ডায়বেটিস প্রতিরোধে করণীয়

ডায়বেটিস প্রতিরোধে করণীয়

মোস্তাফিজুর রহমান : ডায়াবেটিস এর বাংলা নাম বহুমুত্র। আমাদের বহুল পরিচিত এবং সব চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত রোগ গুলোর একটি। ডায়াবেটিস একটা নিরব ঘাতক। অনেকটা কাঠের ঘুন পোকার মত। ঘুন পোকা যেমন কাঠের অন্তসার খেয়ে এর স্থায়িত্ব নষ্ট করে দেয়, তেমন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনহীন হলে শরীরও দ্রুত ভঙ্গুর করে ফেলে। ফলে শরীর ক্রমশ রোগা হয়ে যায়।


মানুষের গ্রহন করা খাবার থেকে শরীরে তৈরি হয় গ্লুকোজ, যা রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌছে যায়। তবে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর শরীরে তৈরি হওয়া গ্লুকোজ সবটুকু শরীরে ব্যবহার হয় না। কিছু অতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তে মিশে থাকে। ফলে স্বাভাবিকের চেয় রক্ত বেশি ঘন হযে যায়। এই ঘন রক্ত রক্তনালীর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাধার সম্মুখিন হয়। এভাবে ক্রমশ রক্ত চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রক্তের সাথে প্রবাহিত অক্সিসেনও বন্ধ হযে যায়। আর শরীরের ভেতরের অনেক টিসুর অকাল মৃত্যু হয়। এভাবে শরীর অঙ্গহানির পথে এগোয় এবং নিয়ন্ত্রন না করলে দ্রুত মৃত্যু ডেকে আনে।

তবে আগে থেকে সতর্ক হলে ডায়বেটিস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আক্রান্ত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রন করার চেয়ে সচেতন হয়ে প্রতিরোধ করা অনেক বুদ্ধিমানের কাজ। আজ জেনে নিন ডায়বেটিস প্রতিরোধের কিছু উপায়।

ফাস্ট ফুড পরিহার

  • ডায়বেটিসের ঝুকি এড়াতে অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয় এবং চটলেট জাতীয় খাবার খাওয়া বন্ধ করুন। কারণ, এ জাতীয় খাবার ডায়বেটিসের ঝুকি বাড়ায়। বিশেষ করে পিজা, চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাইজ, শর্মা, বার্গার, স্যান্ডউইচ এবং সকল প্রকার চকলেট। শিশুদের এসব খাবার খেতে নিরুৎসাহিত করুন। কেননা, ডায়াবেটিস শুধু বয়স্কদের নয় শিশুসহ সব বয়সি মানুষের হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ

  • ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয় না খেয়ে শাকসবজি এবং ফলমুলের দিকে নজর দিন। বাড়িতে তৈরি শবজি প্রধান খাবার বেশি বেশি খান। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ রাখুন, এবং খাসির মাংস খাওয়া কমান। অবশ্যয় নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কেননা, খাদ্যের অনিয়ম ডায়বেটিসের ঝুকি বাড়ায়।

রস নয়, ফল খান

  • ডায়বেটিসের ঝুকি কমাতে প্রচুর ফল খাওয়ার জুড়ি নেই। তাই বলে একই ব্যাপার ভেবে কখনই প্রচুর ফলের রস খাওয়া ঠিক না। ফল ডায়বেটিসের ঝুকি কমালেও ফলের রস ডায়বেটিসের ঝুকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুন। কারণ, ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার এবং অন্যআন্য উপাদান থাকে যা ডায়বেটিসের ঝুকি কমায় অপর দিকে ফলের রস মিষ্টি অর্থাৎ চিনি প্রদান, যা ডায়বেটিসের ঝুকি বাড়ায়। ফলের মধ্যে আপেল ন্যাসপতি, আঙুর, পেয়ারা অনেক বেশি কার্যকর। এছাড়া পেঁপে বিশেষভাবে ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক। নিয়মিত পেঁপে খেলে ডায়বেটিস প্রতিরোধ সম্ভব।

গ্রিন টি

  • নিয়মিত গ্রিন টি অর্থাৎ সবুজ চা খেলে ডায়বেটিসের ঝুকি কমে বহুগুন। গ্রিন টি শরীরের সুগারের পরিমান বেড়ে যাওয়া রোধ করে। কারন, গ্রিন টি শরীরের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টেকে শক্তিশালী করে।

ব্যায়াম

  • প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট নিয়ম করে ব্যায়াম করুন। ব্যায়ম করলে শরীর অধিকতর সচল থাকে, যা ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া, সুযোগ পেলেই হাটুন। যারা দিনে লম্বা সময় জুড়ে হাটে তাদের ডায়বেটিস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

ধুমপান, মদ্যপান পরিহার

  • ধুমপান, মদ্যপান পরিহার করুন, ডায়বেটিস থেকে বেচে যাবেন। ওয়াইন এক প্রকার মদ, যার প্রধান উপাদান আঙুরের রস। আগেই বলেছি ফলের রস ডায়বেটিসের ঝুকি বাড়িয়ে দেয়। ফলে মদও ডায়বেটিসের ঝুকি বাড়ায়। এ ছাড়া মদের অন্যআন্য উপাদানও ডায়বেটিসের ঝুকি বাড়ায়।

বাংলাদেশি লেখক বেবী মওদুদ ডায়বেটিস নিয়ে লেখা তার এক নিবন্ধে বলেন, “ডায়বেটিস খুব বিশ্রী রোগ। গত দশ বারো বছর ধরে এ রোগে ভুগছি। আমার চিকিৎসকদের কাছে আমি অবাধ্য রোগী। তাদের বেধে দেয়া নিয়ম শৃঙ্খল মেনে চলি না। নিয়ম বেধে জীবনযাপন করা কি যায়? কেউ পারে? এ রোগের সুস্থ থাকার একমাত্র সেটাই উপায়।”

সুতরাং আক্রান্ত হয়ে নিয়ম মানর চেয়ে আগে থেকে সতর্ক হোন, ডায়বেটিস থেকে বেচে থাকুন। সুস্থ জীবন যাপন করুন। favicon5

Leave a Reply