বইয়ের রাজ্য ‘বেঙ্গল বই’

বইয়ের রাজ্য ‘বেঙ্গল বই’

  • সানজিদা রহমান

বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির এক অভিনব যুগে বাস করছি আমরা। সবকিছুইতেই এখন প্রযুক্তির ছোঁয়া। তবে যে জিনিসটিতে প্রযুক্তি তেমনটা চেপে বসতে পারেনি সেটি হচ্ছে বই। এ কথাটি সত্যি মনে হবে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ এ অবস্থিত ‘বেঙ্গল বই’ জায়গাটি ঘুরে আসলে।

বাহারী রকমের ও বিভিন্ন বিষয়ের সমাহার এ ‘বেঙ্গল বই’ যেন রাজধানীতে বইপ্রেমীদের জন্য এক আলাদা রাজ্য। প্রতিষ্ঠানটি মূলত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। সকলের জন্য বই পড়ার সুযোগ উম্মুক্ত থাকায় মাসজুড়েই বইপ্রেমীরা ভিড় জমায় ‘বেঙ্গল বই’ এ। ধানমন্ডি ২৭-এ অবস্থিত এ বইয়ের রাজ্য যেন যানজটের শহরে এক টুকরো স্বস্তির নীড়।

‘বেঙ্গল বই’ এর ভবনটির নিচ তলার এক পাশে রয়েছে এন্ট্রি কর্ণার এবং লকার। পাঠকরা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাগ বা অন্যান্য সামগ্রী লকারে জমা রেখে প্রবেশ করেন মূল লাইব্রেরিতে। তাছাড়াও নিচ তলায় আরো রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যক্তিগত ক্যান্টিন। খোলা জায়গায় সারি সারি টেবিল চেয়ার সাজানো এবং সাথে রয়েছে সেলফভর্তি বই। বইপ্রেমীদের জন্য এ যেন এক আলাদা স্বর্গ।

মূল লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলায় রয়েছে রকমারি বইয়ের বিশাল সংকলন। উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-রাজনীতি, অনুবাদ এমন বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সারিবদ্ধভাবে সাজানো সেলফ এবং তাতে রয়েছে অসংখ্য বই। এক পাশেই রয়েছে ক্যাফেটেরিয়া এবং ফুড কর্ণার। যেকোনো বই কাউন্টার থেকে এন্ট্রি করে নিলেই বিনামূল্যে বসে পড়া যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা৷ পাঠকদের পড়ার জন্য আছে চমৎকার পরিবেশ।

তাছাড়াও ৩য় তলায় রয়েছে শিশুদের জন্য আলাদা সেকশন। সেখানে দেখা যায় অভিভাবকসহ শিশুদের এক অনন্য মেলা। হ্যারি পটার থেকে ঠাকুমার ঝুলি—কী নেই সেখানে! বাচ্চারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে মনের আনন্দে বই পড়ছে, সাথে পড়ছেন অভিভাবকেরাও। আবার অনেক অভিভাবক বই পড়ে শোনাচ্ছেন তার ছোট্টো বাচ্চাদের।

নবীন কিংবা প্রবীণ সকল প্রজন্মের বইপ্রেমীদের মিলনমেলা এখন এই বেঙ্গল বই। ঘুরতে এসে আগ্রহবসত বই ঘাটছেন অনেকে। নতুন প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলার এ অভিনব উদ্যোগে যে এ প্রতিষ্ঠান ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে তা ছুটির দিনগুলোতে লক্ষণীয় সবচেয়ে বেশি। বেঙ্গল বইয়ের পাঠকেরা মনে করেন এমন জায়গা রাজধানীতে আরও থাকা উচিত, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞান এবং সাহিত্য চর্চার সুযোগকে আরো প্রসারিত করবে।

ছুটির দিনের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে যেন এই বেঙ্গল বই। জ্ঞানপিপাসুরা যেকোনো সময় ঘুরে আসতে পারেন এই বইয়ের রাজ্যে। জ্ঞান যেখানে উন্মুক্ত এবং শুদ্ধ।

Leave a Reply