বর্ষসেরা আইসিটি ব্যক্তিত্ব ড. মো. সবুর খান

বর্ষসেরা আইসিটি ব্যক্তিত্ব ড. মো. সবুর খান

  • লিডারশিপ ডেস্ক

ড্যাফোডিল পরিবার ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান ৩য় ডেইলি স্টার আইসিটি অ্যাওয়ার্ডের ‘আইসিটি পার্সন অব দ্য ইয়ার-২০১৮’ পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি পর্যায়ে তাঁকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। গত ১৭ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের হাত থেকে তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভি, মাক্রোসফট বাংলাদেশ, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও লাওসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সেলিম আরএফ হুসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির প্রমুখ।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ২০১৬ সাল থেকে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার আইসিটি আ্যওয়ার্ড প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় হোটেল লা মেরিডিয়ানে ১৭ নভেম্বর বসেছিল এ আয়োজনের তৃতীয় আসর। এই আয়োজনে ডেইলি স্টারকে সহযোগিতা করেছে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক ও বেসিস। এবছর পুরস্কারের জন্য ৫টি বিভাগে ১৫২টি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে জুড়িবোর্ড প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ৪টি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে ড. মো. সবুর খানকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্যান্য বিশিষ্টজনের সঙ্গে ড. মো. সবুর খান। ছবি: দ্য ডেইলি স্টার

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির উষালগ্ন থেকে একজন পথিকৃৎ প্রযুক্তিব্যবসায়ী হিসেবে এই খাতের উন্নয়নে ড. মো. সবুর খান নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ ও দেশের বাইরের দক্ষ আইটি পেশাজীবীর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গত শতকের ৯০-এর দশকে একজন আইটি উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন। তখন তিনি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স প্রতিষ্ঠা করেন যেটি কম্পিউটার বিক্রির পাশাপাশি আইসিটির প্রশিক্ষণ প্রদান করত।

এরপর ড. খান ১৯৯৫ সালে এ্যাসেমব্লিং কম্পিউটারে প্রবেশ করেন এবং বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার সুপার স্টোর ধারণার প্রবর্তন করেন। এখন ড্যাফোডিল গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং এক ডজনেরও বেশি বড় বড় প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ড্যাফোডিল। তিন দশকের ক্যারিয়ারে ড. খান আইটি খাতে অনেক নতুন নতুন আইডিয়া অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২০০২ সালে প্রথম আইটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত হয় ড্যাফোডিল। এ বিষয়ে ড. মো. সবুর খান বলেন, ‘সেই সময়ে এটা ছিল অকল্পনীয়।’ একইবছরে তিনি তাঁর মেধা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যকে শিক্ষাখাতের দিকে নিবদ্ধ করেন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। ড্যাফোডিল গ্রুপ এখন স্বাস্থ্য ও ই-কমার্স খাতেও পা রেখেছে।

ড. মো. সবুর খান ২০১৩ সালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০২ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের (উইটসা) পরিচালক এবং উইটসার বিশ্ব বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যামনাল ইউনিভার্সিটি ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে তথ্যপ্রযুক্তিখাতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার “উইটসা মেরিট এওয়ার্ড” এবং এবছর “এসোসিও  এডুকেশন এওয়ার্ড” পাওয়ার গৌরব অর্জন করে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ইতিমধ্যে ড. মো. সবুর খান ‘এমটিসি গ্লোবাল আউটস্ট্যান্ডিং কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড-আইসিটি’, ‘গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ডস ফর এক্সিলেন্স ইন কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ’, ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড’, ‘এশিয়াস মোস্ট ইন্সপায়ারিং নেশন বিল্ডার অ্যাওয়ার্ড’, ‘সৌন্দর্য বর্ধনে প্রধানমন্ত্রী পদক’, ‘ইউটসা অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট আইসিটি এন্ট্রাপ্রেনার’, ‘বেসিসের লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’, ‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার’, ‘এইচএসবিসি স্বর্ণ পদক’, ‘সাউথইস্ট ব্যাংকের র‌্যাপোর্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড’সহ অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি ‘এশিয়ার শীর্ষ ১০ ব্যবসায়ী নেতা’র একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

Leave a Reply