কফি নয়, পান করুন চা

কফি নয়, পান করুন চা

সাদিয়া ইসলাম: দিনের শুরুতে মন ভালো করে দেওয়ার জন্যে এক মগ কফির কোন বিকল্প হয়না। বিশেষ করে সেটা যদি হয় ব্ল্যাক কফি। পান করার সাথে সাথেই মন আর মস্তিষ্ক- দুটোকেই চাঙা করে ফেলে এই তরলটুকু। কফির ভেতরের ক্যাফেইন সারাদিন হাজারো কাজের পরেও আমাদের শরীরকে করে তোলে সতেজ। বাড়িয়ে দেয় কর্মক্ষমতা। এসবই কফি পানের ভালো দিক। কিন্তু আপনি কি জানেন এতগুলো ভালো দিক থাকবার পরেও বিশেষজ্ঞরা সবাইকে পানীয় হিসেবে কফির বদলে চা কেই বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন? কিন্তু কেন? আসুন জেনে নিই কারণগুলো।


১. নিজেকে শান্ত রাখতে: কফির সবচাইতে ভালো দিকটি হচ্ছে ক্লান্তি বা অবসাদ দূর করে দিয়ে মুহূর্তেই এটি যে কাউকে কর্মশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এই ভালো দিকটিরই বাজে ব্যাপারটি হচ্ছে কফি পনের পর আপনার শরীর আর মন উত্তেজিত হয়ে পড়ে। অস্বস্তি কাজ করে। কাজ করার স্পৃহার সাথে সাথে ক্লান্ত শরীরের কষ্টটাকে খানিক সময়ের জন্যে চাপা দিতে পারলেও বস্তুত একেবারের মতন কমাতে পারেনা সেটি। অন্যদিকে এক কাপ গ্রীন টি আপনার শরীরকে সতেজতা তো দেয়ই, সেই শান্তে উত্তেজিত স্নায়ুকেও শান্ত করে দেয়। আর তাই সকালের এক কাপ চা কেবল দিনের কাজটুকুকে করার ইচ্ছেটাই জাগায় না মনে, তৈরি করে শান্ত আর কোমল একটা অনুভবের।

২. ওজন কমাতে: চা আপনার শরীরের ফ্যাট কোষগুলোকে আকারে ছোট করে দেয় আর পেশী মজবুত করাকেও তরান্বিত করে। আর সেটা যদি হয় গ্রীন টি তাহলে তো আর কথাই নেই। চা আপনার শরীরের শক্তি খরচের পরিমাণকেও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আমেরিকান জার্নাল ক্লিনিকের এক প্রতিবেদনে জানা যায় টানা ১২ সপ্তাহ চা পান করেছেন এমন ব্যাক্তির ওজন বেশ ভালো পরিমাণেই কমে যায়। এছাড়াও এক কাপ চায়ের চাইতে ক্রিমসহ কড়া এক মগ কফিতে ক্যালোরি তো খানিকটা বেশি থাকবেই।

৩. সঠিক মাত্রায় ঘুমাতে: কফি সাধারনত ক্লান্তি দূর করার জন্যে দিনের শেষে পান করে থাকে মানুষ। আর তাই এর ভেতরে থাকা ক্যাফেইন কাজও করে অনেকটা সময় ধরে। রাতে ঘুমোতেও বেশ সমস্যা সৃষ্টি করে এই উত্তেজক পানীয়। অন্যদিকে চায়ের এমন কোনধরনের সমস্যাই নেই। রাতে ঘুমোবার আগে এক কাপ চা পান করলেও খানিক বাদে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন আপনি। ঘুমের কোন রকমের বিঘ্নই ঘটাবেনা এটি।

৪. হজমশক্তি বাড়াতে: কফি শরীরে অ্যাসিড তৈরি করে। হজমশক্তিকে কমিয়ে দেয়। ফলে গ্যাস্ট্রিক ও রুগ্নতাসহ নানারকম সমস্যায় ভুগতে হয় মানুষকে। হৃদপিন্ডে যন্ত্রনা তৈরি করে এটি। আর অন্যদিকে চায়ের এমন কোন সমস্যা নেই। উল্টো এরকম কোন সমস্যায় আদা চা কিংবা পেপারমিন্ট চা উপকারে আসতে পারে আপনার আর সারিয়ে দিতে পারে সমস্ত ঝামেলাকে।

৫. দাঁতকে সুস্থ রাখতে: চা দাঁতের সুস্থতার জন্যে বেশ উপকারী। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে চা মানুষের দাঁতের জমে থাকা ময়লাকে দূর করতে সাহায্য করে। আর তাই প্রতিদিন খাবারের তালিকায় ঔষধ হিসেবে খানিকটা চা পান করা আপনার দাঁতকে করে তুলতে পারে যথেষ্ট সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন সেটি চিনি ছাড়া হয়।

৬. ক্যান্সারের প্রতিরোধক: চা পান কেবল আপনার শরীরের গ্যাস্ট্রিক, বদহজম, হৃদপিন্ডের জ্বালা পোড়ার মতন ছোটখাটো সমস্যাকেই সারিয়ে তোলে না। দূর করে ক্যান্সার হবার ঝুঁকিও। বিশেষজ্ঞদের মতে কালো চা বা গ্রীন টি পান শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করে যেটা কিনা ক্যান্সার হওয়ার হাত থেকে শরীরকে বাঁচায়।

তবে চা পান স্বাস্থ্যকর আর উপকারী হলেও, সেটা তখনই উপকারী হবে যখন সঠিক পরিমাণে থাকবে। অতিরিক্ত আর সবকিছুর মতন অতিরিক্ত চা পানও আপনার শরীরের জন্যে হতে পারে ক্ষতির কারণ।  favicon

Leave a Reply