ইতিহাসের সাক্ষী বিমান বাহিনী জাদুঘর

ইতিহাসের সাক্ষী বিমান বাহিনী জাদুঘর

  • সুদীপ চক্রবর্তী

দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অম্লান রাখতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদযোগ গ্রহণ করেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর এমনই এক উদযোগ। ১৭ জুন ১৯৮৭ সালে বিমান বাহিনী জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হলেও সংস্কার করে ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এ জাদুঘরটিতে ঠাঁই পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত এবং বিভিন্ন সময়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ব্যবহৃত বিমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষকে নাস্তানাবুদ করার জন্য ব্যবহৃত ফাইটার জেট হতে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংগৃহীত বিমান বলাকা, ডাকোটা বিমান, অ্যালিউট হেলিকপ্টার, এফ-৮৬ যুদ্ধবিমান, মুক্তিবাহিনীর হান্টার জেট, মিগ-২১ এফএল, ন্যাট বিমান এবং আরো অনেক নিদর্শন এখানে রয়েছে।  

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঐতিহ্য এবং গর্বের প্রতীক। এমন ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে প্রতিদিন বহুসংখ্যক লোক বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাদুঘরটি পরিদর্শনে আসেন। সপ্তাহে ৬ দিন (রবিবার ব্যতীত) উন্মুক্ত থাকা বিমান বাহিনী জাদুঘর। মূলত এর খোলামেলা এবং মনোরম পরিবেশের জন্য দর্শনার্থীদের নিকট অধিক প্রিয়। ৫০ টাকা খরচ করে ঘুরে আসতে পারবেন স্মৃতিসম্বলিত এ জাদুঘরটি এবং অংশ হতে পারবেন ইতিহাসের। জাদুঘরের সংরক্ষিত বিমানগুলোতে চড়তে হলে আরো ৩০ টাকার মতো খরচ করতে হবে। যদিও দর্শনার্থীদের মতামত যে জাদুঘরে প্রবেশের ভাড়া কিছুটা বেশি এবং ভিতরের বিমানগুলোতে চড়তেও কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং তাদের পরিবার পরিজনদের জন্য ৩০ টাকার বদলে অর্ধেক দামে ১৫ টাকায় টিকিট বিক্রি করা হয়।

এখানে আসা দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের সন্তুষ্টির কথা জানা গেছে। তারা স্থানটিকে বেশ নিরাপদ হিসাবেই মনে করেন। অবসরযাপন কিংবা বিনোদনের জন্য এখানে একটি পার্কও রয়েছে।

কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন যে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং সন্তুষ্টিই তাদের একমাত্র কামনা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য জানতে এখানে আরো লোকের সমাগম হোক এমনটাই তাদের চাওয়া।

Leave a Reply