পরদেশে প্রখ্যাত

পরদেশে প্রখ্যাত

  • লিডারশিপ ডেস্ক

এই পৃথিবীতে যুগে যুগে এসেছেন বহু দেদীপ্যমান ব্যক্তি। নিজ দেশ ছেড়ে তাদেরই অপর দেশে গিয়ে ঠাঁই নিতে হয়েছে। চরম বাস্তবতার শিকার হয়ে অথবা নিজ দেশ থেকে প্রাণ রক্ষায় পালিয়ে গেছেন অন্য কোনো দেশে। অবৈধ নাগরিক হিসেবে সহ্য করতে হয়েছে সামাজিক ও আইনি নানা জটিলতা। তারপরও নিজেকে টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। এক সময় কোনো মতে ঠাঁই করে নেওয়া দেশটিতে তিনি হয়েছেন উজ্জ্বল নক্ষত্র। কাজের যোগ্যতা ছড়িয়েছেন গোটা বিশ্বে। বিভিন্ন অঙ্গনে তারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। নিজের নামের সঙ্গে বহন করেছেন অসাধারণ পরিচয়। ঠাঁই পাওয়া দেশটির গৌরব বাড়াতে অবৈধ এই নাগরিকের পরিচয় হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে অপর দেশে আশ্রয় পেয়ে হয়েছেন সেলিব্রেটি। বিশ্বে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা সমাজের চোখে অভিবাসী।


কার্ল মার্কস

0কার্ল হাইনরিশ মার্কস জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন ১৮১৮ সালের ৫ মে। দেশটির প্রুশিয়া সাম্রাজ্যের নিম্ন রাইন প্রদেশের অন্তর্গত ট্রাইর নামক স্থানে এক ইহুদি পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। সেই ছেলে পরবর্তীতে একজন প্রভাবশালী জার্মান সমাজ বিজ্ঞানী ও মার্কসবাদের প্রবক্তা হন। এ ছাড়াও একাধারে তিনি দার্শনিক, বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, সমাজতত্ত্ববিদ ও সাংবাদিক ছিলেন। জীবিত অবস্থায় সেভাবে পরিচিত না হলেও মৃত্যুর পর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। বিংশ শতাব্দীতে সমগ্র মানব সভ্যতা মার্কসের তত্ত্বে প্রবলভাবে আলোড়িত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের পতনের পর এ তত্ত্বের জনপ্রিয়তা কমে গেলেও তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মার্কসবাদ এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৪৮ সালে ইউরোপজুড়ে প্রচুর বিপ্লব হয়। তখন মার্কসকে বন্দী করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এরই মধ্যে বিপ্লবীরা ফ্রান্সের রাজা লুই-ফিলিপকে রাজি করিয়ে মার্কসকে সে দেশে আনার ব্যবস্থা করে। রাজার আমন্ত্রণেই তিনি চলে আসেন। এ সময় ফ্রান্সে জুন ডেইস আপরাইজিং নামে পরিচিত বিপ্লবটি সংঘটিত হয়। বিপ্লবটির পর ১৮৪৯ সালে মার্কস জার্মানিতে ফিরে যান। সেখানে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতে শুরু করেন। এ সময় তাকে দুবার অভিযুক্তসহ আবার ফ্রান্সে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। তখন ফ্রান্স তাকে শরণার্থী হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। তারপর মার্কস লন্ডনে চলে যান। লন্ডন তাকে ইউরোপ মহাদেশের একজন শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করে। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। ১৮৮৩ সালের ১৪ মার্চ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন।

1বব মার্লে

১৯৭৭ সালে গোটা বিশ্বে ঝড় তোলা ‘এক্সোডস’ অ্যালবামের গায়ক বব মার্লে। তিনি জ্যামাইকাতে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু বব মার্লের পরিবার নিজেদের সিরিয়ার খ্রিস্টান বলে দাবি করে এসেছেন। সবার কাছে তিনি পরিচিত জ্যামাইকান রেগে শিল্পী, গিটার বাদক ও গীতিকার হিসেবে। ‘বাফেলো সোলজার’, ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’, ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ’, ‘ব্ল্যাক প্রগ্রেস’-এর মতো অনেক ভুবন কাঁপানো গান দিয়ে সংগীতপ্রেমীদের মন জয় করেছিলেন বব মার্লে। অবহেলিত মানুষের অধিকার নিয়ে গান গাওয়ায় অনেকের প্রিয় মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। নিজের গানে নানা ক্ষোভ ও সমস্যার কথা বলে মন জয় করেছিলেন তরুণদের। ছোটবেলা থেকেই সাদা-কালো দ্বন্দ্বে ভুগতেন তিনি। সুবিন্যস্ত জটাধারী চুলের মার্লে সবসম মানবতার পক্ষে গান গাইতেন।

