এই গরমে যা পান করবেন…

এই গরমে যা পান করবেন…

  • রিক্তা রিচি

চলছে গ্রীষ্মকাল। কাঠফাঁটা রোদ। প্রচন্ড গরমে প্রাণ যেন যায় যায়। গরমে প্রশান্তি পেতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রচুর পানি পান করা প্রয়োজন। তাই এই সময় তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই বেছে নেন কোমল পানীয়। এইসব কোমল পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এগুলো পরিহার করাই ভালো। তবে আপনি পান করতে পারেন লেবুর শরবত, বেলের শরবত, তরমুজের শরবত, আঁখের শরবত। এসব পানীয় আপনাকে দেবে স্বস্তি। তাছাড়া এগুলো স্বাস্থ্যকর। আসুন এসব পানীয় সম্পর্কে জেনে নেই।


লেবুর শরবত 361_giant

  • লেবুর রসে হালকা টক ও মিষ্টতা থাকায় এটি খুব মুখরোচক। গরমে মনকে শান্ত করতে ঠান্ডা পানি দিয়ে লেবুর শরবত বানিয়ে পান করুন। এটি আপনাকে পরিপূর্ণ শান্তি প্রদান করবে।
  • লেবুর শরবত হজমে সহায়তা করে। কারণ লেবুতে থাকে সালিভা ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ যা হজম শক্তি বৃধিতে সহায়ক।
  • লেবুর সুমিষ্ট ঘ্রাণ দুশ্চিন্তা দূর করে মনকে প্রফুল্লতায় ভরে তুলতে সহায়ক। লেবুর শরবত পানে মন থাকবে প্রফুল্ল ও প্রাণবন্ত।
  • লেবুর শরবত পান করলে শরীরে তরলের পরিমাণ ঠিক থাকে।
  • লেবুতে থাকা ভিটামিন সি হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক এবং স্ট্রেস, দাঁতের ব্যাথা ও যেকোন ধরনের ব্যাথা উপশম করে।
  • লেবুর শরবত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে বিদ্যমান ভিটামিন সি ও লৌহ ঠান্ডাজ্বর দূর করতে কার্যকর এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়াও এতে থাকা এসকারবিক এসিড যা প্রদাহ দূর করে অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট কমাতে সহায়ক।
  • লেবুর শরবত ওজন কমাতেও সাহায্য করে। কারণ এতে থাকে প্রচুর পরিমানে পেক্টিন যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ওজন কমে।
  • এছাড়াও লেবুতে রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের ভাঁজ, দাগ ইত্যাদি দূর করে। ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যা্কটেরিয়া দূর করে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে লেবু।

বেলের শরবত u44937_366686_646957

  • গরমের দিনে এক গ্লাস বেলের শরবত শরীর ও মনে তৃপ্তি যোগায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন প্রতিদিন বেলের শরবত পান করলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।
  • কাঁচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে এবং পাকা বেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • বেলের শরবত খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং পেটের যেকোন সমস্যা সমাধান করে।
  • পাইলস, ফিস্টুলা, হেমোরয়েড রোগীরা নিশ্চিন্তে বেলের শরবত খেতে পারেন যা আপনাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
  • বেলের শরবত মুখের ব্রণ সারাতে এবং ত্বককে মসৃণ রাখতে সহায়তা করে।
  • বেল রোগ প্রতিরোধ করে কারণ এতে ভিটামিন সি পর্যাপ্ত পরিমানে থাকে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বেল।
  • বেলে বিদ্যমান “ভিটামিন এ” চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গ গুলোতে পুষ্টি যোগায়। নিয়মিত বেল খেলে ক্যান্সার, গ্লুকোমা, জেরোসিস হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

তরমুজের শরবত  drinks

  • গরমে মন ও মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য পান করতে পারেন তরমুজের শরবত। গ্রীষ্মকালে শরীরে ঘামাচি হানা দেয়। যাদের অনেক ঘামাচির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য সুখবর। তরমুজের জুস শরীরকে হাইড্রেট করে ঘামাচির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
  • গরমে পেটের নানা সমস্যায় ভুগতে হয় অনেককেই। তরমুজের শরবত এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
  • শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বের করতে সাহায্য করে তরমুজ। তাছাড়া শরিরকে হাইড্রেট ও করে। ত্বকের শুষ্কভাব দূর করে।
  • তরমুজে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ করে। শ্বাসকষ্ট কমাতেও এই জুসটি দারূন কার্যকর।
  • তরমুজ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। কারণ তরমুজে রয়েছে কিছু বিশেষ উপাদান যা শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।
  • যাদের শরীরে কোলেস্টরেলের পরিমান বেশী থাকে তারা নিশ্চিন্তে তরমুজের জুস এর সাথে গোলমরিচ মিশিয়ে  তা পান করুন। এতে ক্ষতিকর কোলেস্টরেলের মাত্রা কমায়।
  • তরমুজে লাইকোপেন নামক একধরনের পদার্থ থাকে যা প্রস্টেট গ্রন্থির ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি আটকায়।
  • শরীরের ওজন কমাতেও এই পানীয়টি দারুণ ভূমিকা রাখে।

আঁখের রস sugarcane-cures

  • গরমে অন্যান্য বোতলজাত পানীয় এর চাইতে তেষ্টা মেটাতে আঁখের রস বেছে নিতে পারেন। আঁখের রস মারাত্মক শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে।
  • আঁখের রস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। অনেকেই ভাবতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আঁখের রস খাওয়া ভাল নয়। কিন্তু তা সঠিক নয়। আঁখের রসে ডায়াবেটিস চিনির চেয়েও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রয়েছে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর।
  • আঁখের রস লিভারের সুস্থতায় কাজ করে। জন্ডিসের ঔষুধ হিসেবেও আঁখের রসের প্রচলন রয়েছে।
  • আঁখের রস স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। গবেষকদের মতে আঁখের রসে ফ্লেভোনস রয়েছে যা ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি ও ছড়ানো প্রতিরোধ করে।
  • নিয়মিত আঁখের রস পান করলে বুক জ্বালাপোড়া করা এবং মুত্রনালীর ইনফেকশন থেকে বাঁচা যায়।
  • আঁখের রস দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির ইনফেকশন দূর করতে সহায়ক। কারণ আঁখের রসের প্রাকৃতিক অ্যাল্কালাইন অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া কিডনির সুস্থতায় আঁখের রস উপকারী।
  • ঠান্ডা, জ্বর, গলায় ক্ষত সারাতে আঁখের রস কার্যকরী। এছাড়াও দেহকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শক্তি বৃদ্ধি করে আঁখের রস। favicon59

Leave a Reply