সকল রোগের মহা ঔষধ মধু

সকল রোগের মহা ঔষধ মধু

ফিচার ডেস্ক: গ্রামদেশে জন্মের পর নবজাতকের মুখে মধু দেওয়া হয়। আগত শিশুটি যেন বড় হয়ে মধুর মত মিষ্টি কথা বলে এই আশা নিয়ে নানি, দাদিরা এটা করে থাকে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, শাল দুধ আর মধু খাওয়ালে জন্মের পরই শিশুর সর্ব রোগের একপ্রকার টিকা দেওয়া হয়ে যায়! মায়ের শাল দুধের মত মধুও শিশুর জন্য সর্ব রোগের টিকা সরুপ। তবে শুধু শিশুদের জন্য নয়, মধু সব বয়সী মানুষের জন্য সকল রোগের মহা ঔষধ। প্রাচীনকাল থেকেই শরীরের সুস্থতা, সৌন্দযচর্চা এবং চিকিৎসায় মধু খুবই গুরুত্বের সাথে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চলুন আজ জেনে নি মধুর আরও কিছু আশ্চর্য ক্ষমতা:


০১: মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলে।

০২: মধুতে বিদ্যমান ডেক্সট্রিন সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে হজমে সহায়তা করে। তাছাড়া মধুতে থাকা শর্করা সহজে হজম হয়ে হজম প্রক্রিয়া তরান্মিত করে।

০৩: মধুতে আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করে।

০৪: মধুতে প্রচুর পরিমান লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ ও কপার থাকে, যা রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্ত শুন্যতা কমে।

০৫: মধু ফুসফুসের যাবতীয় রোগ,বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট (এ্যাজমা) রোগের জন্য বিশেষ ফলদায়ক।

০৬: যাদের রাতে ভলো ঘুম হয় না, তাদের জন্য মধু হতে পারে চমৎকার সমাধান। নিয়মিত দুই চা-চামচ মধু আর একগ্লাস পানি অথবা এক কাপ দুধ সাথে এক চা চামচ মধু খেয়ে ঘুমালে নীদ্রাহীনতা ক্রমশ কেটে যায়। এ ছাড়া রাতে নিয়মিত মধু খেলে মস্তিষ্কের কর্যক্ষমতা বহুগুন বেড়ে যায়।

০৭: অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মধু উদ্বেগ ও ভীতি দূর করে, মানসিক চাপ কমায়। কারন, আগেই বলেছি, মধু মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে; বিধায় মস্তিষ্কের নিউরোন গুলো আরও বেশি সজিব এবং সতেজ হয়ে, অলস হয়ে যাওয়া মস্তিষ্ককে জাগিয়ে তোলে।

০৮: আলসারের প্রাকৃতিক ঔষধ হিসাবে মধু প্রাচীনকাল থেকে সমাদৃত। আলসার রোগীরা নিয়মিত মধু খেতে পারেন, উপকার দিবে।

০৯: ওজন নিয়ন্ত্রনে মধুর জুড়ি নেই। সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবু রস ও মধুর মিশ্রন খেলে উল্যেখযোগ্য পরিমান ওজন কমে।

১০: মধু একটি চমৎকার জীবাণু এবং ব্যাথা নাশক। কোন ক্ষত বা ফোড়ার উপর সম পরিমান চিনি ও মধুর সাথে দারুচিনি গুড়া মিশিয়ে লাগালে খুব দ্রুত ব্যাথা কমে যায়।

১১: নিয়মিত মধু সেবনে শরীরের বিষক্ত উপাদান বের হয়ে যায় এবং লিভার পরিষ্কার থাকে।

১২: মধুতে আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাস উপাদান, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত মধু খেলে এবং প্রতিদিন সকালে ত্বকে মধু মেখে ৩০ মি: রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক মসৃণ, সুন্দর হয় এবং ত্বকের দাগ চলে যায়।

১৩: আধা গ্রাম গোলমরিচ গুড়ার সাথে সমপরিমান মধু এবং আদা মিশিয়ে দিনে অন্তত তিনবার খেলে হাঁপানি রোগ থেকে বাচা যায়।

১৪: প্রতিদিন সকালে নাস্তার এক ঘন্টা আগে গাজরের রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।

১৫: সকাল-সন্ধ্যা দুইবার দুই চা-চামচ মধু আর এক চামচ রসুনের রসের মিশ্রণ খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে।

১৬: সমপরিমান আদা রস এবং মধুর মিশ্রণ খেলে কাশির সাহায্যে শ্লেষ্মা দুর হয়। এছাড়া ঠান্ডা, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং কন্ঠনালীর ক্ষত নিরাময় হয়।

১৭: কালিজিরা আর মধুর মিশ্রণ নিয়মিত খেলে ক্যান্সারের ঝুকি অনেক অংশে কমে।

১৮: মধু মুখ গহ্বরের সুরক্ষায় কাজ করে। বিশেষ করে দাঁতের ক্ষয় এবং পাথর জমা রোধ করে। দাঁতের মাড়ি মজবুদ করে, দাঁত পড়া বিলম্বিত করে।

১৯: গলার স্বর স্পষ্ট, সুন্দর এবং শ্রুতি মধুর করে মধু।

২০: পুরুষের যৌন দুর্বলতা দুর করে মধু।

মধু হোক আপনার প্রত্যাহিক খাদ্য তালিকার একটা অংশ। প্রকৃতির এই আর্শিবাদ কাজে লাগান, সুস্থ এবং সতেজ থুকন সরাবেলা। favicon

Leave a Reply