নিক্কি মিনাজ

2লাতিন আমেরিকার উত্তরের টুইন আইল্যান্ড, ‘ত্রিনিদাদ ও টোবাগো’র ছোট শহর সেন্ট জেমসে ১৯৮২ সালে জন্মেছিলেন নিক্কি মিনাজ। দরিদ্রতার জন্য ছোটবেলা কেটেছিল দুর্বিষহ। তাইতো অর্থ অর্জনের অদম্য ইচ্ছা কাজ করত সব সময়। বাবা-মায়ের সঙ্গে পাঁচ বছর বয়সে নিউইয়র্কে আসেন নিক্কি। ম্যানহাটনের একটি স্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর পারফর্ম করতেন অফ-ব্রডওয়েতে। ব্রংসের একটি রেস্তোরাঁতেও কাজ করেছেন দুনিয়া-কাঁপানো ডিভা র‌্যাপার নিক্কি। ২০০৪ সালে গানের জগতে আসেন। ২০০৮-এ রিলিজ হওয়া ‘সাকা ফি’ এর জন্য জিতে নেন আন্ডারগ্রাউন্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস। তবে নিক্কির ক্যারিয়ারে তকমা লাগে ২০১০ সালে অ্যালবাম ‘পিঙ্ক ফ্রাইডে’ থেকে। অসংখ্য অ্যাওয়ার্ডস জয়ের গৌরব রয়েছে তার ঝুলিতে।

3জেরি স্প্রিঙ্গার

‘আ পোর রিফিউজি’ বলে নিজেকে সম্বোধন করতেন মার্কিন টেলিভিশনের পরিচিত মুখ জেরি স্প্রিঙ্গার। তার জন্ম ১৯৪৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। তার সর্বাধিক পরিচিত ট্যাবলয়েড টক শো ‘দ্য জেরি স্প্রিঙ্গার শো’ চালিয়ে আসছেন ১৯৯১ সাল থেকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে লন্ডনের হাইগেট টিউব রেল স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছিল জেরির পরিবার। সেখানেই জন্ম হয় জেরির। এরপর প্রাণ বাঁচাতে তারা আমেরিকায় পালিয়ে আসে। বড় হয়ে ডেমোক্রেটিক পদপ্রার্থী হিসেবে সিনসিনাটির মেয়র হয়েছিলেন তিনি। আইনজীবী, সংবাদ উপস্থাপক, অভিনেতা এবং মিউজিশিয়ান হিসেবেও জীবনে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছিলেন জেরি স্প্রিঙ্গার। স্প্রিঙ্গারের ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু হয় ছাত্রাবস্থায়। তখন তিনি কলেজ কেন্দ্রিক রেডিও স্টেশনে কাজ করতেন। সেখানে দক্ষতার পরিচয় মেলে তার।

এরপর সিনসিনাটির মেয়র হওয়া পর্যন্ত রেডিওতে কাজ চালিয়ে যান। পলিটিক্যাল রিপোর্টার হিসেবেও তার দারুণ সুনাম। কাজের দক্ষতা দেখে বিভিন্ন রেডিও টেলিভিশন তাকে নিউজ কমেন্টেটর হিসেবে হায়ার করত। শুধু আমেরিকাতে নয়, ইংল্যান্ডের আইটিভিতে ‘দিজ মর্নিং’ সহ আরও অনেক শো করেছেন। তার আরও অসংখ্য উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে। অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী এই ব্যক্তিও নিজেকে মেলে ধরেছেন অপর দেশে গিয়ে।

জাস্টিন বিবার

4জাস্টিন ড্রিউ বিবার। ১৯৯৪ সালের ১ মার্চ তিনি কানাডায় জন্মগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী একাধারে গীতিকার এবং সংগীত প্রযোজক। বিবার ২০০৮ সালে আমেরিকায় চলে যান। এক বছরের মাথায় একটি আমেরিকান ট্যালেন্ট এজেন্টের মাধ্যমে এক্সটেন্ডেড প্লে মাই ওয়ার্ল্ড নামে তার প্রথম ইউটিউব ভিডিও বের হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্লাটিনাম স্বীকৃতি লাভ করে। বিবার-ই প্রথম শিল্পী যার প্রথম অ্যালবামের সাতটি গান বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় স্থান করে নেয়। বিবারের প্রথম পূর্ণ অ্যালবাম মাই ওয়ার্ল্ড ২.০ প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। এই অ্যালবামের বেবি গানটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। ইউটিউবের এখন পর্যন্ত সর্বাধিক প্রদর্শিত, আলোচিত এবং পছন্দের ভিডিওগুলোর একটি।

