নারীবাদ, পুরুষবাদ নাকি মানবতাবাদ?

নারীবাদ, পুরুষবাদ নাকি মানবতাবাদ?

সময়ের সাথে সাথে তরুণ প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনা আর চেতনায় পরিবর্তন আসছে। সেই সাথে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়ের। সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুকে নারীবাদ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা এবং পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক। আর এই নারী ও পুরুষের সমঅধিকার ও সমান সুযোগের ব্যাপারটি বরাবরই যার লেখাতে ফুটে উঠেছে তিনি বাংলার নারী জাগরণের পুরোধা মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখওয়াত হোসেন। তিনি শুধু নারীবাদী নন, নারীমুক্তির পথিকৃৎ। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থবর্ষের তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের চোখে নারীবাদ, পুরুষবাদ ও মানবতাবাদ নিয়ে রংপুর থেকে লিখেছেন সজীব হোসাইন।


২মারজিনা মাসুদ দ্বীপা

  • নিজেকে যদি একজন নারীবাদী হিসেবে মনে করি তাহলে অবশ্যই বলবো রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আমার আদর্শ। সমাজের বাইরে গিয়ে কখনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আমি চাই সমাজ কাঠামোর মধ্যে থেকে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোর দেয়াল ভেঙ্গে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের, যেখানে নারী-পুরুষ সকলের সর্বস্তরে সমান অধিকার ও অংশগ্রহন থাকবে।

৩আল-আবির-আমিন

  • নারীবাদের প্রথম শর্ত ও প্রধান লক্ষ্য নারীর সামগ্রিক মুক্তি অর্জন করা। আমি মনে করি, নারীবাদের সমার্থক শব্দ মানবতাবাদ যেখানে সর্বস্তরের মানুষের অর্ন্তভুক্তিকরণের সুযোগ থাকবে। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে প্রগতিশীল, চিন্তাশীল ও সভ্য-উন্নত সমাজ উপহার দেওয়ার জন্য আমি তিনটি ক্ষেত্রে কাজ করতে চাই-এক. লেখালেখি (গবেষণা), দুই. সংগঠন, ৩. কর্মক্ষেত্র (চাকুরী)। এই তিন স্তরে জেন্ডার সংবেদনশীল কাজের মাধ্যমে তরূণ প্রজন্মের আদর্শ নারীবাদী বা মানবাতাবাদী ব্যক্তিত্ব অর্জন করতে চাই।

 

৪শারমিন জাহান

  • নারীবাদ নারীর বিরুদ্ধে সকল অসমতা দূর করার বার্তা দেয়। বার্তা দেয় নারী-মর্যাদার, নারী-মুক্তির সর্বোপরি মানবতাবাদের। পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রকাঠামোতে নারীর বিরুদ্বে যে অসমতা বিদ্যমান তা দূর করতে মানবতাবাদের আদর্শকে নিজের মাঝে লালন করতে চাই। প্রথমে নিজের মাঝে তারপর ধীরে ধীরে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থাতে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে পুরো সমাজে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখি।

 

১

মাহাবুব চৌধুরী

  • সভ্যতার এই পর্যায়ে এসে যখন সর্বস্তরে মানব উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে তখন সেই উন্নয়ন বলতে শুধু আর্থিক উন্নয়ন বোঝনো হয় না বরং বলা হয় মানুষের উন্নয়ন, সমাজের উন্নয়ন, মানবতার উন্নয়ন। নারীর বিরুদ্বে শত শত বছর ধরে চলে আসা অন্যায্যতা দুরীকরণ এই মানব উন্নয়নের অন্যতম লক্ষ্য। হাজার হাজার বছরের পুরনো প্রথার বেড়াজাল নারীর জীবনকে করেছে সীমাবদ্ধ। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নারীর মর্যাদা, আত্মসম্মান, আত্ম-উন্নয়নের ও স্বত্তার। নারীবাদ তথা মানবতাবাদের চেতনাকে ধারণ করে সকল অন্যায্যতার অবসান ঘটিয়ে সমাজের সকল স্তরে নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।favicon594

Leave a Reply