ছিন্নমূলদের স্কুল ‘সমতা’

ছিন্নমূলদের স্কুল ‘সমতা’

  • লিডারশিপ ডেস্ক

রাকিব নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে। থাকে ঢাকার রায়েরবাজারে। এলাকার বখাটে ছেলেদের সঙ্গে মিশে একসময় লেখাপড়া ছেড়ে দিল। তবে তার কথা জানালেন সমতার শিক্ষকরা। তার সঙ্গে দেখা করে তাঁরা কথা বললেন। ফের লেখাপড়া শুরু করল সে। এবার এসএসসিতে সে জিপিএ চার পেয়েছে। ইউডায় অফিস সহকারীর কাজ করে, অবসরে সমতা কলেজে পড়ে।

সমতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার ২৩ জন ছাত্র-ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে ২২ জনই পাস করেছে। এ পর্যন্ত এই স্কুল ও কলেজ থেকে ৭৭ জন ছাত্র-ছাত্রী পাস করেছে। তাদের অনেকেই স্নাতক, বাকিরা ইউডায় পড়ছে। কিভাবে এই নিম্ন আয়ের ছেলে-মেয়েদের স্কুল ও কলেজের শুরু—এ প্রশ্নের জবাবে ইউডার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুজিব খান বললেন, ‘ছিন্নমূল মানুষের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার সুবিধা দেওয়ার জন্য ২০০০ সালের ২৩ এপ্রিল মাত্র সাতজন শিক্ষক, ১১ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম। ’ সমতার অধ্যক্ষ মনির আহমেদ বললেন ‘শুরুতে শিক্ষকরা সবাই ছিলেন ইউডা থেকে পাস করা, কেউ কোডার ছাত্র-ছাত্রী। তাঁরা কোনো সম্মানী পেতেন না। প্রতিদিন এক ঘণ্টা ছেলে-মেয়েদের পড়াতেন। এখনো তাদের বেশির ভাগ শিক্ষকই ইউডার ছাত্র-ছাত্রী।’ এমনই একজন জোবায়দা আক্তার, ফার্মাসি বিভাগের ছাত্রী। তিনি বললেন, ছেলে-মেয়েদের আমরা ইউডার ফান্ড থেকে বই-খাতা কিনে দিই, পোশাক দিই, টিফিন করাই।’ বিবিএর ছাত্র রতন বললেন, ‘সোডা’র মতো পরিবেশে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আমরা তাদের পড়াই।’ এখন সমতায় আছে ৪০০ ছাত্র-ছাত্রী। শিক্ষক আছেন ৩৮ জন। এ ছাড়া ইউডার ২২ জন ছাত্র-ছাত্রী বিনা বেতনে তাদের ক্লাস নেন।

সমতার ইংরেজি শিক্ষক শামীম শেখ বললেন, ‘গাড়ির ড্রাইভার, পিয়ন, দারোয়ান, রিকশাচালক, দিনমজুর, গৃহপরিচারিকা, হকার এসব মানুষের ছেলে-মেয়েরা আমাদের ছাত্র-ছাত্রী।’ তবে তাদের অভিভাবক সমতার শিক্ষকরা। আর কোডা ও সোডার ৯০ জন শিক্ষক-কর্মচারীও একেকটি শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁদের টাকায় তাদের পরীক্ষার ফি, ভর্তির টাকার ব্যবস্থা হয়। এ ছাড়া মাসে ৬০০ টাকা দিয়ে আগ্রহীরা তাদের অভিভাবক হন। এসব অভিভাবককে নিয়ে তাদের অভিভাবক সভাও হয়। আর তাদের দেওয়া টাকা এসব শিশু-কিশোরের বই-খাতা, পোশাক কেনার জন্য খরচ করা হয়। যাদের অভিভাবক নেই, তাদের খরচ দেয় ইউডা কর্তৃপক্ষ। স্কুলটিতে শিশু থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। ভবন ৯-এ বালক ও ভবন ৩-এ বালিকা শাখার ক্লাস হয়। তাদের প্রতি সপ্তাহে বাধ্যতামূলক ক্লাস টেস্ট হয়। বছরে ওরা তিনটি সেমিস্টারে পড়ে। ওদের পরীক্ষার ফলাফল প্রদান করে কোডার মূল্যায়ন বিভাগ। অধ্যাপক মুজিব খান এ স্কুল নিয়ে বললেন, ‘একটু ভালো পরিবেশ, আর ভালো শিক্ষকের ছোঁয়ায় আমরা তাদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

সূত্র: কালের কণ্ঠfavicon59-4

Leave a Reply