২০১২ সালে জাস্টিন বিবার প্রকাশ করে তার তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম বিলিভ। যুক্তরাষ্ট্রে তার অ্যালবাম ও গানের মোট বিক্রি সংখ্যা ৪৪.৭ মিলিয়ন। জাস্টিন বিবার বিগত কয়েক বছরে অসংখ্য পুরস্কারও অর্জন করেছেন। ২০১০-এ আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে বিবার বর্ষসেরা শিল্পীর পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি ৫৩তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে শ্রেষ্ঠ নবীন শিল্পী ও বেস্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। প্রায় সময় তার গান, ছবি বিশ্বব্যাপী আলোচনা, সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

5লেডি গাগা

স্টেফানি জোয়ান অ্যাঞ্জেলিনা গারমানোটা, যিনি বিশ্বের কাছে লেডি গাগা হিসেবে বেশি পরিচিত। ১৯৮৬ সালের ২৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন্ম হলেও তিনি ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত। ছোটবেলায় রোমান ক্যাথলিকের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে থিয়েটারের প্রতি আগ্রহী হয়ে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার স্কুলে ভর্তি হন। ২০০৫ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সংগীত জগতে যাত্রা শুরু হয় লেডি গাগার। মার্কিন পপশিল্পী লেডি গাগা বিচিত্র ফ্যাশনের জন্য বেশ আলোচিত। গানের পাশাপাশি এইডস ও বন্যার্তদের সহযোগিতাসহ নানা ধরনের সামাজিক কাজে তিনি যুক্ত। ২০১৩ সালের বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বসের ৪৫ বছরের কমবয়সী সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন লেডি গাগা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তিনটি অ্যালবামই লেডি গাগাকে এনে দিয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। ২০০৮ সালে গাগার প্রথম অ্যালবাম দ্য ফেম বাজারে আসে। পরের বছরই আসে তার দ্বিতীয় অ্যালবাম দ্য ফেম মনস্টার। সর্বশেষ ২০১১ সালে মুক্তি পায় গাগার তৃতীয় অ্যালবাম বর্ন দিস ওয়ে। অ্যালবাম বিক্রির নতুন রেকর্ড যেমন করেছেন লেডি গাগা, তেমনি টুইটারেও তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও

7লিওনার্দো উইলহেম ডিক্যাপ্রিও ১৯৭৪ সালে ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্ববিখ্যাত এই অভিনেতা বিশ্বের কাছে মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং প্রযোজক হিসেবে পরিচিত। অভিনয়ের দক্ষতার কারণে তিনি বহু পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। লাভ করেছেন তিনটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড। তিনি অভিনয় জীবন শুরু করেন টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। তবে বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিচিতি লাভ করেন টাইটানিক চলচ্চিত্রে জ্যাক ডসন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এরপর তিনি অনেকগুলো সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০০২ সালে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও জীবনীমূলক চলচ্চিত্র ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান এবং ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র গ্যাংস অব নিউইয়র্কে অভিনয় করেন। গ্যাংস অব নিউইয়র্কের মাধ্যমে ডিক্যাপ্রিও পরিচালক মার্টিন স্কোরসেজির সঙ্গে জুটি গড়ে তোলেন। ২০০৬ সালে সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার মনোনয়ন পান। ডিক্যাপ্রিও ২০১০ সালে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী চলচ্চিত্র ইনসেপশনে অভিনয় করেন। তিনি ২০১৩ সালে দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিটের জন্য একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পান। ডিক্যাপ্রিও একাডেমি পুরস্কারের জন্য মোট ছয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

