ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ

ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ

  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডেস্ক

তরুণদের ঘরের ছাদ মহাকাশের সমান বলে একটা কথা আছে। অর্থাৎ ছাদের দিকে তাকিয়ে যখন কোনো তরুণ চিন্তা করে, তখন সে চিন্তা মহাকাশের উচ্চতাকেও হার মানায়। তরুণদের এমন চিন্তাশক্তি কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল বিশ্বে বাংলাদেশ ও এর সংস্কৃতি নতুনভাবে তুলে ধরার জন্যই গত ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ ২০১৬’ প্রতিযোগিতা।

নামে খিচুড়ি হলেও এটা কোনো রান্নার প্রতিযোগিতা নয়। এই প্রতিযোগিতায় তরুণদের চিন্তাশক্তির সঙ্গে প্রযুক্তির মিশেল দিয়ে নানা রকম সমস্যার নতুন সমাধান বের করতে হয়েছে। প্রতিযোগিতাটির নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নেই। প্রতিযোগী চাইলে যেকোনো ধরনের ধারণা উপস্থাপন করতে পারবেন, তবে তা অবশ্যই বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। আর এই ধারণা বা আইডিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে প্রযুক্তির মাধ্যমে। এই সমাধান দেওয়ার জন্য অংশ নিয়েছিলেন তরুণ প্রতিযোগীরা। তাঁদের মধ্যে তৈরি করা হয় ছয়টি দল। তিন দিনের এ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী হয়েছে ইকারাস দল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে রম্বস ও নেমলেস দল। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিজয়ী তিনটি দল নিয়েই এই প্রতিবেদন।


অনিমিখ
ইকারাস
ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ ২০১৬-এর বিজয়ী দল ইকারাস। নিজেদের উপস্থাপিত ধারণার নাম তাঁরা দিয়েছেন ‘অনিমিখ’। দলটির সদস্যরা হলেন ফাহিম মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সাদমান মুন্তাসির, শাওয়ানা আদবিয়া এবং রিফাত আরেফিন হক। তাঁরা সবাই ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিজয়ী হিসেবে দলটি পেয়েছে সাড়ে ৭ হাজার মার্কিন ডলার।

ডিজিটাল বিশ্বে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে নিজেদের পরিচয়ের প্রতিফলন ঘটানোর ধারণাই হলো অনিমিখ। অনিমিখ হয়ে উঠবে একটি ওয়েবসাইট। সাইটটির মাধ্যমে একদিকে যেমন বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য আবার নতুন প্রাণ পাবে, অন্যদিকে তেমন বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা যাবে বলে আশাবাদী তরুণ এই দলটি।

তারুণ্যভরা দলটির স্বপ্ন, একদিন বাংলাদেশের সংস্কৃতি আকর্ষণ করবে পুরো বিশ্বকে। তরুণ কার্টুনিস্ট এবং লেখকদের আগ্রহ বৃদ্ধি ও তাঁদের সহযোগিতায় সে স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাবে ইকারাস দলটি।

ইটস ওকে
রম্বস
যেকোনো সাফল্যের পেছনে কাজ করে মানসিক সুস্থতা। এমনটাই বিশ্বাস করেন প্রথম রানারআপ দল রম্বসের সদস্যরা। দলটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানসিক সমস্যার ভুক্তভোগীদের সমাধান দেওয়ার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ধারণা উপস্থাপন করে। তাঁদের এই ধারণার নাম ‘ইটস ওকে’। সে ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মানসিক সমস্যায় থাকা মানুষদের কথা শোনা, প্রয়োজনে ওয়েবসাইটে সরাসরি যোগাযোগ করে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সাহায্য করার ধারণা দেন দলটি।

দলটিতে রয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল মাজিদ, ওয়াকিলা হুসাইন, সাফির আবদুল্লাহ ও সুপর্ণা চৌধুরী। দলটির প্রত্যাশা মানসিক বিষণ্নতা নিয়ে কারও একটি দিনও কাটবে না। ঘরে বসে যেন সবাই মানসিক সমস্যার সমাধান পায় তা নিয়ে দলটি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন আব্দুল মাজিদ। এ ছাড়া মাদকাসক্তি নিরাময়েও কাজ করার পরিকল্পনা আছে রম্বস দলটির। রানারআপ হিসেবে তারা পুরস্কার পেয়েছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার।

বাংলাওয়াশ
নেমলেস
‘মানুষ মানুষের জন্য’ কথাটি অনুপ্রাণিত করেছে নেমলেস দলটিকে। বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে উদাসীনতা দূর করতে চান তাঁরা। কাজটি তাঁরা করবেন সহানুভূতি এবং সংহতির মাধ্যমে। এ জন্য ব্যবহার করবেন ডিজিটাল সেবা। দলটিতে রয়েছেন মাশফিক ইভান আহমেদ, শাহ ইমতিয়াজ হোসাইন, রিয়াদ রাহমান এবং অভিক হাসনাইন। দলটি তাঁদের পরিকল্পনার নাম দিয়েছেন ‘বাংলাওয়াশ’।

ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জে নেমলেস দল আছে তৃতীয় স্থানে। পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছে ২ হাজার ৫০০ ডলার। কথা হয় দলটির প্রধান মাশফিক ইভান আহমেদের সঙ্গে। ‘ধারণা নয় উদ্দেশ্য, প্রচারণা নয় আন্দোলন’ স্লোগান সামনে রেখে তরুণদের মধ্যে সাহসিক ও সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশে সমসাময়িক ঘটনাগুলোতে তরুণ প্রজন্মের নীরব দর্শক ভূমিকাই বাংলাওয়াশ ধারণার জন্ম দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মাশফিক।

ডিজিটাল খিচুড়ি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে অ্যাফিনিস ল্যাবস। সহযোগী হিসেবে ছিল গুগল ও আল-জাজিরার সামাজিক মিডিয়া নেটওয়ার্ক। সহপৃষ্ঠপোষক ছিল ফেসবুক ও ইউএনডিপি।

সূত্র: প্রথম আলোfavicon59-4

Leave a Reply