রিহ্যাব মেলায় ক্রেতাসমাগম ছিল বেশি

রিহ্যাব মেলায় ক্রেতাসমাগম ছিল বেশি

  • নিউজ ডেস্ক

‘এবারের মেলায় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া মিলেছে। সরাসরি বুকিংয়ের পরিমাণও গতবারের চেয়ে বেশি ছিল। সব মিলিয়ে আমরা খুব খুশি।’ রিহ্যাবের শীতকালীন আবাসন মেলা কেমন হলো, জানতে চাইলে এভাবেই নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান এশিয়ান টাউন ডেভেলপমেন্ট নামের একটি আবাসন কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক সবুজ হোসেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত শীতকালীন আবাসন মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতির সংখ্যা ও বিক্রি এবার ভালো হয়েছে। মেলার শেষ দিন গতকাল রোববার বিকেলে অংশ নেওয়া বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। রিহ্যাবের কয়েকজন নেতাও জানালেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হয়েছে এবারের মেলা।

সরেজমিনে গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বড়দিনের ছুটি হওয়ায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল বেশ। অনেক স্টলে গ্রাহকের ভিড় এত বেশি ছিল যে তথ্য দিতে কর্মকর্তাদের বেগ পেতে হচ্ছিল।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি: ঢাকা-মাওয়া রোডে সাউথ টাউন আবাসিক প্রকল্পে ৩ থেকে ১০ কাঠার তৈরি প্লট বিক্রি করছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের কাছেই অবস্থিত এ প্রকল্পের বিষয়ে আগ্রহী অনেক ক্রেতাকে খোঁজখবর নিতে দেখা যায়। ৫ লাখ টাকা অগ্রিম জমা দিয়ে ৬০ মাসের কিস্তিতে এ প্রকল্পে জমি কেনার সুযোগ আছে ক্রেতাদের। এই প্রকল্পে তৈরি প্লট ছাড়াও বাংলো বাড়ি, খামার বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার সুবিধাও আছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির বিপণন কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানা। এ ছাড়া বারিধারা বসুন্ধরার এন ব্লকে সোনালি স্বপ্ন ও কমলাপুরে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের তথ্যও ক্রেতাদের জানাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এশিয়ান টাউন ডেভেলপমেন্ট: ঢাকার পূর্বাচল, মাওয়া ও মিরপুরে আবাসন এবং অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের তথ্য নিয়ে মেলায় অংশ নেয় এশিয়ান টাউন ডেভেলপমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি পূর্বাচল এশিয়ান টাউন প্রকল্পে ডুপ্লেক্স ভিলা ও তৈরি প্লট বিক্রি করছে। এককালীন ও কিস্তিতে এসব প্রকল্পে জমি ও বিলাসবহুল ভিলা বিক্রি করা হচ্ছে। তৈরি প্লটের জন্য ঢাকা-মাওয়া রোডে প্রতিষ্ঠানটির এশিয়ান শান্তি নিবাস নামের আরেকটি প্রকল্প রয়েছে। এখানে আড়াই, তিন পাঁচ ও সাত কাঠার প্লট রয়েছে। দুটি প্রকল্পেই এককালীন মূল্য পরিশোধে কাঠাপ্রতি জমির দাম রাখা হচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। আর কিস্তিতে মূল্য পরিশোধে কাঠাপ্রতি জমির দাম পড়ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকায়। মিরপুর ১ নম্বরে এশিয়ান ম্যাগনোলিয়া নামের একটি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৪১০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট বিক্রি করছে। প্রতি বর্গফুট ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকায় এখানে ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক সবুজ হোসেন।

অনলাইন মার্কেটপ্লেস: আবাসন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি লামুডি ও বিক্রয়ডটকম নামের দুটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস প্রতিষ্ঠানও মেলায় অংশ নেয়। আবাসন কোম্পানির সঙ্গে ক্রেতাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়াই মূলত এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কাজ। লামুডিতে নতুন ও পুরোনো ফ্ল্যাট কেনা-বেচা ও ভাড়া দেওয়ার সুযোগ আছে। একই সঙ্গে নতুন ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীদের বিভিন্ন তথ্য দিয়েও সহযোগিতা করে লামুডি ও বিক্রয়ডটকম। বিক্রয় ডটকমের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী আসাদ-উজ জামান বলেন, আবাসন কোম্পানি ওয়েবসাইটে ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলে সেখান থেকে একটা অংশ পায় বিক্রয়ডটকম।

নির্মাণসামগ্রী: মেলায় পরিবেশবান্ধব ইট, সিরামিক টাইলস, দরজা, কিচেন কেবিনেট, রং, কমোডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠানের স্টলও চোখে পড়ে। ব্যবসায়িক প্রচারণা ও গ্রাহককে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে মেলায় অংশ নেওয়ার কথা জানান এসব স্টলের কর্মকর্তারা।

সূত্র: প্রথম আলোfavicon59-4

Leave a Reply