8সিগমন্ড ফ্রয়েড

সিগমন্ড ফ্রয়েড অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন মে ৬, ১৮৬৫ সালে। সারা বিশ্ব তাকে চেনে সাইকো-অ্যানালিসিসের জনক হিসেবে। হিটলার অস্ট্রিয়া আক্রমণ করলে নিজের জন্মভূমি ছেড়ে লন্ডনে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন ফ্রয়েড। তিনি মনোসমীক্ষণ নামক মনোচিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবক। তার বিভিন্ন কাজ জনগণের মাঝে বহুলাংশে প্রভাব ফেলে। তার আবিষ্কৃত মানব সত্তার ‘অবচেতন’, ‘ফয়েডীয় স্খলন’, ‘আত্মরক্ষণ প্রক্রিয়া’ এবং ‘স্বপ্নের প্রতীকী ব্যাখ্যা’ প্রভৃতি ধারণা জনপ্রিয়তা পায়। একই সঙ্গে ফ্রয়েডের বিভিন্ন তত্ত্ব সাহিত্য, চলচ্চিত্র, মার্কসবাদী আর নারীবাদী তত্ত্বের ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব বিস্তার করে। রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলে প্রচণ্ড যৌন অবদমনকালে সিগমন্ড ফ্রয়েডের উদ্ভব ঘটেছিল। ফ্রয়েড যেসব তত্ত্ব দিয়েছিলেন তাতে যৌনতাকে অকল্পনীয় গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তার উদ্ভাবিত সাইকোঅ্যানালাইসিস তত্ত্ব সারা বিশ্বে আলোচিত-সমালোচিত ও প্রভাবিত করেছিল। তার আবিষ্কার লিঙ্গকেন্দ্রিক মনের উদ্বেগ, কেসট্রেশন অ্যাংজাইটি শিশুর মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল, শিশু ও নারীদের সঙ্গে যৌনাঙ্গের অযৌন ব্যবহার রোধে বৈজ্ঞানিক উপায় আবিষ্কার করেন সিগমন্ড ফ্রয়েড।

আলবার্ট আইনস্টাইন

9১৮৭৯ সালে ১৪ মার্চ জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন আলবার্ট আইনস্টাইন। বিশ্বের কাছে তিনি আমেরিকান পদার্থ বিজ্ঞানী হিসেবেই বেশি পরিচিত। মহান এই পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম ব্যক্তিত্ব। আপেক্ষিকতার তত্ত্ব এবং বিশেষত ভর-শক্তি সমতুল্যতার সূত্র আবিষ্কারের জন্য তিনি বিখ্যাত। জার্মানিতে থাকা অবস্থায় আইনস্টাইন ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার নোবেল পুরস্কার লাভের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ অবদান এবং বিশেষত আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া সম্পর্কিত গবেষণাকে। আইনস্টাইন পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর গবেষণা করেছেন এবং নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কারে তার অবদান অনেক। সবচেয়ে বিখ্যাত আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব বলবিজ্ঞান ও তড়িৎ চৌম্বকত্বকে একীভূত করেছিল। আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব অসম গতির ক্ষেত্রে আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নতুন মহাকর্ষ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা ছিল অন্যতম। তার অন্যান্য অবদানের মধ্যে রয়েছে আপেক্ষিকতাভিত্তিক বিশ্বতত্ত্ব, কৈশিক ক্রিয়া, ক্রান্তিক বর্ণময়তা, পরিসাংখ্যিক বলবিজ্ঞানের চিরায়ত সমস্যাসমূহ ও কোয়ান্টাম তত্ত্বে তাদের প্রয়োগ, অণুর ব্রাউনীয় গতির একটি ব্যাখ্যা, আণবিক ক্রান্তিকের সম্ভাব্যতা, এক-আণবিক গ্যাসের কোয়ান্টাম তত্ত্ব, নিম্ন বিকরণ ঘনত্বে আলোর তাপীয় ধর্ম, বিকিরণের একটি তত্ত্ব যার মধ্যে উদ্দীপিত নিঃসরণের বিষয়টিও ছিল, একটি একীভূত ক্ষেত্র তত্ত্বের প্রথম ধারণা এবং পদার্থবিজ্ঞানের জ্যামিতিকীকরণ। ১৯৩৩ সালে এডলফ হিটলার জার্মানিতে ক্ষমতায় আসেন, সে সময় তিনি বার্লিন একাডেমি অব সায়েন্সের অধ্যাপক ছিলেন। ইহুদি হওয়ার কারণে নািস হুমকিতে আইনস্টাইন দেশত্যাগ করে আমেরিকায় চলে আসেন। তারপর আর জার্মানিতে ফিরে যাননি। ১৯৪০ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব পান। সেখানে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫৫ সালে আমেরিকাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।favicon59-4

Leave a Reply