবাল) থেকে অনেক সহজ। এখানে উচ্চ স্তরের কোন গণিত আসে না। এরিথমেটিক, এলজেব্রা, জিয়মেট্রি থাকে। সবই ক্লাস নাইন-টেন স্তরের। ম্যাথের স্কেইলড স্কোর ৫১। সাধারনত ২/৩ টার কম ভুল হলে ৫১ তে ৫১ পাওয়া যায়। ৪৫+ হলেই ভালো স্কোর ধরা হয়। এখানে দু’ধরণের প্রশ্ন থাকে। প্রবলেম সভিং আর ডাটা সাফিসিয়েন্সি। প্রবলেম সলভিং আমাদের ট্র্যাডিশনাল অংকের মতো। এমসিকিউ প্রশ্ন হবে। যারা আইবিএ-তে বিবিএ বা এমবিএ’র ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন তারা যেরকম প্রশ্ন পেয়েছেন এখানেও সেরকম, তবে একটু কঠিন। ডাটা সাফিসিয়েন্সি একই কনসেপ্ট পরীক্ষা করলেও প্রশ্নের ধরনটা ভিন্ন। তবে ডাটা সাফিসিয়েন্সি প্রবলেম সলভিং থেকে সহজতর।

৩। ভারবাল বা ইংলিশ: ইংলিশ অংশে তিন ধরণের প্রশ্ন হয়। সেনটেন্স কারেকশান, রিডিং কমপ্রিহেনশান আর ক্রিটিক্যাল রিজনিং। সেনটেন্স কারেকশান আপনার গ্রামার স্কিলস পরীক্ষা করে। গ্রামার শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই গ্রামারে ভয়েস, ন্যারেশান, টেন্স ওসব থাকে না। মোটামুটি ৭/৮ ক্যাটাগরির ভুল থাকে সেগুলো আইডেন্টিফাই করতে পারলেই হয়। এর জন্য খুব ভালো বই পাওয়া যায় যেগুলো পড়লে সেনটেন্স কারেকশান ইজি হয়ে যায়। ক্রিটিক্যাল রিজনিং আপনার কমন সেন্স পরীক্ষা করবে। একটা আর্গুমেন্ট থাকবে যেটাকে স্ট্র্যাংথ্যান, উইকেন এসব করতে হয়। এটা মোটামোটি সহজ অংশ। রিডিং কম্প্রিহেনশান চিরাচরিত নিয়মের। একটা প্যাসেজ থাকবে যেটার উপর ভিত্তি করে আপনাকে ৩/৪টা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এটার জন্য ভালো ইংলিশ স্কিলস দরকার।

ম্যাথের জন্য সময় ৭৫ মিনিট আর প্রশ্নসংখ্যা ৩৭টা। ভারবালের প্রশ্ন ৪১ আর সময় একই। তিনটা সেকশানের মাঝখানে দুবার ১০ মিনিটের অপশনাল বিরতি থাকে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সংগে সংগেই স্কোর পাওয়া যাবে। রাইটিং স্কোর পরে দেওয়া হয়। পরীক্ষা হয় কম্পিউটারে। এটাকে বলে CAT (Computer Adaptive Test)। এতে সবাই একই প্রশ্ন পাবে না। ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষার্থী ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন পাবে এমনকি একই সময়ে পরীক্ষা দিলেও। আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর সঠিক না ভুল এর উপর নির্ভর করে পরের প্রশ্ন পাবেন। আবার ২য় প্রশ্নের উপর ডিপেন্ড করবে ৩য় প্রশ্ন। এভাবেই চলবে….। favicon59-4

Leave a Reply