ইবিতে চাকরির দাবিতে অবরোধ

ইবিতে চাকরির দাবিতে অবরোধ

শাহজাহান নবীন, কুষ্টিয়া : চাকরির দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে অবরোধ করেছেন সাবেক  ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও বহিরাগতরা। এসময় চাকরি প্রত্যাশীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। অবরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার চাকরির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে অবরোধ করে চাকরি প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগের কর্মী ও বহিরাগতরা। চাকরি প্রত্যাশী মাহবুব হোসেন খোকন, মিজানুর রহমান টিটু, রাসেল জোয়ার্দ্দার, ইলিয়াস জোয়ার্দ্দারসহ প্রায় ৩০/৩৫জন প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা ফটকে তালা লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুপুর দুইটার সিডিউল বাস বন্ধ করে দেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে প্রশাসন ভবনে গিয়ে ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন চাকরি প্রত্যাশীরা। এসময় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা ফের প্রধান ফটকে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সন্ধ্যাকালীন কোর্সের ব্যানার, ফেস্টুন ছিড়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ চাকরি প্রত্যাশীরা।

পরে বেলা সোয়া তিনটার দিকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে গিয়ে সন্ধ্যাকালীন কোর্সের ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেন চাকরি প্রত্যাশী বহিরাগতরা। এসময় গোটা ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চাকরি প্রত্যাশীদের সাথে কোনো রকম সমঝোতা না হওয়ায় প্রায় আড়াই ঘন্টা বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাস অচল থাকলেও প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘কয়েকজন মানুষের হাতে সপ্তাহে দুই তিন দিন ক্যাম্পাসের বাস বন্ধ হয়ে যায়। চাকরি প্রত্যাশীদের সাথে প্রশাসনের বোঝাপড়া হোক, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কেন দাবি আদায়ের আন্দোলন? প্রশাসন আন্তরিক না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে তার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।’  পরে বেলা চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পুলিশের সহযোগীতায় প্রধান ফটকের তালা ভেঙে বাস চলাচল সাভাবিক করেন।

এব্যাপারে চাকরি প্রত্যাশী কয়েকজন বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে কয়েক বছর ধরে চাকরির দাবি জানিয়ে আসছি। তারা চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজন মতো আমাদেরকে ব্যবহার করছে। এভাবে আর চলতে পারে না। চাকরি হলে হবে না হলে না হবে। আমরা একটি চুড়ান্ত ফলাফল চাই। এভাবে আশ্বাস দিয়ে আর আমাদেরকে ভুলিয়ে রাখা যাবে না।’

প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান জানান, চাকরি প্রত্যাশীরা প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে অবরোধ করে। পরে তালা ভেঙে বাস চলাচল সাভাবিক করা হয়েছে।’ চাকরি প্রত্যাশী কারা এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি প্রত্যাশী কারা, তাদেরকে সবাই চেনে।’favicon594

Leave a Reply