‘মম-প্রেনিউর : এবার মায়েরা হবে স্বাবলম্বী’

‘মম-প্রেনিউর : এবার মায়েরা হবে স্বাবলম্বী’

  • উদ্যোক্তা ডেস্ক

সম্ভাবনাময়ী মায়েদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ‘মম-প্রেনিউর : এবার মায়েরা হবে স্বাবলম্বী’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ স্কিল ডেভলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএসডিআই)। আজ রোববার (১০ মার্চ) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৭১ মিলনায়তনে এ প্রকল্পের করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্ম অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সেলিমা আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম। ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন এটুআই প্রকল্পের পলিসি এক্সপার্ট মো. আসাদুজ্জামান, ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ড. মো. মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএসডিআইয়ের উপদেষ্টা কেএম হাসান রিপন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিমা আহমেদ বলেন, মা যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোন তাহলে সন্তানরা গর্ববোধ করে। মাকে দেখে তাদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ তৈরি হয়। এজন্য প্রতিটি মায়ের স্বাবলম্বী হওয়া উচিত বলে মনে করেন সেলিমা আহমেদ। তিনি বলেন, সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে স্কুলের গেটের সামনে শুধু শুধু বসে না থেকে ওই সময়টাকে কাজে লাগান। নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করুন এবং উদ্যোক্তা হয়ে উঠুন। এসময় তিনি মায়েদেরকে মমপ্রেনিউর প্রকল্পের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

মমপ্রেনিউরকে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ উল্লেখ করে সেলিমা আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ নারী অবহেলিত, কারণ তারা স্বাবলম্বী নন। নারী স্বাবলম্বী হলে তার মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি হয়। তখন কোনো প্রতিকূলতাই তাকে আটকাতে পারে না। মমপ্রেনিউর নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. সবুর খান বলেন, আমরা প্রায়ই দেখি যে শহরের স্কুলগুলোর সামনে মায়েরা বসে বসে খোশগল্প করছেন। তাদের এই সময়টুকু যদি দক্ষতা বিকাশে ব্যয় করা যায় তবে এই মায়েরা দেশকেই বদলে দিতে পারবেন। এই ভাবনা থেকেই মমপ্রেনিউর প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মমপ্রেনিউর মূলত মায়ের সৃজনশীল প্রতিভা বিকশিত করে উদ্যোক্তা হতে সহায়তা করবে বলে তিনি জানান।

ড. মো. সবুর খান আরো বলেন, মায়েদের পরিবর্তন হলেই সমাজ পরিবর্তিত হবে। সমাজের অর্ধেক মানুষ নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে কর্মহীন রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই মায়েদেরকে স্বাবলম্বী করা জরুরি বলে অভিমত দেন তিনি।

উল্লখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মমপ্রেনিউর প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। এরপর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো প্রকল্পটির।

বর্তমানে প্রকল্পটির আওতায় মায়েরা বেসিক অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ডিজাইন স্কিল, এডিটিং স্কিল, এন্ট্রাপ্রেনারশিপ স্কিল, সোস্যাল মিডিয়া ইউজিং স্কিল ও বেসিক সফট স্কিল কোর্সগুলো করতে পারবেন। প্রায়শই দেখা যায় অনেক মায়েরা তাদের ছেলে মেয়েদের জন্যে স্কুলের সামনে অপেক্ষা করে তাদের মুল্যবান সময় ব্যয় করে থাকে। তাদের জ্ঞান, স্বক্ষমতা, সময় এবং আগ্রহ রয়েছে কিন্তু দিক নির্দেশনার এবং পেশাগত দক্ষতার অভাবে সেই স্বক্ষমতাগুলো নিস্ক্রিয় হয়ে আছে। সেই মায়েদের সুপ্ত প্রতিভা এবং নিস্ক্রিয় স্বক্ষমতাকে জাগ্রত করতে পারলে তাদের সম্ভাবনার বিকাশ ঘটবে। ‘মম-প্রেনিউর: এবার মায়েরা হবে স্বাবলম্বী’ উদ্যোগটি সেই সকল মায়েদের জন্যে যাদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলবে।

বিস্তারিত: mom.dis.edu.bd

Leave a Reply