মনের মতো বাড়ি সাজাই

মনের মতো বাড়ি সাজাই

  • লরা গ্যাসকিল

একটি নতুন বাড়িতে যখন প্রথম প্রবেশ করেন, সেখানে আপনার পছন্দমতো কিছু কাজ করার চাহিদা থেকেই যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত বাড়িটি আপনার মনের মতো হয়ে না উঠে। কিছু ফিনিশিং, ফিক্সার ও পেইন্টিংয়ের কাজ করতে হয় আগের মালিকের পছন্দ অনুসারে। সুতারং কোন যায়গা থেকে শুরু করবেন? ছোট বা বড় উভয় বাড়ির জন্যই এখানে ১০টি কৌশল উল্লেখ করা হলো যা আপনার বাসস্থানকে আপন রঙে রাঙাবে।


traditional-entry১.      সামনের দরজার রঙ : আমরা বাইরের রঙকে অত্যাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কারণে অনেক সময় দেখা যায় যে দরজার রঙ কেমন হবে সে ব্যপারে উদাসীন থাকি। যখন আপনি কোনো রঙ পছন্দ করবেন তখন আপনাকে অবশ্যই বিক্রেতার কাছ থেকে খোঁজ নিতে হবে যে রঙটি বর্তমান আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা। উজ্জল চকচকে নতুন হার্ডওয়্যার আপনার গৃহকে সতেজ দেখাবে।

২.       দেয়ালে ঝুলুক সুন্দর ছবি : নতুন বাড়িকে নিজের  মতো করে সাজাতে কিছু সুন্দর প্রিয় ছবি দেয়ালের ওপর ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। দেয়ালে যদি ছিদ্র করার সুযোগ থাকে তাহলে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রয়োজনে আরো কিছু ছিদ্র করে মনের মতো করে লাগাতে পারেন আপনার পছন্দসই ওয়ালমেট।

৩.      কিচেনের ফোসিট পরিবর্তন : আপনার কিচেনে ফোসিট থাকলে সেটা ভালো ব্যাপার, তবে  পছন্দসই না হলে সুন্দর দেখে নতুন একটা এনে পুরানোটি পরিবর্তন করতে পারেন। সাধারণ এই পরিবর্তনগুলো আপনার কিচেনের দারুণ পরিবর্তন আনবে, এর খরচও কম। শুধু যেসব হার্ডওয়্যার আছে  তার সঙ্গে সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। অথবা বড় রকমের পরিবর্তন আনতে চাইলে এর সবই পরিবর্তন করতে পারেন।

৪.      একটা বা দুইটা দেয়াল ভিন্ন রঙ : পুরো বাসার জন্য অনেক রঙ সংগ্রহ করা ঝামেলাপূর্ণ কাজ। এসব বাদ দিয়ে আপনার অধিক পছন্দ মতো একটি বা দুইটি দেয়ালের রঙ পরিবর্তন করতে পারেন।

৫.      সতেজ ফুলে ঘর সাজুক : কোনো ফুলের দোকান অথবা আশপাশে যেকোনো স্থান থেকে এক তোড়া সতেজ ফুল সংগ্রহ করে ঘরে রাখুন, দেখবেন তাৎক্ষণিকভাবে ঘরের সৌন্দর্য ফিরে আসবে। সংগৃহীত এসব ফুল আপনার ঘরের আসেপাশে রাখলে দেখবেন এই ছোট ব্যবস্থাপনাগুলি আপনার ঘরের চমৎকার নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনবে।

৬.      পা পড়ুক নরম গালিচায় : গালিচা এমনিতেই ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। ড্রইংরুমে কম আসবাবপত্র রেখে যদি সুন্দর কোনো ফুলের গালিচা বিছিয়ে দেন এবং পাশে শোপিচ ধরনের কিছু রাখলে ঘরের চেহারাটাই পাল্টে যাবে। শোপিচ অবশ্যই দরজার পাশে রাখবেন না, এমন স্থানে রাখুন যেখানে সচরাচর চোখ যায়।

৭.       ঝকঝকে-তকতকে, পরিস্কার-পরিচ্ছন : বাড়ির আসবাবপত্রসহ অন্যান্য যাই থাকুক না কেন সবকিছইু পরিস্কার রাখুন। আপনার বাড়ির বিভিন্ন অংশে টবে রোপণযোগ্য সুগন্ধি ফুলের ছোট আকৃতির গাছ রাখতে পারেন। এতে বাড়ির সৌন্দর্য বাড়বে পাশাপাশি ফুলের সুবাস তো রয়েছেই তবে সেটারও সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।

transitional-kitchen৮.     লাইট ফিক্সার পরিবর্তন : এখন বিভিন্ন স্টাইলের লাইট  পাওয়া যায় বাজারে। পুরান মডেলের বিরক্তিকর লাইট পরিবর্তন করে আপনার পছন্দ অনুযায়ী লাইট ব্যবহার করে ঘরকে আরো আধুনিক করে তুলতে পারেন। যদি সুযোগ থাকে তাহলে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর জন্য ইলেকট্রিশিয়ানকে দিয়ে ওভারহেড ফিক্সার স্থাপন করে নিতে পারেন। যেখানে এগুলো লাগানোর সুযোগ আছে সেখানে কেন অসুবিধা ভোগ করবেন? যে খরচগুলো কয়েক বছর ধরে আপনার প্রাত্যাহিক জীবনকে সহজতর এবং অধিক আরামদায়ক করে তুলবে সেই খরচগুলো হলো সম্পত্তির মুল্যমানের সমান।

৯.     জানালার পরিচর্যায় আধুনিকায়ন : জানালা সাজাতে দামি পর্দা লাগালেই যে সুন্দর দেখাবে তা নয়। ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র, বিছানার চাদর ইত্যাদির রঙয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কমদামী কাপড় দিয়েও  হরেক রকম লেস এবং ফিতা লাগিয়ে মনের মতো ডিজাইন করে জানালায় ব্যবহার করতে পারেন।

১০.     স্নানঘরে আধুনিক ফিটিংস : পুরো স্নানঘর কি নতুনরূপে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন? এর অর্থ এই নয় যে, আপনি কয়েটি সামান্য জিনিস বদলাবদলি করে স্নানঘরকে সতেজ করে ফেলবেন। পানির ট্যাপ, হার্ডওয়ার ক্যাবিনেট, টাওয়েল বার, লাইট ফিক্সার এমনকি পুরাতন মেডিসিন ক্যাবিনেট ও পুরাতন আয়নাটাও পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন।

_clewESkলেখক : লরা গ্যাসকিল

অনুবাদ : শিমি আক্তার

সূত্র : ফোর্বসfavicon59

Leave a Reply