চালু হলো ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র ও ভোক্তাকণ্ঠ ডটকম

চালু হলো ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র ও ভোক্তাকণ্ঠ ডটকম

  • সংবাদ ডেস্ক

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর উদ্যোগে ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি সহায়তায় চালু হলো ‘ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র : কলসেন্টার’। ভোক্তা কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই কলসেন্টারে ফোন করে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। ভোক্তাকে তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা দেবেন কলসেন্টার অপারেটরগণ।

একজন ভোক্তা অভিযোগ দায়ের করলে ১৫ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অভিযোগের প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা করবে কলসেন্টার। এটি খোলা থাকবে শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ০১৯৭৭০০৮০৭১, ০১৯৭৭০০৮০৭২ নম্বর দুটিতে ফোন করে কলসেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে।

একইসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও ভোক্তার সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াসে চালু হলো অনলাইন পত্রিকা ‘ভোক্তাকণ্ঠ ডটকম’। ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত সংবাদ, বিশ্লেষণ, ভোক্তা অভিযোগের বৈশ্বিক চিত্র, বিশ্ব ভোক্তা আন্দোলন, বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের খবর মিলবে এই পত্রিকায়। www.voktakantho.com ওয়েব ঠিকানায় গেলে পত্রিকাটি দেখা যাবে।

রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৭১ অডিটরিয়ামে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাব-এর সভাপতি গোলাম রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর।

আরও উপস্থিত ছিলেন ভোক্তাকণ্ঠ ডটকম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ, সম্পাদক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রকাশক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার হামিদুল হক খান, প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম ও ক্যাব-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর বলেন, ‘ভোক্তা অধিকারের প্রশ্নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সজাগ। তাঁর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছে অধিদপ্তর। অধিদপ্তরটির বয়স খুবই কম, মাত্রই ২০০৯ সালে আইনটি পাস হলো। সে হিসেবে বলা যায় এটি একটি শিশু প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর মধ্যেও অধিদপ্তরের গত কয়েক বছরের কার্যক্রম লক্ষ্য করলে দেখা যাবে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি হিসেব দিয়ে বলেন, ‘২০১৬-১৭ সালে অভিযোগের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৫ হাজার ৪৭৮টি বৃদ্ধি পায়। ২০১৭-১৮ সালে অভিযোগ জমা পড়ে ৯ হাজার ১৯টি। এর মধ্যে ৮ হাজার ১২২টি অভিযোগ নিষ্পত্তি সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি বাজার অভিযানেও গতি এনেছে অধিদপ্তর। ২০১৭-১৮ সালে ৪ হাজার ৫৯ বার বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪২ হাজার ৫৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করেছে। এটা ইতোমধ্যে ৩৯ কোটিতে পৌঁছে গেছে। এ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা ভোক্তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বুঝে পেয়েছেন।’

মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর বলেন, ‘অধিদপ্তর তার কাজের পাশাপাশি ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলোকেও শক্তিশালী করার জন্য সহায়তা দিচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ক্যাব-এর কলসেন্টার ও ভোক্তাকণ্ঠ পত্রিকায়ও সহযোগিতা করছি আমরা। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় যিনিই এগিয়ে আসবেন, তার সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত।’ তিনি সকলকে ভোক্তা অধিকারের প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম রহমান বলেন, ‘ক্যাব কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয় না। এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। এর কাজ হলো ভোক্তা অধিকার আন্দোলন সংগঠিত করা, ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার পাশে দাঁড়ানো। সেই কাজ আরও এগিয়ে নিতে এখন আমরা এই কলসেন্টার ও পত্রিকাটি গড়ে তুলছি। এর মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার আন্দোলন আরও গতি পাবে এবং সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।’ ক্যাব-এর এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গোলাম রহমান।

ভোক্তাকণ্ঠ ডটকম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘ভোক্তা যদিও আমরা সবাই, কিন্তু ভোক্তা অধিকারের বিষয়ে আমি নিজেই তেমন কিছু জানে না, দেশবাসী অধিকাংশই একই অবস্থায় আছেন। অথচ এখানে এসে তো শুনছি অনেক কাজ হচ্ছে, ভোক্তারা প্রতিকার পাচ্ছেন। এসব খবর জনগণের মধ্যে যাওয়া জরুরী। সবার জানা প্রয়োজন। যত বেশি মানুষ জানবে পরিস্থিতি তত দ্রুত বদলাবে। পত্রিকা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘কলসেন্টার চালু হলে এর মাধ্যমে ভোক্তারা প্রতিকার পাবেন। যিনি প্রতিকার পাবেন, তিনি অন্যদের জানাবেন। এভাবে এটা পুরো সমাজে একটা কাঁপুনি ধরাতে সক্ষম। পত্রিকা এর সঙ্গে থাকার অর্থ হলো ভোক্তার কাছে পৌঁছানো অনেক সহজ হয়ে গেল। এই উদ্যোগ এগিয়ে গেলে দেশে ভোক্তা অধিকারের ক্ষেত্রে এখন যেমন মানুষের অভিযোগ জানানোর অনীহা আছে, সেই চিত্র বদলে যাবে।’

অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘কলসেন্টার ও পত্রিকা সরাসরি জনগণের সমস্যা সমাধান ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে। উভয় উদ্যোগের মূল লোকবল হলো ছাত্র-ছাত্রীরা। তরুণরা এই কার্যক্রমে অংশীদার হওয়ার অর্থ হচ্ছে, পুরো জাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে। এখন যারা ছাত্র, তারাই এক সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যাবে, কাজ করবে। তারা যদি জনসেবার এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে, তাহলে কর্মজীবনে গিয়েও তারা জনগণের সেবা করবেন।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা কলসেন্টার ও ভোক্তাকণ্ঠ পত্রিকার অফিস পরিদর্শন করেন। উভয় অফিসই স্থাপিত হয়েছে ১৯/১ পান্থপথ, কনকর্ড টাওয়ারের নিচ তলায়।

Leave a Reply