বেহাল দশায় ঐতিহাসিক আবাহনী মাঠ

বেহাল দশায় ঐতিহাসিক আবাহনী মাঠ

  • রনি আহমেদ

“আবাহনী মাঠ” শব্দ দুটোর মধ্যেই যেনো লুক্কায়িত আছে কয়েক প্রজন্মের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই মাঠ তাঁর বুকে লালন করেছে দেশের ক্রীড়াজগতের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। খেলাধুলার হ্নৎপিণ্ড নামে আখ্যায়িত এই মাঠ। কালের বিবর্তনে নদীর গতিপথ বদলানোর মতো আবাহনী মাঠের চেহারাও বদলে গেছে। এক সময় আবাহনী মাঠ জুড়ে আচ্ছন্ন ছিলো সবুজ আঙ্গিনা। আর এই সবুজের অংশ হয়েই যেনো থাকতো খেলোয়াড়রা। তখন এই মাঠ জুড়ে বয়ে যেতো উৎসবের আমেজ।

বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ যে অবস্থায় পৌঁছেছে,তাঁর পেছনে অনেক খানি অবদান রয়েছে এই আবহনী মাঠের। বর্তমান সময়ের তাসকিন আহমেদ, আরাফাত সানি, ইলিয়াস সানি, নাজমুল হোসেন থেকে শুরু করে শাহারিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ আশরাফুল—ক্রিকেটের এসব তারকার বেড়ে ওঠা আবাহনী মাঠেই। আশরাফুল, নাফিসরা আবাহনী মাঠের যে সবুজ-শ্যামল ছায়ায় খেলে বেড়ে উঠেছিলেন, সেই আবাহনী মাঠের সৌন্দর্য এখন আর নেই। ২০১৯ সালে এসে মাঠটিকে দেখলে মনে হবে যেন বয়সের ভারে ন্যূজ হওয়া বৃদ্ধের অর্ধ ন্যাড়া হওয়া মাথা। কিন্তু কে বলবে যে এই মাঠেই এক সময় জাতীয় দলের ক্রিকেটার এসে অনুশীলন করত। তাদের জন্য আলাদা অনুশীলন  নেট ছিলো!

মাঠটির উত্তর -পূর্ব অংশে বড় আকারের সব গাছের গুড়ি, জমাট করে রাখা মাটির বড় স্তূপ। মাঠটির দক্ষিণ-পূর্ব অংশে ইটের অসংখ্য ছোট টুকরো দ্বারা ভরপুর। মাঠের পশ্চিম প্রান্তে অল্প বিস্তর সবুজের অস্তিত্ব মিললেও সমস্ত মাঠ যেনো হয়ে আছে ধূলো-বালির স্বর্গরাজ্য। অপরিচ্ছন্নতা, খাল-খন্দ, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা মাঠটিকে যেন গলা ধাক্কা দিয়ে ঠেলে দিচ্ছে  মৃত্যুর দরগড়ায়। নাম না জানানোর শর্তে আবাহনী মাঠের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগে যেসব খেলোয়াড় আবাহনী মাঠে খেলে গেছেন ওঁরা আসলেই ন্যাচারাল খেলোয়াড় ছিলেন। আর বর্তমানে খেলোয়াড় তৈরি করতে হয়। ন্যাচারাল খেলোয়াড় এবং তৈরি করা খেলোয়াড়ের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে। বর্তমানে ন্যাচারাল খেলোয়াড় তৈরি  না হওয়ার  পেছনে ভাল কোচের অভাব এবং  ভুয়া একাডেমীকেই তিনি দোষারোপ করেন। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যতদিন মাঠটি  রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্বে ছিল, ততদিন মাঠ ভাল ছিল। যখনই মাঠটি “বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের” নিয়ন্ত্রণের বাইর গেলো তখন থেকেই মাঠটি হয়ে গেলো সর্বসাধারণের, উৎসুক জনতার, মহল্লার মাঠ।

আবাহনী মাঠে অনুশীলন করে এমন কিছু খেলোয়াড় তাঁদের বহুবিধ সমস্যার কথা জানান। তাঁরা বলেন, অনুশীলন করার সুযোগ-সুবিধা একেবারে নেই বললেই চলে। ব্যাঙের ছাতার মতো মাত্রাতিরিক্ত একাডেমী গড়ে ওঠার ফলে ফিল্ডিং করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। মাঠে ধূলো-বালির কারণে নানাবিধ অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে। পানি নিষ্কাশনের পদ্ধতি না থাকায় বৃষ্টি মৌসুমে স্বল্প বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে একাকার হয়ে যায়। তখন তাদের অনুশীলন বিঘ্নিত হয়ে পরে।

তবে কি আবাহনী মাঠ আবারো তার জীবনে সেই স্বর্ণালী যৌবন, জৌলুস ফিরে পাবে, নাকি ধীরে ধীরে প্রদীপের ন্যায় নিভে যাবে?

Leave a Reply