ইলিশের রাজ্য মাওয়া

ইলিশের রাজ্য মাওয়া

  • তৌহিদুল ইসলাম

একটু ভাবুন তো ধবধবে সাদা ধোয়া উঠা ভাত সঙ্গে কড়া ইলিশ ভাজা। থালায় সাজানো বাহারি ধরনের ভর্তা। কি! জিভে জল এসেছে? হ্যাঁ নিশ্চয় জল আসবেই।  মাছে ভাতে বাঙালী বলে কথা। আর মাছ যদি হয় ইলিশ তবে তো কথাই নেই। ভোজন প্রিয় মানুষেরর জন্য এমন খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে আছে ইলিশের রাজ্য মাওয়াঘাট।

যুগ যুগ ধরেই মাওয়া ঘাটের ইলিশের চাহিদা দেশ ছাপিয়ে বিদেশে। আর এই চাহিদাকে পুঁজি করে মাওয়া ঘাট পাড়ে গড়ে উঠেছে ছোট বড় হোটেল। হোটেলগুলো দিন রাত ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। শহুরে বাজারের ইলিশ এবং মাওয়াঘাটের ইলিশের স্বাদে রয়েছে বিস্তর ফারাক। হয়তো তাজা মাছই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য। সম্প্রতি  ইলিশের টুকরোর সাথে যুক্ত হয়েছে মাছের লেজ ভর্তা। স্বাদের তুলনায় একশতে একশ পাবার ক্ষমতা রাখে। গরম তাওয়ায় রসুন, মরিচ, লবণ মসলা একসাথে ভেজে করা হয় নতুন এই ভর্তা। দামটা একটুখানি বেশি হলেও লাগামছাড়া নয়। মাত্র ৫০ টাকা।

ইলিশ ভর্তা! ছবি: সংগৃহীত।

প্রতি টুকরো ইলিশ ভাজা ৮০-৯০ কিংবা ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। কেউ চাইলে কেজি দরে কিনতে পারেন আস্ত ইলিশ। তবে দরকষাকষিতে আপনি যদি পটু না হন তবে ঠকার সম্ভাবনা বেশি। আকারের উপর নির্ভর করে দামের তারতম্য।

পদ্মা নদীর পাড়ে পুরানো ঘাটে প্রতিদিন সকালে বসে মাছের আড়ত। চাইলে সঙ্গে আনতে পারেন পদ্মার তাজা ইলিশ। আড়তে বললেই কেটে বরফ মুড়িয়ে প্রক্রিয়াজাত করে দেবে ওরা। সেক্ষেত্রে মাঝারি সাইজের এক হালি মাছ ২০০০-৪০০০ টাকা দাম এবং বড় সাইজের এক হালি মাছের দাম হাকানো হয় ৫০০০-৬০০০ টাকা থেকে ৮০০০-১০০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে সময় সীমাও আছে। কাকডাকা ভোর থেকে সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে যেতে হবে। শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় ক্রেতাদের আগমন যেমন ঘটে তেমনি বাজারও থাকে গরম।

মাওয়ার বেশির ভাগ মানুষের জীবন চলে উত্তাল পদ্মাকে পুঁজি করে। আয়ের সিংহ ভাগই নির্ভর করে ইলিশের উপর।

মাওয়ার উদ্দেশ্যে যদি যাওয়ার ইচ্ছে জাগে তবে খুব ভোরে যাওয়া ভালো। কেননা ভোরের যাত্রা যোগ করে অন্যরকম এক অনুভূতি। কেরানীগঞ্জ থেকেই বোঝা যায় স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ শৈলী।  সড়ক বাড়ানোর কাজ চলছে, যার ফলে কেটে ফেলা হয়েছে। বিরানভূমির অনুভূতিও তো আর কম মাত্রা যোগ করে না।

মাওয়াঘাটের ইলিশ বাজার। ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা থেকে দূরত্ব কম হওয়ায় দিন গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায়। শুধু যে ইলিশ ভাজা গন্ধ কাছে টানবে তেমন বললে হয়তো একটু বেমানান হয়। পদ্মার রূপ সৌন্দর্যও করবে মুগ্ধ। সাঝ বিকেলের নদীর জল, জলের ওপর পড়ন্ত রুপালী সূর্যের ঝিলিক আপনার মনকে নিয়ে যাবে ভাবনার জগতে। মৃদু বাতাস, ঢেউয়ের আছড়ে পরার শব্দ—এ যেন স্বপ্নময় এক রাজ্যের প্রতিচিত্র।

চাইলে স্পীড বোট কিংবা নৌকায় চেপে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে পারেন এমন রাজ্যে। যে রাজ্য অথৈ জলে গড়া। ঘন্টা প্রতি যেখানে স্পীড বোটে খরচ জন প্রতি ১৫০ টাকা।  বড়-ছোট নৌকা ভেদে ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা।

যেভাবে যাবেন

সকালে গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী থেকে বাস যোগে মাওয়া ঘাটে যেতে পারবেন।  বিআরটিসি কিংবা ইলিশ পরিবহনে ভাড়া নেবে ভাড়া ৭০টাকা। মিরপুর ১০, ফার্মগেট কিংবা শাহবাগ থেকে যেতে পারেন স্বাধীন পরিবহনে। গুলিস্তান থেকে বিআরটিসির শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস পাবেন। ঘন্টা খানেকের একটু বেশি সময় লাগতে পারে ঘাটে পৌঁছাতে। চাইলে পদ্মা পারি দিতে পারেন লঞ্চ, ফেরি কিংবা স্পীডবোটে। ভাড়া পড়বে যথাক্রমে  ৩৫, ২০ ও ১৫০ টাকা। সময় লাগতে পারে ২ ঘন্টা, ১:৩০ ঘন্টা অথবা ৩০ মিনিট।

তবে আর দেরি কেন ঘুরে আসুন ইলিশের রাজ্যে।

Leave a Reply