আর্ট অব লিভিং আশ্রমে একদিন

আর্ট অব লিভিং আশ্রমে একদিন

  • মো. হামিদুল হক খান

আর্ট অব লিভিংয়ের জনক শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৬ সালে ভারতে। শিশুকাল থেকেই তিনি ছিলেন বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিভাদীপ্ত। ১৯৮১ সালে তিনি আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের মনোদৈহিক চাপ, সামাজিক সমস্যা এবং সহিংসতা দূর করা। আধ্যাত্মিক গুরু রবিশঙ্কর হিংসামুক্ত নতুন এক সমাজের যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছেন, দি আর্ট অব লিভিংয়ের বিভিন্ন সেবা প্রকল্প ও নানামুখী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর আর্ট অব লিভিংকে আন্তর্জাতিক, অলাভজনক, শিক্ষা ও জ্ঞানকেন্দ্রীক এক মানবতাবাদী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মানবিক মূল্যবোধের আর্ন্তজাতিক সংগঠন- ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ভ্যালুজ (আইএএইচভি)। আইএএইচভি গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো দি আর্ট অব লিভিংয়ের সঙ্গে একীভুত হয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের তত্ত্বাবধান, মানবিক মূল্যবোধের লালন এবং দ্বন্দ্ববিক্ষোভ ও সমস্যাদীর্ণ পরিস্থিতিকে সাম্যতায় ফিরিয়ে আনা। উক্ত প্রকল্পগুলি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে—প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, আতঙ্কগ্রস্ত ও যুদ্ধে আক্রান্ত মানুষ, দারিদ্রের প্রান্তিক সীমায় অবস্থিত শিশুদের কল্যাণে। তার একান্ত আহবান স্বেচ্ছাসেবীদের অনুপ্রাণিত করেছে সেবার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের জন্য কল্যাণকর কাজ করতে। মাত্র ৩১ বছরের মধ্যে তার কাজের প্রকল্প এবং উদ্যোগ পৃথিবীর ১৫২টি দেশের প্রায় ৩৭ কোটির অধিকসংখ্যক মানুষকে প্রভাবিত করেছে।

আর্ট অব লিভিং আশ্রমের প্রতিষ্ঠাকা শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর। ছবি: artofliving.org

বিভিন্ন কর্মসূচী ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর মানবিক মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সর্ম্পকে বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন । মানবতা আমাদের পরম স্বত্তা- এ কথা শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের উচ্চারণে বারবার স্বীকৃতি পেয়েছে। সর্বধর্ম সমন্বয় এবং সর্বসংস্কৃতির মেলবন্ধনের সাহায্যেই ধর্মোন্মাদনা তথা মৌলবাদ-আক্রান্ত এই পৃথিবীতে চিরস্থায়ী শান্তি স্থাপিত হতে পারে একথা তিনি বহুবার ব্যক্ত করেছেন। জাতি ধর্ম এবং দেশের সীমা ছাড়িয়ে তার কর্মকাণ্ড পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের মতে, মানবিক মূল্যবোধের পুন:জাগরণ ও নিস্বার্থ সেবার দ্বারা নির্ভার নি:শঙ্ক সমাজ যেমনি গড়ে তোলা যায় তেমনি বাহ্যিক সুখের সাথে অন্তরের শান্তিও লাভ করা সম্ভব হয়।

আর্ট অব লিভিং কোর্স করার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি একাত্ববোধ, মানবতাবোধ, নৈতিকতাবোধ ও মমত্ববোধ জেগে উঠে। বিশ্বজুড়ে এদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের আর্ট অব লিভিং কোর্সটি মূলত যেসব সমাজ সেবামূলক বিষয় নিয়ে কাজ করে তা হলো ইন্ট্রিগেটেড কমিনিউটি ডেভোলপমেন্ট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু সুরক্ষা, প্রাচীন হেরিটেজ সংরক্ষণ, কারাগার পুর্নবাসন, দুর্যোগে ত্রাণ সরবরাহ ইত্যাদি। আর্ট অব লিভিং আশ্রমে আগত মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে এক গভীর সর্ম্পক সৃষ্টি হয়। সেখানে থাকে না কোনো ধরনের ভেদাভেদ—কে ধনী কিংবা কে গরিব। আর্ট অব লিভিংয়ের আশ্রমটি এমন একটি আশ্রম যেখানে কোনো কিছুর অভাব পরিলক্ষিত হয় না। সুতরাং মানবতাকে জাগ্রত করার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান হলো রবিশঙ্করের আর্ট এব লিভিং।

উপরোক্ত কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি চালু করেছে আর্ট অব লিভিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোর্সটি যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি পেয়েছে এবং নির্ভার জ্ঞান উন্মাদনা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

লেখক: কোষাধ্যক্ষ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি

Leave a Reply