আমরা নারী, আমরা উদ্যোক্তা, আমরা সফল

আমরা নারী, আমরা উদ্যোক্তা, আমরা সফল

  • শামীম রিমু

নারীর এগিয়ে চলা কোনোকালেই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, আজও নেই। এই একুশ শতকেও নারীর অগ্রযাত্রার পথে পথে ছড়ানো রয়েছে কঙ্কর ও কাঁটা। তবু অপরাজিতা নারী সব সময়ে সবকালে এগিয়ে গেছে সব বাধাকে উপেক্ষা করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে অনেক নারীই উদ্যোক্তার খাতায় নাম লেখাচ্ছেন। সফলও হচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু এই সফল হতে গিয়ে কত বাধা ডিঙ্গাতে হয়েছে তাদের? সফল কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা নিজের মুখেই বলেছেন সেই গল্প। দুই পর্বের ধারাবাহিকের আজ প্রথম পর্ব।


১. স্যু ব্রাইস

  • অঙ্কনশিল্পী, চিত্রশিল্পী, আলোকচিত্রী ও নৃবিজ্ঞানী-বহুপ্রতিভাধর স্যু ব্রাইসের মতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠা প্রাকৃতিক বিবর্তনের একটি অংশ। নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার কোনো তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল না, প্রয়োজনের তাগিদেই তা হয়ে উঠেছে বলে তিনি দাবী করেন। ১৩ বছর নিজের দক্ষতাগুলো শাণিত করতে করতে এখনো হাঁপিয়ে পড়েননি তিনি, বার্ষিক উপার্জনের লক্ষ্য বর্ধিত করে চলেছেন এখনো। নিজেকে ছুঁড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জগুলো এখন আর ভয় পান না তিনি, আর এই ভয় কাটিয়ে ওঠার মূল অস্ত্র তাঁর সৃষ্টিশীলতা।

২. সোফিয়া আমোরুসো

  • তরুণ উদ্যোক্তাদের যে উপদেশটি সোফিয়া সাধারণত দিয়ে থাকেন তা হল-‘হাল ছেড়ো না, কোনো কিছুই ব্যক্তিগতভাবে নিও না, কোনো প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান হিসেবে নেতিবাচক হয়ো না।’ সোফিয়া একাধারে ন্যাস্টি গাল এবং ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং রিটেইলারের প্রতিষ্ঠাতা। ব্যর্থতাকে প্রশ্রয় না দেয়া তাঁর সাফল্যের মূলমন্ত্র।

৩. পামেলা স্লিম

  • সুবক্তা, ব্যবসায় প্রশিক্ষক এবং লেখিকা পামেলা স্লিম টানা দশ বছর দৈনিক ১৫ ঘন্টা করে কাজ করার পাশাপাশি সান ফ্রান্সিস্কোর একটি অলাভজনক মার্শাল আর্ট স্কুলের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। ত্রিশ বছর বয়সে নিউমোনিয়া তাঁকে বিছানায় শুয়ে থাকতে বাধ্য করলে তিনি যাপিত জীবনের ধারা পাল্টানোর প্রয়োজনবোধ করেন। আরোগ্য হয়ে তিনি এক পুরনো বন্ধুর কনসাল্টেন্ট হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। তিনি অনুভব করেন পূর্ববর্তী কর্মজীবনের খাটুনি তাঁকে বড় উদ্যোগ নেবার জন্য প্রস্তুত করেছে। তারপর আর পেছনে ফেরা নয়। শুধুই এগিয়ে চলা। এ বছর তিনি তাঁর ব্যবসার ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে চলেছেন। সবসময় কাজ সহজ না হলেও এই কাজই তাঁকে আনন্দ ও সন্তুষ্টি দেয় বলে তিনি জানান।

৪. টারা জেন্টাইল

  • টারা জেন্টাইল একাধারে সুবক্তা, লেখিকা এবং কোয়ায়েট পাওয়ার স্ট্যাটেজির স্রষ্টা। সেবাকে কী করে পণ্যে রূপ দিতে হয়, সে ব্যাপারে তাঁর পরামর্শের জুড়ি নেই। গর্ভধারণের নয় মাসের মাথায় চাকরিতে প্রমোশনের বদলে একটি ব্যবসার মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কন্যা সন্তানের জন্মের ছয় মাস পর নিজেই একটি ছোট ওয়েবসাইট চালু করেন, পরবর্তীতে একটি ব্লগ সাইট কেনেন। সাধারণ কিছু পরিবর্তনের পর রাতারাতি আগের চেয়ে বেশী টাকা কামানো শুরু করেন। বর্তমানে তিনি অন্যতম সফল ব্যবসা প্রশিক্ষক হিসেবে জনপ্রিয়।

৫. মেলিসা গাল্ট

  • কর্নেল থেকে পড়াশোনা শেষ করার পরপরই মায়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী আন ব্যাক্সটারের মেয়ে মেলিসা। কিন্তু নিজেকে তিলে তিলে শক্ত করে গড়ে তুলতে তাঁর ভুল হয়নি। ইন্টেরিওর ডিজাইনিং পেশায় জীবন গড়তে চেয়েছিলেন। চাকরিরত অবস্থায় ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজ ব্যবসা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন, ম্যানেজারের কাছে ছুটি চাইলে আবেদন নাকচ করে দেয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। চাকরি ছেড়ে নিজের কাজে লেগে পড়েন মেলিসা। নতুন কাজ জোগাড় করে ৭০ হাজার ডলারের ঋণ শোধ করে লাখপতি বনে যান তিনি। এজন্য তাঁকে সপ্তাহে ৬ দিন ১৫ ঘন্টা করে কাজ করতে হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য তাঁর উপদেশ হলো-‘যা তোমাকে উজ্জীবিত করে তোলে, তা ঘটানোর জন্য যা করা প্রয়োজন, তাই কর। অপ্রত্যাশিত সাফল্য তোমার সঙ্গী হবে।’

৬. বীট শ্যালেট

  • মাত্র ১২ বছর বয়সে পোস্টার পরিবেশনার ব্যবসা শুরু করেন নিজের ঘরে বসেই। পরবর্তীতে এলা ম্যাগাজিনে ফটো এডিটর হিসেবে যোগদান করেন, কিন্তু নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতার মূল্যায়ন না পেয়ে চাকরি ছাড়েন তিনি। নিজেকে কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা তাঁকে শিখিয়েছে ভয় দূর করে জয় ছিনিয়ে আনতে।

৭. স্যু জিমারম্যান

  • অনলাইন ব্যবসা প্রশিক্ষক স্যু জিমারম্যানের ব্যবসা জীবন শুরু সেই ছোটবেলার স্কুলে, টিফিন টাইম থেকে। নিজ হাতে রাঙানো চুলের ক্লিপ বিক্রী করতেন সহপাঠীদের কাছে, যদিও তা করার কোনো প্রয়োজন তাঁর ছিল না। বাবার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা ছিল। মেয়ের এই ছোট্ট উদ্যোগে তাঁর অনেক অনুপ্রেরণাও ছিল। শৈশবের এই অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণা এখনো তাঁর মূল চালিকাশক্তি।

সূত্র : ইনকর্পোরেট ডটকম favicon59

Sharing is caring!

Leave a Comment