গবেষণায় পুরস্কার পেলেন তানজিমা হাশেম

গবেষণায় পুরস্কার পেলেন তানজিমা হাশেম

  • লিডারশিপ ডেস্ক

চলতি বছর পাঁচ দেশের পাঁচজন নারী গবেষক ওডব্লিউএসডি-এলসেভিয়ার ফাউন্ডেশন পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। দেশ পাঁচটি হলো ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া, ঘানা, সুদান ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কম্পিউটার বিজ্ঞানী তানজিমা হাশেম তাদেরই একজন। তিনি এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন কেমিকৌশল, জ্বালানি ও খনি প্রকৌশল, পরিবেশ প্রকৌশল এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে। তাদের মতো তিনিও এ পুরস্কারের জন্য ঘোষিত হন বাংলাদেশের তরুণদের বিজ্ঞান গবেষণার দেখভাল বা তত্ত্বাবধানের জন্য। এই পুরস্কার দিয়ে থাকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারী বিজ্ঞানীদের একটি নামকরা সংগঠন ওডব্লিউএসডি।

ড. তানজিমা হাশেম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা বা সুরক্ষার ক্ষেত্রে কম্পিউটার নির্ভর একটি পথ বা উপায় বের করেছেন। ড. তানজিমা বলেন, এ রকম একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় মূলত অনলাইনে নানা ধরনের সেবা নেওয়ার সময়। স্বাস্থ্য, অভ্যাস, অবস্থান প্রভৃতি বিষয়ে নিজ নিজ বা ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার ক্ষেত্রে।

তিনি আরো বলেন, আমরা কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হই। আর তা বেশি দেখা দেয় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। আমরা কাজ করেছি এসব সমস্যা সমাধানের জন্য। আমার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে এ সংক্রান্ত পুরস্কার।

ওডব্লিউএসডি বা অর্গানাইজেশন ফর উইমেন ইন সায়েন্স ফর দ্য ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ডের প্রধান জেনিফার মসন বলেছেন, ‘এটা বলা যেতে পারে যে, সবার জন্য যেটা অনুপ্রেরণামূলক সেটা হলো পাঁচ নারীর সংকল্প, নিষ্ঠা, উদ্যম ইত্যাদি। আর এসব বিষয় বিশেষভাবে প্রয়োজন উন্নয়নশীল বিশ্বের নারী গবেষকদের জন্য। তাদের কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্য অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে স্থানীয়ভাবে কঠিন পরিস্থিতি বা অবস্থার মধ্যেও।

এদিকে ইলসেইভার ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইলান স্কেম বলেছেন, বিকাশমান নানা ক্ষেত্রে কঠিন বাধা মোকাবিলা করছেন বাংলাদেশের সফল কম্পিউটার বিজ্ঞানী তানজিমা হাশেম। তার কাজের মধ্যে রয়েছে সাইবার নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মূল্যবান সম্পদের দূষণ দূরীকরণসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ড. তানজিমা হাশেম ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং সফটওয়্যার প্রকৌশলীতে পিএইচডি অর্জন করেন। ২০০৬ সালে বুয়েট থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশলীতে এমএসসি পাস করেন। তার গবেষণার আওতা হচ্ছে ডাটাবেস, ডাটা মাইনিং এবং ইনফরমেশন সিস্টেম। আর যেসবে খুবই বেশি আগ্রহী সেগুলো হলো— কুয়ারি প্রসেসিং ফর লোকেশন বেজড সার্ভিসেস, ডাটা ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য ক্লাইড, কুয়ারি প্রসেসিং ইন সোশ্যাল নেটওয়ার্কস, প্রাইভেসি ইনলোকেশন বেজড অ্যাপ্লিকেশনস, মোবাইল কম্পিউটিং ইত্যাদি।

সূত্র: ইত্তেফাকfavicon59-4

Leave a Reply